ধাতুবিগলনবিদ্যার সূচনা এবং তার ব্যাবহারিক প্রয়োগ সম্পকে কী জান

ধাতুবিগলনবিদ্যার সূচনা এবং তার ব্যাবহারিক প্রয়োগ সম্পকে কী জান

ধাতুবিগলনবিদ্যার সূচনা এবং তার ব্যাবহারিক প্রয়োগ সম্পকে কী জান
ধাতুবিগলনবিদ্যার সূচনা এবং তার ব্যাবহারিক প্রয়োগ সম্পকে কী জান

ভূমিকা

১৩৪০ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপে ধাতুবিগলনের পদ্ধতি ও প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হলেও, পঞ্চদশ শতক পর্যন্ত তার ব্যাবহারিক প্রয়োগ খুব সীমিত ছিল। পঞ্চদশ শতক থেকে আধুনিক রসায়নের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ব্যাবহারিক ক্ষেত্রে ধাতুবিগলনবিদ্যা অত্যন্ত কার্যকারী  ভূমিকা গ্রহণ করতে থাকে।

(1) জর্জ অ্যাগ্রিকোলার অবদান : জার্মান বিজ্ঞানী জর্জ অ্যাগ্রিকোলা তাঁর ‘De re metallica libri XII’ নামে বিখ্যাত গ্রন্থে খনি থেকে ধাতব ও খনিজ আকরিক উত্তোলন পদ্ধতি এবং আকরিক থেকে ধাতু নিষ্কাশন পদ্ধতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। তাঁর এই সংক্রান্ত আবিষ্কার প্রাচীন কাল থেকে চলে আসা ধাতু নিষ্কাশন পদ্ধতিকে আমূল বদলে দেয়। তিনি এই গ্রন্থে ধাতু গলানোর জন্য উন্নত চুল্লি তৈরি ও তার ব্যবহারের পদ্ধতিও আলোচনা করেন।

(2) রাসায়নিক প্রক্রিয়ার উদ্ভব : ধাতুবিগলনবিদ্যার উন্নতির ফলে বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়া; যেমন- জারণ, বিজারণ, পাতন ইত্যাদির উদ্ভব ঘটে এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষার জগতে যুগান্তর আসে।

(3) আকরিক ব্যবহারের সুবিধা: ধাতুবিগলনবিদ্যার অগ্রগতির ফলে, বিভিন্ন খনিজ আকরিক খনি থেকে তোলার পর ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা অনেক সহজ হয়। বিশেষ করে তামা ও দস্তার আকরিক থেকে ধাতু নিষ্কাশন ও ব্যবহারের উপযুক্ত করে তোলা বহুল প্রচলিত হয়।

(4) সংকর ধাতু তৈরি: ধাতুবিগলনবিদ্যার ব্যাপক প্রসার সংকর ধাতু তৈরিতে সহায়তা করে। রুপোর সঙ্গে পারদের সংমিশ্রণ ঘটানো সম্ভব হয়, যা পরবর্তীকালে আরও উন্নত হয়ে ‘সিলভার অ্যামালগাম’ নামক সংকর ধাতুতে পরিণত হয়।

মূল্যায়ন

ধাতুবিগলনবিদ্যা ও আধুনিক রসায়নচর্চা পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে বিজ্ঞানের ব্যাবহারিক প্রয়োগকে সম্ভব করে তুলেছিল।

আরও পড়ুন – নুন কবিতার বড় প্রশ্ন উত্তর

Leave a Comment