গ্রহরূপে পৃথিবী প্রশ্ন উত্তর নবম শ্রেণি ভূগোল | Grohorupe Prithibi Question Answer Class 9 Geography

বোর্ড : বিষয়বস্তু

গ্রহরূপে পৃথিবী প্রশ্ন উত্তর নবম শ্রেণি ভূগোল | Grohorupe Prithibi Question Answer Class 9 Geography

গ্রহরূপে পৃথিবী প্রশ্ন উত্তর
গ্রহরূপে পৃথিবী প্রশ্ন উত্তর

1. পৃথিবীর গোলীয় আকারের স্বপক্ষে যুক্তি দাও। অথবা, “পৃথিবীর আকৃতি সমতল নয়, প্রায় গোলাকার।”— যুক্তি-সহ ব্যাখ্যা করো। 5

পৃথিবীর আকৃতি সংক্রান্ত যুক্তি

ষোড়শ শতাব্দীর আগে পর্যন্ত মানুষের ধারণা ছিল যে, পৃথিবী সমতল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষানিরীক্ষার মাধ্যমে মানুষের এই ধারণার পরিবর্তন ঘটে এবং প্রমাণিত হয় পৃথিবীর আকৃতি সমতল নয়, প্রায় গোলাকার। পৃথিবীর আকৃতি সংক্রান্ত যুক্তিগুলি ব্যাখ্যা করা হল-

1. অন্যান্য গ্রহের আকৃতি পর্যবেক্ষণ: শক্তিশালী দূরবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহগুলিকে প্রায় গোলাকার দেখা যায়। পৃথিবী সৌরজগতের একটি গ্রহ। তাই পৃথিবীর আকৃতিও প্রায় গোলাকার হওয়াটা স্বাভাবিক।

2. পৃথিবীর ছায়া পর্যবেক্ষণ: চন্দ্রগ্রহণের সময় চাঁদের ওপর পৃথিবীর যে ছায়া পড়ে, তা প্রায় গোলাকার হয়। যেহেতু গোলাকার বস্তুর ছায়াও গোলাকার, তাই পৃথিবীর আকৃতিও প্রায় গোলাকার।

3. সমুদ্রগামী জাহাজ পর্যবেক্ষণ: উপকূলে দাঁড়িয়ে সমুদ্রগামী কোনো জাহাজকে দেখলে, ধীরে ধীরে জাহাজের সমস্ত অংশই একসময় অদৃশ্য হয়ে যায়। পৃথিবীর আকৃতি প্রায় গোলাকার বলে এভাবে জাহাজটি ধীরে ধীরে দৃষ্টিরেখার বাইরে চলে যায়। পৃথিবী সমতল হলে জাহাজটি কখনও দৃষ্টিরেখার বাইরে চলে যেত না।

4. দিগন্ত পর্যবেক্ষণ: ভূপৃষ্ঠ ও আকাশের আপাত মিলনস্থলকে দিগন্ত বলে। দিগন্তই ভূপৃষ্ঠে আমাদের দৃষ্টির সীমারেখা। পর্বতের ওপরে বা বিমানে করে যতই ওপরের দিকে ওঠা যায় দিগন্তের পরিধি ততই বাড়তে থাকে। পৃথিবী সমতল হলে দিগন্তরেখার পরিধি উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পেত না বরং একই থাকত।

5. বেডফোর্ড খালের পরীক্ষা: 1870 সালে ব্রিটিশ বিজ্ঞানী আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস (AR Wallace) ইংল্যান্ডের স্রোতমুক্ত বেডফোর্ড খালে একটি পরীক্ষা করেন। তিনি তিনটি সমান দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও ভরসম্পন্ন কাঠের খুঁটি সমদূরত্বে একই সরলরেখায় রেখে ভেলার সাহায্যে ভাসিয়ে দেন। এবার তিনি দূরবিনের সাহায্যে লক্ষ করেন যে, প্রথম ও তৃতীয় খুঁটির তুলনায় দ্বিতীয় খুঁটিটির উচ্চতা বেশি। এই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছোন যে, পৃথিবীর আকৃতি সমতল হলে খুঁটি তিনটির শীর্ষবিন্দু একই সরলরেখায় থাকত, কিন্তু পৃথিবীর আকৃতি প্রায় গোল হওয়ায় খুঁটি তিনটির মধ্যে উচ্চতার পার্থক্য হয়েছে।

6. সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত: পৃথিবীর আকৃতি প্রায় গোলাকার হওয়ায় পশ্চিমের দেশগুলি অপেক্ষা পূর্ব দিকের দেশগুলিতে আগে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হয়। কিন্তু পৃথিবী যদি সমতল হত তাহলে সর্বত্র একই সময়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হত।

7. ম্যাগেলানের ভূপ্রদক্ষিণ: পোর্তুগিজ ভূপর্যটক ফার্দিনান্দ ম্যাগেলান ও তাঁর সহযোগীরা 1519 সালের 10 আগস্ট স্পেন থেকে ক্রমাগত পশ্চিম দিকে জাহাজ নিয়ে সমুদ্রপথে যাত্রা শুরু করেন। ও বছর পর 1522 সালের 6 সেপ্টেম্বর তাঁরা স্পেনেই ফিরে আসেন। পৃথিবী গোলাকার না হলে কোনোভাবেই তাঁরা ওই একই স্থানে ফিরে আসতে পারতেন না।

📚 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির স্টুডেন্টদের জন্য দারুণ সুযোগ!

আপনি কি কম সময়ে ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করতে চান?
পরীক্ষার আগে রিভিশন করতে সমস্যা হচ্ছে?

👉 তাহলে এখনই নিয়ে নিন আমাদের Complete PDF eBook Package

✨ এই eBook-এ যা পাচ্ছেন:
✔ সহজ ভাষায় পুরো সিলেবাস
✔ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
✔ পরীক্ষার জন্য সাজানো নোটস
✔ শর্ট টেকনিক ও সাজেশন

🎯 কার জন্য উপযোগী?
👉 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সকল ছাত্র-ছাত্রী
👉 বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যারা

💡 মোবাইলেই পড়ুন, যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায়!

🔥 মাত্র ৩৯ টাকা প্রতিটা সাবজেক্ট

৪. প্রত্যক্ষ প্রমাণ : মহাকাশ থেকে গৃহীত আলোকচিত্র: মহাকাশে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণরত বিভিন্ন কৃত্রিম উপগ্রহ এবং মহাকাশযান থেকে গৃহীত পৃথিবীর যেসব আলোকচিত্র পাওয়া গেছে, সেগুলিতে দেখা যায় পৃথিবীর আকৃতি প্রায় গোলাকার।

2. ‘পৃথিবীর আকৃতি সম্পূর্ণ গোল নয়’— এই ধারণার পক্ষে যুক্তি দাও। অথবা, পৃথিবীকে অভিগত গোলক বলা হয় কেন? পৃথিবীর এই অভিগত গোলক আকৃতির সপক্ষে প্রমাণ দাও। 2+3

পৃথিবীকে অভিগত গোলক বলার কারণ

কোনো গোলকের দুই প্রান্ত চাপা ও মধ্যভাগ স্ফীত হলে, তাকে অভিগত গোলক বলে। পৃথিবীর উত্তর মেরু ও দক্ষিণ মেরু প্রান্তদ্বয় একটু চাপা ও মধ্যভাগ অর্থাৎ নিরক্ষীয় অঞ্চল একটু স্ফীত। তাই পৃথিবীকে অভিগত গোলক বলা হয়।

পৃথিবীর অভিগত গোলক আকৃতির সপক্ষে প্রমাণসমূহ

বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর আকৃতি সম্পূর্ণ গোলাকার নয়, উপবৃত্তের মতো বা অভিগত গোলাকৃতি। এর সপক্ষে প্রমাণগুলি হল-

1. পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস ও মেরু ব্যাসের পার্থক্য: পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস 12757 কিমি এবং মেরু ব্যাস 12714 কিমি। পৃথিবী নিখুঁত গোলাকার হলে উভয় অঞ্চলের ব্যাসের পার্থক্য হত না ব্যাসের মান থেকে বোঝা যায়, মেরুদ্বয় অপেক্ষা নিরক্ষীয় অঞ্চলের পরিধি বেশি অর্থাৎ পৃথিবী অভিগত গোলক।

2. ঘড়ির সময়ের পার্থক্য: 1671 সালে জ্য রিচার নামে এক ফরাসি জ্যোতির্বিদ গিয়ানার রাজধানী কেইন দ্বীপে (5° উত্তর অক্ষাংশ) দেখতে পান, তাঁর দোলকযুক্ত ঘড়ি প্রতিদিন 2½ মিনিট করে ধীরে চলছে। অথচ ঘড়িটি প্যারিস শহরে (49° উত্তর অক্ষাংশে) ঠিকমতো সময় দিত। এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেল, দোলকযুক্ত ঘড়ির দোলনকাল নির্ভর করে সেই স্থানের মাধ্যাকর্ষণ বলের ওপর।

পরবর্তীকালে, স্যার আইজ্যাক নিউটন এই ঘটনার ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন, যেস্থান পৃথিবীর কেন্দ্রের যত কাছে সেই স্থানের ওপর মাধ্যাকর্ষণ বলের প্রভাবও তত বেশি। অর্থাৎ, নিরক্ষীয় অঞ্চলে ঘড়ির দোলনকাল বেশি এবং মেরু অঞ্চলে কম। কারণ পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে মেরু অঞ্চলের দূরত্ব নিরক্ষীয় অঞ্চল অপেক্ষা কম। এর থেকে পৃথিবীর অভিগত গোলাকৃতির প্রমাণ পাওয়া যায়।

3. পৃথিবীর আবর্তন গতি: গতিবিদ্যার নিয়ম অনুসারে, কোনো নমনীয় অক্ষ গোলাকার বস্তু তার অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘুরলে ওই বস্তুর ওপর ও নীচের অংশ কেন্দ্রমুখী বলের জন্য সংকুচিত ও মধ্যভাগ কেন্দ্রবহির্মুখী বলের প্রভাবে স্ফীত হয়। সৃষ্টির সময়ে পৃথিবী ছিল এক জ্বলন্ত গ্যাসীয় পিন্ড। তখন থেকেই পৃথিবী নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘুরে চলেছে। সূতরাং, এই আবর্তন গতির জন্য পৃথিবী অভিগত গোলাকার রূপ ধারণ করে অর্থাৎ পৃথিবীর মধ্যভাগ স্ফীত ও প্রান্তদ্বয় চাপা হয়।

4. ওজনের পার্থক্য: যে স্থান পৃথিবীর কেন্দ্রের যত কাছে অবস্থিত হবে, মাধ্যাকর্ষণ বল সেই স্থানে অবস্থিত বস্তুর ওপর তত বেশি হবে। ফলে বস্তুর ওজনও বাড়বে। তাই দেখা গেছে, কোনো বস্তুর ওজন নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলে বেশি হয় কারণ পৃথিবীর মেরু অঞ্চল চাপা হওয়ায় তা পৃথিবীর কেন্দ্রের কাছে এবং নিরক্ষীয় প্রদেশ স্ফীত হওয়ায় তা দূরে অবস্থান করে। পৃথিবী অভিগত গোলকের মতো বলেই বস্তুর ওজন সর্বত্র সমান না হয়ে মেরু অঞ্চলে বেশি এবং নিরক্ষীয় অঞ্চলে কম হয়।

5. পৃথিবীর বৃত্তচাপের দৈর্ঘ্যের পার্থক্য: রয়াল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস নামক সংস্থা কিটো বা কুইটো (0°), প্যারিস (49° উ:) এবং ল্যাপল্যান্ড (68° উ:) শহরে পৃথিবীর পরিধির একটি নির্দিষ্ট বৃত্তচাপের দৈর্ঘ্য নিখুঁতভাবে পরিমাপ করে। ওই পরীক্ষায় দেখা গেছে, কিটো শহরে বৃত্তচাপের দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম, প্যারিস শহরের বৃত্তচাপের দৈর্ঘ্য কিটো শহর থেকে বেশি এবং ল্যাপল্যান্ড শহরের বৃত্তচাপের দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি। এই পরীক্ষার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, পৃথিবীর নিরক্ষীয় অঞ্চল যেহেতু মেরু অঞ্চলের তুলনায় স্ফীত তাই নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে মেরু অঞ্চলের দিকে বৃত্তচাপের দৈর্ঘ্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে।

1. পৃথিবীতে কেন একমাত্র মানবজাতির অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়? অথবা, সৌরজগতে একাধিক গ্রহ থাকা সত্ত্বেও কেবল পৃথিবীতে মানুষ-সহ অন্যান্য জীবের বাসভূমি গড়ে উঠেছে কেন? ব্যাখ্যা দাও। অথবা, ‘পৃথিবী মানুষের আবাসস্থল।’-ব্যাখ্যা দাও। 3

পৃথিবীতে মানুষ-সহ অন্যান্য জীবের বাসভূমি গড়ে ওঠার কারণ

সৌরজগতে ছোটো-বড়ো একাধিক গ্রহ থাকলেও একমাত্র পৃথিবীতেই জীবের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। পৃথিবীতে বিভিন্ন অনুকূল পরিবেশগত কারণে মানুষ-সহ অন্যান্য প্রাণী ও উদ্ভিদ বিকাশ লাভ করেছে। পৃথিবীতে মানুষ-সহ অন্যান্য জীবের বাসভূমি গড়ে ওঠার কারণ-

1. পরিমিত উষ্ণতা: জীবের বিকাশের জন্য পরিমিত উষ্ণতা প্রয়োজন। পৃথিবীর গড় উষ্ণতা 15 °সেলসিয়াস (প্রায়)। পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশের উপযোগী উষ্ণতা থাকায় প্রাণের বিকাশ ঘটেছে। সূর্যের কাছের গ্রহগুলিতে (যেমন-বুধ ও শুক্র) খুব বেশি উষ্ণতা এবং দূরের গ্রহগুলিতে (যেমন-বৃহস্পতি, শনি প্রভৃতি) উষ্ণতা অত্যন্ত কম হওয়ায় প্রাণের বিকাশ ঘটেনি।

2. প্রয়োজনীয় জলের প্রাচুর্য: জলের অপর নাম জীবন। পৃথিবীপৃষ্ঠের প্রায় 71% জলভাগ দ্বারা আবৃত। জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় জলের প্রাচুর্য থাকায় পৃথিবীতে জীবের বিকাশ ঘটেছে। অন্য গ্রহগুলিতে (যেমন-শুক্র গ্রহে) জলের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

3. অক্সিজেন: প্রাণীদের শ্বসনক্রিয়ার জন্য অক্সিজেন (০₂) একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসীয় উপাদান। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে এর পরিমাণ 20.94% (প্রায়), যা জীবনধারণের অনুকূল। কিন্তু অন্য কোনো গ্রহে এর পরিমাণ সীমিত বলে প্রাণের অস্তিত্ব নেই।

4. খাদ্যের জোগান: খাদ্য তৈরির প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন- সৌরশক্তি, জল, বিভিন্ন গ্যাসীয় উপাদান (C, O, N), খনিজ পদার্থ (Fe, Cu) পৃথিবীতে নির্দিষ্ট মাত্রায় পাওয়া যায়। সবুজ উদ্ভিদ ওই উপাদানগুলির সাহায্যে খাদ্য তৈরি করে। তাই বলা যায়, এই উপাদানগুলি সমগ্র জীবজগতের খাদ্যের জোগান সুনিশ্চিত করে।

5. পর্যাপ্ত সূর্যালোক: সূর্যালোক ছাড়া জীবের বিকাশ সম্ভব নয়। সূর্যালোকের মাধ্যমে যে সৌরশক্তি পৃথিবীতে আসে তা সমস্ত জীবের প্রাণধারণের উৎস। এই পর্যাপ্ত সূর্যালোকের উপস্থিতিতেই সবুজ উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করে থাকে।

6. অন্যান্য অবস্থা: বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন গ্যাসের আনুপাতিক পরিমাণ, আবহমণ্ডলীয় ঘটনা (যেমন-মেঘ, বৃষ্টিপাত, বায়ুপ্রবাহ), পর্যায়ক্রমে দিন ও রাত্রির সংঘটন, ঋতুপরিবর্তন, শিলামণ্ডল ও মৃত্তিকার উপস্থিতি প্রভৃতি বিষয়গুলি সম্মিলিতভাবে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব রক্ষায় সহায়ক হয়েছে।

ওপরের আলোচনা থেকে সহজেই বোঝা যায়, পৃথিবীই সৌরজগতের একমাত্র গ্রহ, যেখানে অনুকূল পরিবেশের জন্য প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে।

2. GPS-এর ব্যবহার লেখো। 3

GPS-এর ব্যবহারগুলি হল-

1. শহর পরিকল্পনায়: শহরাঞ্চলের বিভিন্ন পরিকল্পনার কাজে (town) Planning) এটি ব্যবহৃত হয়।

2. ভূপৃষ্ঠের আকৃতি নির্ণয়ে: ভূপৃষ্ঠের প্রকৃত আকৃতি নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।

3. দূরত্ব নির্ণয়ে: ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানের মধ্যে দূরত্ব ও বন্ধুরতা নির্ণয়ে এই যন্ত্রের ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

4. প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়: আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিশেষত যুদ্ধকালীন ও বিপন্ন পরিস্থিতিতে GPS ব্যবহৃত হয়।

5. অবস্থান নির্ণয়ে: অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমার সাহায্যে ভূপৃষ্ঠে যে-কোনো বস্তুর অবস্থান নির্ণয়ে GPS ব্যবহার করা যায়।

6. আবহাওয়া মানচিত্র প্রস্তুতিতে: আবহাওয়া-সংক্রান্ত তথ্যসংগ্রহ করে কম্পিউটারের সাহায্যে আবহাওয়া মানচিত্র প্রস্তুতিতে GPS-এর উল্লেখযোগ্য ব্যবহার আছে।

7. উদ্ধারকার্যে: জাহাজ ও বিমান কোনো দুর্ঘটনার সম্মুখীন হলে তার সন্ধান ও উদ্ধারকার্যে এই যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।

৪. পরিবহণ ব্যবস্থায়: পরিবহণ ব্যবস্থায় বিশেষত পথনির্দেশ, যানবাহন চলাচল ইত্যাদি ক্ষেত্রে GPS খুবই কার্যকরী।

9. জরিপকার্যে ও মানচিত্র তৈরিতে: GPS ব্যবস্থার সাহায্যে সঠিক অবস্থান নির্ণয়ের মাধ্যমে নির্ভুল জরিপকার্য ও যথাযথ মানচিত্র তৈরি করা যায়।

3. পৃথিবী এক স্বকীয় গ্রহ কীভাবে প্রমাণ করবে? অথবা, সৌরজগতে পৃথিবীর স্বকীয় অবস্থান বলতে কী বোঝ? 3

সৌরজগতে পৃথিবীর স্বকীয় অবস্থান: সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহগুলির মধ্যে পৃথিবীর অবস্থানের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যা পৃথিবীকে এক অনন্য গ্রহে পরিণত করেছে। যেমন-① সূর্য থেকে দূরত্ব অনুসারে পৃথিবী সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহ এবং আকৃতির বিচারে পঞ্চম বৃহত্তম গ্রহ। ② আর অন্তঃস্থ গ্রহগুলির মধ্যে আকৃতিতে পৃথিবী সবচেয়ে বড়ো। ③ সূর্য থেকে পৃথিবী এমন এক দূরত্বে অবস্থিত যে এখানকার গড় তাপমাত্রা হয়েছে 15° সেলসিয়াস, যা প্রাণ সৃষ্টি এবং জীবনধারণের অনুকূল। ④ পৃথিবীর আবর্তন ও পরিক্রমণ গতি এবং এর মেরুরেখার কক্ষতলের সঙ্গে 66½° কোণে হেলে অবস্থানের জন্যই ভূপৃষ্ঠের সর্বত্র তাপমাত্রার সমতা বজায় থাকে। পৃথিবীর অবস্থানে এই স্বাতন্ত্র্য তথা স্বকীয়তার জন্যই সৌরজগতের একমাত্র গ্রহ পৃথিবীতে সৃষ্টি হয়েছে জীবমণ্ডল এবং মানুষের আবির্ভাব ঘটেছে।

[প্রশ্নমান ২]

1. দিগন্তরেখা বলতে কী বোঝ? 

সমুদ্রের ধারে বা কোনো ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে চারিদিকে তাকালে মনে হয় আকাশ ও ভূমি যেন একটি বৃত্তরেখায় মিশেছে। এই বৃত্তরেখাকে দিগন্তরেখা বলে। ভূপৃষ্ঠ থেকে যত ওপরে ওঠা যায় দিগন্তরেখার পরিধিও তত বাড়ে।

2. পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস ও মেরু ব্যাস সমান নয় কেন? 

পৃথিবীর নিরক্ষীয় ব্যাস ও মেরু ব্যাস সমান না হওয়ার কারণ: পৃথিবীর আবর্তনের বেগ নিরক্ষীয় অঞ্চলে সর্বাধিক হওয়ার জন্য কেন্দ্রবহির্মুখী শক্তির প্রভাবে নিরক্ষীয় প্রদেশটি বেশি স্ফীত (নিরক্ষীয় ব্যাস 12757 কিমি) হয়। মেরু প্রদেশে এই বেগ সবচেয়ে কম হওয়ায় সেখানে অধিক কেন্দ্রমুখী শক্তির কারণে দুই মেরুপ্রদেশ চাপা (মেরু ব্যাস 12714 কিমি) হয়েছে।

3. জিওয়েড’ (Geoid) কী?

গ্রিক শব্দ ‘Geoeides’ থেকে জিওয়েড (Geoid) শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে। ‘Geo’ শব্দের অর্থ পৃথিবী এবং ‘Oeides’ শব্দের অর্থ মতো বা সদৃশ। সুতরাং, জিওয়েড (Geoid) শব্দের অর্থ হল পৃথিবীর মতো। পৃথিবীর আকৃতির সঙ্গে অন্য কোনো বস্তুর আকৃতির কোনো মিল না থাকায় পৃথিবী তার নিজের আকৃতির সঙ্গেই একমাত্র তুলনীয়। তাই এই আকৃতিকে ‘জিওয়েড’ (Geoid) বলে।

4. ‘জিওডেসি’ কী?

‘জিওডেসি’ (Geodesy) হল বিজ্ঞানের এমন একটি শাখা, যেখানে সমীক্ষা ও গণনার সাহায্যে পৃথিবীর আকৃতি (shape) ও আকার (size) পরিমাপ করার নানান বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।

5. অন্তঃস্থ গ্রহ কোনগুলি?

অন্তঃস্থ গ্রহ: বুধ, শুক্র, পৃথিবী এবং মঙ্গল-এই চারটি গ্রহ সূর্যের নিকটবর্তী এবং আকার-আয়তনেও ছোটো, এজন্য এই গ্রহগুলিকে অন্তঃস্থ গ্রহ বলা হয়।

6. বহিস্থ গ্রহ কোনগুলি?

বহিস্থ গ্রহ: বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস এবং নেপচুন-সৌরজগতে এই চারটি গ্রহ সূর্য থেকে অনেক দূরে বা বাইরের দিকে অবস্থান করায় এদের বহিস্থ গ্রহ বলা হয়। এই গ্রহগুলি আকারে বড়ো এবং এদের উপগ্রহের সংখ্যাও অনেক।

7. বামন গ্রহ কী?

ধারণা: বামন গ্রহ কথার অর্থ খর্বাকৃতি বা ছোটো আকারের গ্রহ। সৌরজগতে এমন কিছু গ্রহ আছে, যারা নির্দিষ্ট কক্ষপথে সূর্যের চারপাশে প্রদক্ষিণ করলেও আকারে এত ছোটো যে তাদের কক্ষপথের সন্নিহিত অঞ্চল থেকে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্রাকার মহাজাগতিক বস্তুকে সরিয়ে দিতে পারে না। এরাই হল বামন গ্রহ। উদাহরণ: প্লুটো, সেরেস, এরিস প্রভৃতি।

8. পৃথিবীকে নীল গ্রহ বলে কেন?

পৃথিবীকে নীল গ্রহ বলার কারণ: পৃথিবীর বেশিরভাগ অংশই সমুদ্রবেষ্টিত, তাই মহাকাশ থেকে পৃথিবীকে নীল দেখায়। সেইজন্য পৃথিবীকে নীল গ্রহ বলে।

9. মঙ্গলের কয়টি উপগ্রহ ও কী কী?

মঙ্গলের উপগ্রহ: মঙ্গলের দুটি উপগ্রহ হল-① ফোবোস ও ② ডাইমোস।

10. ছায়াপথ বা Galaxy কাকে বলে?

সংজ্ঞা: মহাকাশে কোটি কোটি নক্ষত্র, মেঘপুঞ্জের সমাবেশে গঠিত উজ্জ্বল আলোক বলয়কে ছায়াপথ বলে। বেশিরভাগ ছায়াপথগুলিই দেখতে প্যাঁচানো আকৃতির। উদাহরণ: আমাদের সৌরজগৎ এরূপ একটি ছায়াপথ ‘আকাশগঙ্গা’ (Milky way)-র অন্তর্গত।

11. GPS কী?

ধারণা: GPS এর পুরোকথাটি হল Global Positoning System। পৃথিবী প্রদক্ষিণরত কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের যে-কোনো স্থানের অবস্থান নির্ণয়ের পদ্ধতিকে সংক্ষেপে বলে GPS।

বৈশিষ্ট্য: সাধারণত যে-কোনো আবহাওয়াতে GPS-এর মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয় করা যায় এবং এই অবস্থানের মধ্যে থাকে স্থানটির ① অক্ষাংশ, ② দ্রাঘিমাংশ, ও উচ্চতা এবং ④ সময়। [ GPS-এর মাধ্যমে অবস্থান নির্ণয় অত্যন্ত সহজ ও নিখুঁত বলে বর্তমানে গাড়ি, জাহাজ, বিমান, ল্যাপটপ, মোবাইল এমনকি হাতঘড়িতেও GPS-এর গ্রাহক যন্ত্র বা রিসিভার থাকে এবং এজন্য এর ব্যবহারও ব্যাপক।]

আরো পড়ুন : নবম শ্রেণি সাজেশন ২০২৬

📚 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির স্টুডেন্টদের জন্য দারুণ সুযোগ!

আপনি কি কম সময়ে ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করতে চান?
পরীক্ষার আগে রিভিশন করতে সমস্যা হচ্ছে?

👉 তাহলে এখনই নিয়ে নিন আমাদের Complete PDF eBook Package

✨ এই eBook-এ যা পাচ্ছেন:
✔ সহজ ভাষায় পুরো সিলেবাস
✔ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
✔ পরীক্ষার জন্য সাজানো নোটস
✔ শর্ট টেকনিক ও সাজেশন

🎯 কার জন্য উপযোগী?
👉 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সকল ছাত্র-ছাত্রী
👉 বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যারা

💡 মোবাইলেই পড়ুন, যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায়!

🔥 মাত্র ৩৯ টাকা প্রতিটা সাবজেক্ট

আরও পড়ুন প্রয়োজনে
নবম শ্রেণি ভূগোল সাজেশন ২০২৬ | Class Nine Geography Suggestion 2026 Click here
Madhyamik Geography Suggestion 2025-2026 (Exclusive Suggestion) Click here
পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক উন্নতিতে কলকাতা বন্দরের গুরুত্ব লেখো Click here
কলকাতা বন্দরের ক্রম-অবনতির কারণগুলি লেখো Click here

Leave a Comment