![]() |
| শিক্ষাবিস্তারে প্রাচ্যবাদী ও পাশ্চাত্যবাদী বিতর্ক কী? |
ভূমিকা
১৮১৩ খ্রিস্টাব্দের সনদ আইন
প্রাচ্য-পাশ্চাত্য দ্বন্দ্ব
[1] প্রাচ্যবাদী : বাংলাদেশ তথা ভারতবর্ষে সংস্কৃত, আরবি ও ফারসি শিক্ষা দীর্ঘকাল ধরে চালু ছিল। এই শিক্ষাই হল প্রাচ্যশিক্ষা। এইচ টি প্রিন্সেপ, কোলব্রুক, উইলসন প্রমুখ ছিলেন প্রাচ্যবাদীদের নেতা। তাঁদের মতে, প্রাচ্যশিক্ষাই হল প্রকৃত শিক্ষা। কারণ এ দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে এই শিক্ষা জড়িত। দেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এই শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত। এই শিক্ষার জন্য উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। তাই এই শিক্ষার উন্নতির জন্য সরকারি টাকা বরাদ্দ করা উচিত।
[2] পাশ্চাত্যবাদী: বাংলায় ইংরেজ শাসন প্রতিষ্ঠার পর কলকাতা ও মফস্সল অঞ্চলে বেসরকারি উদ্যোগে বেশ কিছু ইংরেজি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। এই স্কুলে পাস করা ছাত্ররা বাণিজ্যিক ও সরকারি চাকরি পেত। এজন্য এই ধরনের স্কুলের সংখ্যা ও ছাত্রসংখ্যা বেড়ে চলে। এই শিক্ষাই হল পাশ্চাত্য শিক্ষা। ট্রেভেলিয়ান, আলেকজান্ডার ডাফ, স্যান্ডার্স প্রমুখ ছিলেন পাশ্চাত্যবাদী নেতা। তাঁদের মতে, ইংরেজি ভাষা হল আন্তর্জাতিক ভাষা। এই ভাষায় রচিত সাহিত্য অতি সমৃদ্ধ এবং তা ছাত্রদের চাকরি পাওয়ার উপযোগী। ভবিষ্যতে এই ভাষা এদেশের আঞ্চলিক ভাষাগুলিকে সমৃদ্ধ করবে। তাই ইংরেজি শিক্ষার জন্যই সরকারি টাকা বরাদ্দ করা উচিত।
রামমোহনের স্মারকলিপি
দ্বন্দ্বের অবসান
মেকলে মিনিট: বড়োেলাট লর্ড উইলিয়ম বেন্টিঙ্ক-এর আইনসভার সদস্য স্যার থমাস ব্যাবিংটন মেকলে ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ২ ফেব্রুয়ারি ব্যঙ্গ, বিদ্রুপ ও শ্লেষ-সহ এক মন্তব্য প্রকাশ করেন, যা মেকলে মিনিট নামে পরিচিত। তিনি বলেন, ইউরোপের একটি ভালো লাইব্রেরির এক তাক বই সমগ্র প্রাচ্য সাহিত্যের থেকে মূল্যবান। তাঁর বাগ্মিতা ও যুক্তির দ্বারা বেন্টিঙ্ক প্রভাবিত হন। তিনি ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ৭ মার্চ পাশ্চাত্য শিক্ষাকে সরকারি শিক্ষানীতি হিসেবে গ্রহণ করেন। এরপর ভারতে পাশ্চাত্য শিক্ষা চালু হয়। প্রাচ্য-পাশ্চাত্য দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে। সরকারি ক্ষেত্রে ফারসি ভাষার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষার ব্যবহার চালু হয়।
