ঔপনিবেশিক শিক্ষা ধারণার সমালোচনা

ঔপনিবেশিক শিক্ষা ধারণার সমালোচনা
ঔপনিবেশিক শিক্ষা ধারণার সমালোচনা

সূচনা

ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতে যে শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলিত ছিল তা ছিল নৈরাজ্যবাদী, নেতিবাচক, হৃদয়হীন, মনুষ্যত্বনাশক ও জাতীয়তা বিরোধী। এ শিক্ষাধারার সঙ্গে শিক্ষার্থীর জীবন ও পারিপার্শ্বিকতার কোনো সম্পর্ক ছিল না। সমকালীন শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এভাবেই ভারতে প্রচলিত ব্রিটিশ শিক্ষা নীতির সমালোচনা করেছেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথও এই শিক্ষানীতির নির্মম সমালোচক ছিলেন।

প্রাণহীন ও যান্ত্রিক শিক্ষা

  • তাঁর মতে তৎকালীন ভারতে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে শিক্ষার্থীর কোনো প্রাণের যোগ ছিল না। তিনি লিখছেন যে, “ছেলেদের ভালোলাগা মন্দ লাগা বলিয়া খুব একটা মস্ত জিনিস আছে। বিদ্যালয় হইতে সে চিন্তা একেবারে নিঃশেষে নির্বাসিত।” শিক্ষার্থীর ভালোলাগা-মন্দলাগা নয়- কোনোক্রমে তাদের পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়াই ছিল শিক্ষার লক্ষ। বাল্যজীবনে স্কুল সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের অভিজ্ঞতা খুব একটা মধুর ছিল না। তাই পরবর্তীকালে তিনি লেখেন যে, ছেলেদের মানুষ করে তোলার জন্য যে যন্ত্র তৈরি হয়েছে, তার নাম ‘ইস্কুল’ এবং সেটার মধ্য দিয়ে মানবশিক্ষার সম্পূর্ণতা হতে পারে না। রবীন্দ্রনাথ এই যান্ত্রিক শিক্ষা থেকে মুক্তি চেয়েছিলেন।
  • তাঁর মতে ভারতে প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে দেশের নাড়ীর কোনো যোগ নেই-এ দিয়ে দেশের কোনো উপকার হয় না। এ জন্য তাঁর বক্তব্য দেশবাসীকেই দেশের শিক্ষার ভার গ্রহণ করতে হবে। তিনি লিখছেন যে, “আমাদের সমাজ যদি বিদ্যাদানের ভার নিজে না গ্রহণ করেন, তবে একদিন ঠকিতেই হইবে। (বিদেশি) গভর্মেন্ট এদেশে অনুকূল শিক্ষা কখনও দিতে পারেন না।” দেশের অধিকাংশ লোককে নিরক্ষর করে রেখে দেশের সামান্য অংশের জন্য যে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল তা তিনি মানতে পারেননি। তাঁর মতে এটা ছিল ‘একটা প্রকান্ড ছাঁচে ঢালা’ ব্যাপার। দেশের সব শিক্ষারীতিকে এক ছাঁচে শক্ত করে জমিয়ে দেওয়া হবে। এটাই সরকারের একমাত্র চেষ্টা। দেশবাসীর বুদ্ধিবৃত্তির ওপর সম্পূর্ণ একাধিপত্য প্রতিষ্ঠিত করাই সরকারের লক্ষ। সুতরাং এর ফলে শিক্ষাব্যবস্থা ‘কেরানিগিরির কল’ হয়ে উঠেছে-এর মধ্যে প্রাণের কোনো সাড়া নেই। মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ এখানে হয় না।
  • তাঁর মতে, এই শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়তাবিরোধী। তাঁর মতে, এখানে যা শেখানো হয়, তার মাধ্যমে “পড়াপাখি, বুলিপড়া পাখির গতানুগতিক দল সৃষ্টি করি। তারা হয় বিদেশের বুলি মুখস্থ করা খাঁচার পাখি।” রবীন্দ্রনাথ এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার বিরোধিতা করে সম্পূর্ণ নিজস্ব একটি শিক্ষাদর্শনের পরিকল্পনা করেছেন।

📚 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির স্টুডেন্টদের জন্য দারুণ সুযোগ!

আপনি কি কম সময়ে ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করতে চান?
পরীক্ষার আগে রিভিশন করতে সমস্যা হচ্ছে?

👉 তাহলে এখনই নিয়ে নিন আমাদের Complete PDF eBook Package

✨ এই eBook-এ যা পাচ্ছেন:
✔ সহজ ভাষায় পুরো সিলেবাস
✔ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
✔ পরীক্ষার জন্য সাজানো নোটস
✔ শর্ট টেকনিক ও সাজেশন

🎯 কার জন্য উপযোগী?
👉 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সকল ছাত্র-ছাত্রী
👉 বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যারা

💡 মোবাইলেই পড়ুন, যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায়!

🔥 মাত্র ২৯ টাকায় প্রতিটা সাবজেক্ট

আরও পড়ুন প্রয়োজনে
বিপ্লবী আদর্শ নেপোলিয়নীয় সাম্রাজ্য ও জাতীয়তাবাদ প্রশ্ন উত্তর ক্লাস নাইন ইতিহাস | Class 9 History 2nd Chapter Question Answer Click here
নবম শ্রেণি ইতিহাস সাজেশন ২০২৬ | Class 9 History Suggestion 2026 Click here
দশম শ্রেণি ইতিহাস প্রথম অধ্যায় ইতিহাসের ধারণা প্রশ্ন উত্তর | Class 10 History First Chapter Question Answer Click here
Madhyamik History Suggestion 2025-2026 Click here

Leave a Comment