কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি কবিতার প্রশ্ন উত্তর ক্লাস নাইন | Kolingo deshe jhorbrishti kobita question answer | Class 9

Table of Contents

কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি কবিতার প্রশ্ন উত্তর ক্লাস নাইন | Kolingo deshe jhorbrishti kobita question answer | Class 9

কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি কবিতার প্রশ্ন উত্তর
কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি কবিতার প্রশ্ন উত্তর

১। কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় প্রকাশিত প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের চিত্র কতটা বাস্তবতার সঙ্গে চিত্রিত হয়েছে আলোচনা করো।
অথবা, ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় কলিঙ্গে যে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটেছিল তা কীভাবে কলিঙ্গবাসীর জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছিল বুঝিয়ে দাও। 5

প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ছবি: মুকুন্দ চক্রবর্তী রচিত চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের আখেটিক খণ্ডের অন্তর্গত ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে দেবী চন্ডী তাঁর কৃপাধন্য ব্যাধ কালকেতুর তৈরি গুজরাট নগরে বসতি প্রতিষ্ঠার জন্য কলিঙ্গদেশে প্লাবন ঘটান।

কলিঙ্গের আকাশে ঈশান কোণে মেঘ জমা হয়। ঘনঘন বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়। দূরদিগন্তে মেঘের গম্ভীর ধ্বনির সঙ্গে শুরু হয় মুশলধারায় বৃষ্টি।

বিপদের আশঙ্কায় প্রজারা ঘর ছেড়ে দ্রুত পালাতে থাকে। ঝড়ের দাপটে সবুজ শস্যখেত নষ্ট হয়ে যায়। আটটি দিকের আটটি হাতি যেন বৃষ্টিধারায় সব ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চায়। প্রবল বর্ষণে পথঘাট জলে ডুবে যায়। ঘোর অন্ধকারে দিন-রাত্রির পার্থক্য মুছে যায়। জলমগ্ন রাস্তায় সাপ ভেসে বেড়াতে থাকে। ভীত প্রজারা এই ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে নিস্তার পেতে ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে। সাত দিন ধরে অবিরাম বর্ষণের ফলে কৃষিকাজ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ঘরবাড়িও নষ্ট হয়ে যায়। ভাদ্র মাসের তালের মতো বড়ো আকারের শিল ঘরের চাল ভেদ করে পড়তে থাকে। দেবীর আদেশে সমস্ত নদনদী কলিঙ্গের দিকে ছুটে আসে। পর্বতের মতো উঁচু ঢেউয়ের আঘাতে বাড়িঘর ভেঙে পড়ে। দেবী চণ্ডীর আদেশে সৃষ্ট এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে অসহায় প্রজারা শঙ্কিত হয়ে ওঠে।

২। “চারি মেঘে জল দেয় অষ্ট গজরাজ।”-উদ্ধৃতাংশটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। 3

তাৎপর্য: কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় দেবী চণ্ডীর নির্দেশে কলিঙ্গদেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে আসে। ঘন কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায়। প্রবল মেঘগর্জনে প্রজারা চিন্তিত হয়ে পড়ে। ঝড়ের তাণ্ডবে তারা ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। সবুজ শস্যের খেত ধুলোয় ঢেকে যায়। বৃষ্টি এতটাই তীব্র হয় যে কবি মনে করেন, আটটি দিকের পাহারাদার আটটি হাতি-ঐরাবত, পুণ্ডরীক, বামন, কুমুদ, অঞ্জন, পুষ্পদন্ত, সার্বভৌম এবং সুপ্রতীক যেন তাদের শুঁড়ের সাহায্যে চারমেঘে জল দিচ্ছে। আর তার ফলেই প্রবল বৃষ্টিপাতে চারপাশ জলে ডুবে গেছে।

৩। কলিঙ্গে সোঙরে সকল লোক যে জৈমিনি।।”-জৈমিনি কে? কলিঙ্গবাসীর জৈমিনিকে স্মরণের কারণ কী? ১+২

জৈমিনির পরিচয়: ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে উল্লিখিত জৈমিনি হলেন এক বাক সিদ্ধ ঋষি। এই বাক্সিদ্ধ ঋষি পূর্ব মীমাংসাদর্শন-এর রচয়িতা। বেদের কর্মকাণ্ডের সূত্রগুলিকে সুসংবদ্ধ ও সংশোধন করা তাঁর প্রধান কৃতিত্ব।

কলিঙ্গবাসীর জৈমিনিকে স্মরণের কারণ: কলিঙ্গদেশের আকাশে হঠাৎ ঘন কালো মেঘ জমে ওঠে। আকাশভাঙা মেঘ থেকে বৃষ্টি নামে মুশলধারায়। মেঘের গম্ভীর গর্জন, ঘনঘন বজ্রপাত, ঝড়ের প্রবল তান্ডবে কলিঙ্গবাসী ভীত হয়ে পড়ে। এই ভীষণ বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার আশায় তারা ঋষি জৈমিনিকে স্মরণ করতে থাকে।

৪। “পরিচ্ছিন্ন নাহি সন্ধ্যা দিবস রজনী।”-‘পরিচ্ছিন্ন’ শব্দের অর্থ কী? কবি এরকম বলেছেন কেন? ১+২

‘পরিচ্ছিন্ন’ কথার অর্থ: কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর লেখা ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কবিতায় পাওয়া ‘পরিচ্ছিন্ন’ শব্দটির অর্থ হল ‘বিভেদ’ বা ‘পার্থক্য’।

কবির এরকম বক্তব্যের কারণ: দেবী চণ্ডীর ইচ্ছায় কলিঙ্গদেশে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। সমগ্র আকাশ মেঘে ঢেকে যায়। বিদ্যুৎ চমক আর মেঘগর্জনের সঙ্গে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়। সবুজ শস্যের খেত ধুলোয় ঢেকে যায়। প্রবল বৃষ্টিতে জল-স্থল একাকার হয়ে পথ হারিয়ে যায়। অন্ধকার এতটাই নিবিড় হয়ে যায় যে দিন এবং রাত্রিকেও কেউ আলাদা করতে পারে না।

৫। “বিপাকে ভবন ছাড়ি প্রজা দিল রড়।।”-‘রড়’ শব্দের অর্থ কী? কোথাকার প্রজারা কী কারণে বিপাকে পড়েছিল? ১+২

‘রড়’ শব্দের অর্থ: ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশ থেকে নেওয়া উদ্ধৃতাংশে উল্লিখিত ‘রড়’ শব্দের অর্থ ‘পালিয়ে যাওয়া’।

বিপাকে পড়ার কারণ: দেবী চণ্ডীর ইচ্ছা অনুযায়ী কলিঙ্গদেশে প্রবল ঝড়বৃষ্টি বিপর্যয় ডেকে আনে। আকাশ ঘন মেঘে ঢেকে যায়। ঘন অন্ধকারে প্রজাদের নিজেদের চেহারা পর্যন্ত দেখার উপায় থাকে না। প্রবল বৃষ্টির সঙ্গে মেঘের গম্ভীর গর্জন ও ঝড়ের তাণ্ডবে সেখানকার প্রজারা বিপদের আশঙ্কায় ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।

৬। “প্রলয় গণিয়া প্রজা ভাবয়ে বিষাদ।”-প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রজাদের বিষাদের কারণ আলোচনা করো। ১+২

প্রসঙ্গ: ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশ থেকে নেওয়া উদ্ধৃতিটিতে কলিঙ্গদেশের প্রজাদের কথা বলা হয়েছে।

বিষাদের কারণ: কলিঙ্গদেশের আকাশে হঠাৎ প্রচুর মেঘ জমাট বাঁধে। ঈশান কোণে জমাটবাঁধা মেঘ সারা আকাশ ঢেকে ফেললে সর্বত্র অন্ধকার নেমে আসে। উত্তরের প্রবল বাতাসে দূর থেকে মেঘের গম্ভীর আওয়াজ ভেসে আসে। মেঘের প্রবল গর্জন ও ঘনঘন বিদ্যুৎচমকের সঙ্গে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টিপাত। মহাপ্লাবনের আশঙ্কায় প্রজারা আতঙ্কিত ও বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে।

৭। “দেখিতে না পায় কেহ অঙ্গ আপনার।।”-কখন এবং কেন এরকম হয়েছিল? ১+২

প্রসঙ্গ: কবিকঙ্কণ মুকুন্দ চক্রবর্তীর আলোচ্য কবিতায় কলিঙ্গদেশে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সময়ে এই ঘটনা ঘটেছিল।

কারণ: হঠাৎই কলিঙ্গদেশে ভয়ংকর প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দেয়। আকাশ ঘন কালো মেঘে ছেয়ে যায়। ফলে সমগ্র কলিঙ্গদেশ অন্ধকারে ঢেকে যায়। কালো মেঘের বুক চিরে ঘনঘন বিদ্যুতের ঝলকানি দেখা যায়। অন্ধকার এতটাই ঘন হয়ে ওঠে যে, তা ভেদ করে প্রজাদের নিজেদের চেহারা পর্যন্ত দেখার উপায় থাকে না।

৮। না পায় দেখিতে কেহ রবির কিরণ।।”-কারা, কেন রবির কিরণ দেখতে পায়নি? ১+২

উদ্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গ: উদ্ধৃতাংশটিতে ঝড়বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত কলিঙ্গবাসীদের কথা বলা হয়েছে।

রবির কিরণ দেখতে না পাওয়ার কারণ: কলিঙ্গদেশের আকাশে হঠাৎই প্রচুর মেঘ জমাট বাঁধে। দূরদিগন্তে মেঘের গম্ভীর আওয়াজের সঙ্গে শুরু হয় মুশলধারায় বৃষ্টি। কালো মেঘে চারদিক অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ায় কলিঙ্গবাসীর পক্ষে দিনরাত্রির পার্থক্যও বোঝা সম্ভব হয় না। সাত দিন একটানা প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে তারা একেবারেই সূর্যের আলো দেখতে পায় না।

৯। “ভাদ্রপদ মাসে যেন পড়ে থাকা তাল।।” কীসের কথা বলা হয়েছে? মন্তব্যটির প্রসঙ্গ আলোচনা করো। ১+২

উদ্দিষ্ট বিষয়: কলিঙ্গদেশে প্রবল ঝড়বৃষ্টির ফলে যে শিল পড়েছিল, এখানে তার কথা বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গ: ‘কলিঙ্গদেশে ঝড়-বৃষ্টি’ কাব্যাংশে বর্ণনা করা হয়েছে যে আকাশ কালো-করা বিপুল মেঘরাশির সঙ্গে প্রবল বৃষ্টিতে বন্যা সৃষ্টি হয় কলিঙ্গে। টানা সাত দিনের একটানা বৃষ্টির সঙ্গে অনবরত শিলও পড়তে শুরু করে। ভাদ্র মাসে তাল পেকে যেমন গাছ থেকে পড়ে যায় ঠিক তেমনিভাবে অত্যন্ত বড়ো আকারের শিল ঘরের চাল ভেদ করে মেঝেতে পড়ে প্রজাদের ঘরবাড়ি সব নষ্ট করে দেয়।

আরো পড়ুন : একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার ইতিহাস সাজেশন 2025

আরো পড়ুন : একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সেমিস্টার রাষ্ট্রবিজ্ঞান সাজেশন 2025

Leave a Comment