বারদৌলি সত্যাগ্রহ টীকা লেখ

বারদৌলি সত্যাগ্রহ টীকা লেখ – অসহযোগ আন্দোলনর কৃষক আন্দোলনগুলির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল গুজরাটের সুরাট জেলার অন্তর্গত বারদৌলি তালুকে কৃষকদের সত্যাগ্রহ আন্দোলন, যা বারদৌলি সত্যাগ্রহ নামে পরিচিত।
 
তো চলুন আজকের মূল বিষয় বারদৌলি সত্যাগ্রহ টীকা লেখ পড়ে নেওয়া যাক।

বারদৌলি সত্যাগ্রহ টীকা লেখ

বারদৌলি সত্যাগ্রহ টীকা লেখ
বারদৌলি সত্যাগ্রহ টীকা লেখ

বারদৌলি সত্যাগ্রহ টীকা লেখ

অসহযোগ আন্দোলনর কৃষক আন্দোলনগুলির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল গুজরাটের সুরাট জেলার অন্তর্গত বারদৌলি তালুকে কৃষকদের সত্যাগ্রহ আন্দোলন, যা বারদৌলি সত্যাগ্রহ নামে পরিচিত। স্থির ছিল যে, ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলনের সময় গান্ধীজি বারদৌলি থেকে সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু করবেন। চৌরিচৌরা ঘটনার ফলে তাঁর সেই পরিকল্পনা বাতিল হলেও বারদৌলিতে গান্ধীজির গ্রাম সংগঠনের কাজ চলতে থাকে। এই তালুকে ১৩৭টি গ্রাম ছিল এবং এর জনসংখ্যা ছিল ৮৭,০০০। এই স্থানের উজলিপরাজ’ গোষ্ঠীভুক্ত উচ্চবর্ণের বিত্তবান কৃষকেরা ‘কপিলরাজ’ গোষ্ঠীভুক্ত নিম্নবর্ণের কৃষকদের ওপর নানা ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নির্যাতন চালাত। জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ ছিল ‘কপিলরাজ’ গোষ্ঠীভুক্ত হরিজন এবং পেশায় তাদের অধিকাংশই ছিল ভূমিহীন ক্ষেতমজুর বা ভাগচাষি। স্থানীয় নেতা কল্যাণজী মেহতা ও দয়ালজী দেশাই এখানে ছ’টি আশ্রম খুলে গ্রাম সংগঠনের কাজ শুরু করেন। মদ্যপান নিবারণ, নৈশবিদ্যালয় স্থাপন, বিদেশি বস্ত্র বয়কট প্রভৃতির মাধ্যমে এখানে এক নতুন পরিবেশ গড়ে ওঠে। ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে সরকার বারদৌলি তালুকে রাজস্বের হার ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করে। জাতীয় কংগ্রেস এর প্রতিবাদ জানায়। গান্ধীজির ‘ইয়ং ইন্ডিয়া’ ও ‘নবজীবন’ পত্রিকাতেও আপত্তি ওঠে। এর ফলে সরকার রাজস্বের হার কিছুটা কমান। কিন্তু তাতেও রাজস্ব বৃদ্ধির হার ছিল ২১.৯৭ শতাংশ। ক্ষুব্ধ কৃষকদের আমন্ত্রণে আইনজীবী, সুসংগঠক, সুবক্তা ও বিশিষ্ট যুবনেতা বল্লভভাই প্যাটেল বারদৌলিতে আসেন (ফেব্রুয়ারি, ১৯২৮ খ্রিঃ)। হিন্দু-মুসলিম কৃষকরা তাঁর নেতৃত্বে গীতা ও কোরান ছুঁয়ে সরকারের খাজনা বন্ধ করার শপথ গ্রহণ করে। সরকারি অত্যাচার ও প্রলোভন উপেক্ষা করে বারদৌলিতে সংঘবদ্ধ আন্দোলন চলতে থাকে। এই আন্দোলনের দুটি বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়- (১) হিন্দু-মুসলিম ঐক্য এবং (২) মহিলা ও ছাত্রদের অংশগ্রহণ। এই সময় সম্ভ্রান্ত পার্শি মহিলা মিঠুবেন পেটিট, মনিবেন প্যাটেল (সর্দার প্যাটেলের কন্যা), সারদা মেহতা, সারদাবেন শাহ প্রমুখ মহিলারা আন্দোলনে অংশ নেন। অনেক সময় মিছিল বা মিটিং-এ মহিলাদের উপস্থিতি পুরুষদের সংখ্যাকেও ছাপিয়ে যেত। বারদৌলির মহিলারাই বল্লভভাইকে ‘সর্দার’ অভিধায় ভূষিত করেন। যাই হোক, আন্দোলনের চাপে সরকার শেষ পর্যন্ত রাজস্বের হার হ্রাস করে ৬.০৩ শতাংশ ধার্য করলে আন্দোলন প্রত্যাহৃত হয়।
আপনি আমাদের একজন মূল্যবান পাঠক। বারদৌলি সত্যাগ্রহ টীকা লেখ -এই বিষয়ে আমাদের লেখনী সম্পূর্ণ পড়ার জন্যে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না।

Leave a Comment