রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবতাবাদ সম্পর্কিত প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 12 দর্শন চতুর্থ সেমিস্টার

১। মানবতাবাদ কী? রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে বিশ্বমানবতাবাদের তাৎপর্য উল্লেখ করো।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দর্শন চিন্তার সমস্ত ক্ষেত্রে মানবিক বিশ্বাসের ছাপ লক্ষণীয়। তিনি The Religion of Man নামক গ্রন্থে মানবতাবাদ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। মানবতাবাদ হল এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি যা মানুষের মর্যাদা, মূল্যবোধ এবং স্বাধীনতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়।
মানবতাবাদের সংজ্ঞা:
রবীন্দ্রনাথের মতে মানবসমাজের সর্বাঙ্গীন বিকাশসাধনের প্রতি ব্যক্তি মানুষের যে দায়বদ্ধতা তাই হল মানবতাবাদ। মানবতাবাদের মূলকথা হল মানবতার জয়গান যা সকল মানুষকে একই সূত্রে গ্রথিত করে। মানুষের মনের ভিতর যে দয়া-মায়া, প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা প্রভৃতি মানবোচিত গুণ বা বিশিষ্টতা লক্ষ করা যায় তাকেই মনুষ্যত্ব বা মানবতা বলা হয়। এই মানবতা সম্পর্কিত যে মতবাদ তাই মানবতাবাদ।
রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিতে বিশ্বমানবতাবাদ:
রবীন্দ্রনাথ মনে করতেন যে মানুষ কেবল একটি নির্দিষ্ট জাতি বা সংস্কৃতির অংশ নয়। বরং সে বিশ্বমানবের অংশ। তাঁর মতে বিশ্বমানবতাবাদের প্রধান তাৎপর্যগুলি হল-
মানবসত্তার দুটি দিক: মানুষের মনের মধ্যেই দুইটি পৃথক সত্তা অবস্থান করে। একটি হল ব্যক্তিমানব এবং অপরটি বিশ্বমানব। অর্থাৎ মানুষের একদিকে আছে ‘জীবসত্তা’ এবং অন্যদিকে আছে ‘বিশ্বসত্তা’। মানুষ একদিকে যেমন ব্যক্তিরূপে স্বতন্ত্র এবং অন্যদিকে তেমনই বিশ্বমানবরূপে বা বিরাট পুরুষরূপে বিশ্ববাসীর সঙ্গে একাত্ম। রবীন্দ্রনাথের মতে ব্যক্তিমানব তার নিজের স্বার্থে কর্তব্য নির্ধারণ করে। এই জীবসত্তার অতিরিক্ত আরও একটি সত্তা মানুষের মনের মধ্যে অবস্থান করে যা ব্যক্তিমানুষকে অতিক্রম করে যায় এবং মানুষকে অনুপ্রেরণা দিয়ে সর্বজনীন কল্যাণের কাজে, সাহিত্যে ও শিল্পে উৎসাহিত করে। একেই রবীন্দ্রনাথ বিশ্বমানব, মহামানব, সনাতন মানব প্রভৃতি নামে চিহ্নিত করেছেন।
বিশ্বমানবের সাধনাহ মানবতাবাদের লক্ষ্য: রবীন্দ্রনাথ বলেন বৃহৎ মানুষের সাধনাই মানুষের শ্রেষ্ঠ সাধনা। বৃহৎ মানুষ বা বিশ্বমানবের উপলব্ধিতেই অসংখ্য বিচিত্র মানুষের মধ্যে ঐক্যবোধ দেখতে পাওয়া যায়। এই ঐক্যবোধে মানুষ তার দৈনন্দিন আত্মকেন্দ্রিক জীবনের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ বিসর্জন দিয়ে অপরের স্বার্থে কর্ম করে।
বিশ্বমানবের স্বরূপ: মানবতার উপলব্ধির মাধ্যমে মানুষ মনুষ্যত্বকে অর্জন করে এবং খন্ড সীমাকে ছাড়িয়ে অখণ্ড অসীমের দিকে ধাবিত হয়। সে নিজের সম্পর্কে ভাবে সোহহম্ অর্থাৎ ‘আমিই সেই’। এই ‘সেই’ হল বিশ্বমানব। ৩ এইরূপ উপলব্ধি হলেই মানুষ তার সংকীর্ণ গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বমৈত্রীর প্রাঙ্গণে পৌঁছোয় এবং বিরোধ ও দুঃখের মধ্যে দিয়ে পরম সুখকে খুঁজে পায়।
পরিশেষে বলা যায় যে বিশ্বমানবের সঙ্গে প্রেমের ও সেবার বন্ধনে মিলনই হল দেবতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতম মিলন। রবীন্দ্রনাথ মানুষের অন্তর্নিহিত মহামানবকে ঈশ্বররূপে গণ্য করে বিশ্বমানবের সেবাকেই ঈশ্বরসেবা বলেছেন।
২। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবতাবাদের বৈশিষ্ট্যগুলি লেখো।
মানবতাবাদের বৈশিষ্ট্য:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবতাবাদ মানবতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং সবার মধ্যে আত্মিক সংযোগের উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এক জীবনদর্শন। তাঁর মানবতাবাদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নে আলোচনা করা হল-
সমান মর্যাদা ও অধিকার: রবীন্দ্রনাথ তাঁর মানবতাবাদী ভাবনায় সব মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার উপর অত্যধিক গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন যে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় ও সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ থাকা উচিত নয়। তিনি সমগ্র মানবজাতিকে এক অখণ্ড সত্তা হিসেবে দেখতেন এবং তাদের কল্যাণ কামনা করতেন।
মানবাপ্রম ও সহানুভূতি: মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতি রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদের মূল ভিত্তি। তিনি মানুষের প্রতি গভীর সহানুভূতিশীল ছিলেন। তিনি তাঁর রচনায় মানবিক সম্পর্কগুলির মধ্যে আন্তরিকতা বজায় রেখেছিলেন এবং মানুষের অন্তর্নিহিত মানবমনকে সঠিকভাবে তাঁর লেখার মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন।
সৃজনশীলতা: রবীন্দ্রনাথ সামাজিক ন্যায় ও অধিকারের সমতা প্রতিষ্ঠায় যথেষ্ট তৎপরতা দেখিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে মানুষ সৃজনশীল জীব। সৃজনশীলতার মাধ্যমে মানুষ নিজেকে প্রকাশ করে এবং জগতকে আরও সুন্দর করে তোলে। তাই তিনি কর্ম ও সেবার মাধ্যমে মানবতাবাদকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার কথা বলেছেন।
আধ্যাত্মিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবতাবাদী ভাবনা আধ্যাত্মিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত ছিল। তিনি মনে করতেন মানুষের মধ্যে এক দেবত্ব আছে যা তাকে বিশ্বজগতের সঙ্গে সংযুক্ত করে।
বিশ্বমানবতা ও বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ : রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদ কেবল নিজ দেশ বা জাতি বা নির্দিষ্ট কোনো ভূ-খণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তাঁর মানবতাবাদী দর্শনভাবনা দেশ বা রাষ্ট্রের গণ্ডি পেরিয়ে সমগ্র বিশ্বব্যাপী প্রসারিত হয়েছিল।
৩। রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যক্তিমানব কীভাবে বিশ্বমানবসত্তায় উন্নীত হতে পারে তা লেখো।
অথবা,
মানবসত্তার অসীম দিকটিকে রবীন্দ্রনাথ কীভাবে ব্যাখ্যা করেছেন?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর The Religion of Man নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে মানব প্রকৃতিতে দুটি দিক পরিলক্ষিত হয়। একটি হল মানুষের সসীম বা সীমাবদ্ধতার দিক এবং অপরটি হল মানুষের অসীম দিক। তিনি মানুষের এই অসীম দিকটিকে কখনও ‘বিশ্বপ্রকৃতি’ রূপে আবার কখনও ‘মানুষের মধ্যে উদ্বৃত্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন।
মানবসত্তার অসীম দিক:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানবসত্তার অসীম দিকটিকে বিভিন্ন ধরনের ভাবনার মধ্যে দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর দৃষ্টিতে মানবজীবন একদিকে সীমাবদ্ধ হলেও অন্যদিকে অসীম ও অনন্ত। মানবসত্তার এই দিকটিতে যে বিষয়গুলি পরিলক্ষিত হয় সেগুলি হল-
প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণ: রবীন্দ্রনাথের মতে মানুষের মধ্যে অসীম সত্তা আছে বলেই মানুষ প্রকৃতির প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে। জৈবিক চাহিদার বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়। প্রকৃতি মানুষের বিরুদ্ধাচরণ করলেও সে (মানুষ) প্রকৃতিকে ভালোবাসে, তার অসীম সত্তার কারণেই।
স্বাধীনতা: রবীন্দ্রনাথের মতে মানুষের অসীম সত্তার একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল স্বাধীনতা। মানুষ তার দৈহিক গঠনের কারণে অন্যান্য প্রাণীর থেকে বেশি স্বাধীনতা উপভোগ করে।
অমরতার আকাঙ্ক্ষা: রবীন্দ্রনাথের মতে মানুষ তার অসীম সত্তার জন্যই অমরত্বের আকাঙ্ক্ষা অনুভব করে। তিনি বলেন অসীম চেতনাই মানুষকে অমরতার দিকে ধাবিত করে। আর সমগ্র জগতকে নিজের বলে মনে করতে সাহায্য করে।
উচ্চতর লক্ষ্য: রবীন্দ্রনাথের মতে মানুষের অসীম সত্তা ক্রমাগত ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে চায়, তার এই উদ্যমকে দমিয়ে রাখা যায় না। পরিণামে সে বারে বারে বিফল হয় কিন্তু তার এই বিফলতা তাকে পুনরায় উদ্যমে ব্রতী হতে সচেষ্ট করে তোলে। এই উদ্যমই তাকে উচ্চতর লক্ষ্যে পৌঁছোতে সাহায্য করে।
জীবন দেবতা: রবীন্দ্রনাথ অসীম সত্তাকে ‘জীবন দেবতা’ নামে আখ্যায়িত করেন। ‘জীবন দেবতা’ হল মানুষের অন্তঃস্থিত দেবতা, যা মানুষের ক্ষুদ্র আমি-কে অতিক্রম করে আনন্দের উপলব্ধি করায়। এই অসীম সত্তাই মানুষকে ঈশ্বর সদৃশ করে তোলে।
পরিশেষে বলা যায় রবীন্দ্রনাথের ভাবনায় পৃথিবীর সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আত্মার এক অসীম চেতনার দিকে যাত্রা করা সম্ভব। মানবসত্তার এই অসীমতা বোধ এবং আত্মপরিচয়ের ধারণা রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও দর্শনে এক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দখল করে আছে।
৪। মানবধর্ম বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের বক্তব্যকে কতকগুলি সূত্রের আকারে উপস্থাপন করো।
মানবধর্ম বিষয়ক সিদ্ধান্ত:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবধর্ম সম্পর্কিত ধারণাটি ছিল বিশ্বজনীন। মানবিক মূল্যবোধের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি মনে করতেন যে মানবতা কোনো বিশেষ জাতি বা ধর্মের সংকীর্ণ গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি সর্বজনীন, যা পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের উপর একইরকমভাবে প্রযোজ্য।
বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ: রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন যে মানবধর্ম কোনো বিশেষ জাতি বা সম্প্রদায়ের ধর্ম নয়, এটি সমগ্র মানবজাতির ধর্ম। বিশ্বমানবতার ধর্মই হল মানবধর্ম যেখানে জাতি, ধর্ম, লিঙ্গ, বর্ণ ও সংস্কৃতি নির্বিশেষে একে অপরকে সম্মান করবে ও একে অপরের মধ্যে বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করবে।
মুক্তি ও আধ্যাত্মিকতা: রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদী চিন্তাধারার মধ্যে আত্মিক মুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাঁর মতে মানুষের মূল উদ্দেশ্য হল নিজের অন্তরাত্মা ও মনকে পরিশুদ্ধ করার পাশাপাশি দৈহিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধন করা। এটি কেবলমাত্র ব্যক্তির উন্নতিই নয় সমাজের উন্নতির জন্যও অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমেই ব্যক্তি তথা সমাজের প্রকৃত মুক্তিলাভ সম্ভব।
সহানুভূতি ও ভাতৃত্ববোধ: রবীন্দ্রনাথ তাঁর মানবতাবাদী চিন্তায় পারস্পরিক সহানুভূতি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের উপর সবিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন যে মানুষের প্রতি মানুষের পারস্পরিক ভালোবাসা ও সহানুভূতির মাধ্যমেই মানবধর্ম পরিপূর্ণতা লাভ করতে পারে।
ধর্ম ও মানবিকতা: রবীন্দ্রনাথের মতে আধ্যাত্মিকতা তথা ধর্মের মূল উদ্দেশ্য হল মানুষের কল্যাণসাধন। তাই ধর্মকে বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। তিনি বিশ্বাস করতেন প্রকৃত মানবধর্ম সত্য, প্রেম, সহানুভূতি, ন্যায় ইত্যাদি মানবিক মূল্যবোধের মধ্যেই নিহিত।
জীবসত্তা থেকে মানবসত্তায় উত্তরণ: রবীন্দ্রনাথের মতে মানুষের মধ্যে দুটি সত্তা- জীবসত্তা ও বিশ্বসত্তা। জীবসত্তা হল মানুষের জৈবিক সত্তা, যা থেকে সৃষ্টি হয় জীবভাব। এটি মানুষের অহংবোধকে প্রকাশ করে। আর বিশ্বসত্তা বা মানবসত্তা হল মানুষের আধ্যাত্মিক ও নৈতিকসত্তা, যা মানুষের বিবেকবুদ্ধি মিশ্রিত। বিশ্বসত্তা থেকে উৎপত্তি হয় বিশ্বভাব, যা মানুষকে মানবতার আদর্শে চালিত করে।
ঈশ্বরের ধারণা: রবীন্দ্রনাথের মানবধর্মে ঈশ্বরের ধারণা মানুষের ধারণার সঙ্গে জড়িত। তিনি মনে করতেন ঈশ্বর মানুষের মধ্যেই বিরাজ করেন এবং মানুষের সেবা করার মাধ্যমেই ঈশ্বরের সেবা করা সম্ভব হয়। এই সেবা মানুষকে শান্তি দেয় ও বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধকে জাগ্রত করে।
বিশ্বমানবতা: রবীন্দ্রনাথের মানবধর্মের ধারণা বিশ্বমানবতার ধারণার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাঁর মতে মানুষের মধ্যে যে বিশ্বমানবের সত্তা রয়েছে, সেই সত্তাকে উপলব্ধি করাই মানবধর্মের মূল লক্ষ্য।
উপরোক্ত ধারণাগুলির পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্তিমানবকে বিশ্বমানবের স্থলে উত্তরণ করে। ফলে ব্যক্তি-মানুষ ধর্ম, কর্ম, জাতি, গোষ্ঠী প্রভৃতির প্রাচীর ভেদ করতে সচেষ্ট হয়। আর প্রেম ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভর করে বৃহত্তর সামাজিক সম্পর্ক স্থাপনে উদ্যোগী হয়।
Read More : HS 4th Semester English Question Answers