![]() |
| বায়ুর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপগুলির বর্ণনা দাও। |
বায়ুর অবনমন কার্যের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ–
অপসারণ সৃষ্ট গর্ত (Deflation Hollow)
উদাহরণ: মিশরের কাতারা (প্রায় 440 ফুট গভীর) পৃথিবীর বৃহত্তম অপসারণ সুষ্ট গর্ত (আয়তন 3200 বর্গকিমি)।
মরূদ্যান (Oasis)
উদাহরণ- সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এরূপ একটি মরূদ্যানে অবস্থিত। সাহারা মরুভূমির কুফরা, টুয়াট, বাহারিয়া প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য মরুদ্যান।
বায়ুর অবঘর্ষ ক্ষয়ের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ-
গৌর (Gour)
উৎপত্তি: ভূপৃষ্ঠ থেকে সাধারণত। মিটারের মধ্যে বায়ুতে অধিক পরিমাণে বালিকণা থাকে। তাই বায়ুর প্রবাহপথে থাকা বড়ো শিলাখণ্ডের ওপরের অংশের তুলনায় নীচের অংশ বেশি ক্ষয় হয় এবং গৌর সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া যদি কোনো শিলাখণ্ডের নীচে কোমল শিলা ও ওপরে কঠিন শিলা থাকে তাহলে অসম ক্ষয়কার্যের ফলে গৌর গড়ে ওঠে।
বৈশিষ্ট্য: (১) এগুলি দেখতে ব্যাঙের ছাতার মতো হয় বলে এদের Mushroom Rock-ও বলে। (ⅱ) এদের উপরের প্রশস্ত অংশ অমসুন এবং নীচের সরু অংশ মসৃণ হয়। (ⅲ) এরা মরুভূমির মাঝে অবশিষ্ট টিলার মতো দাঁড়িয়ে থাকে।
📚 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির স্টুডেন্টদের জন্য দারুণ সুযোগ!
আপনি কি কম সময়ে ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করতে চান?
পরীক্ষার আগে রিভিশন করতে সমস্যা হচ্ছে?
👉 তাহলে এখনই নিয়ে নিন আমাদের Complete PDF eBook Package
✨ এই eBook-এ যা পাচ্ছেন:
✔ সহজ ভাষায় পুরো সিলেবাস
✔ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
✔ পরীক্ষার জন্য সাজানো নোটস
✔ শর্ট টেকনিক ও সাজেশন
🎯 কার জন্য উপযোগী?
👉 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সকল ছাত্র-ছাত্রী
👉 বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যারা
💡 মোবাইলেই পড়ুন, যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায়!
🔥 মাত্র ২৫ টাকা প্রতিটা সাবজেক্ট
ইয়ার্দাং (Yardang)
উৎপত্তি: মধু অঞ্চলে বায়ুর প্রবাহপথে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর পর্যায়ক্রমে উল্লম্বভাবে অবস্থান করলে অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় কোমল শিলা দ্রুত ক্ষয় হয়ে খাতে পরিণত হয় এবং কঠিন শিলা কম ক্ষয় হয়ে দীর্ঘ আল বা প্রাচীরের আকার নেয়। এই বিশেষ ধরনের ভূমিরূপকে বিজ্ঞানী ব্ল্যাকওয়েল্ডার ইয়াদাও নামকরণ করেন।
বৈশিষ্ট্য: (১) এদের গড় উচ্চতা ৪ মিটার, প্রশ্ন 8-40 মিটার এবং বিস্তার 70-400 মিটার পর্যন্ত হতে পারে। (৪) ইয়াদান্ডের মাথাগুলি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ছুঁচোলো হলে তাকে ‘নিডিল’ বলা হয়। (ii) ইয়াদাও গঠনের জন্য শিলাস্তরগুলিকে অবশ্যই ব্যয়ুপ্রবাহের সমান্তরালে বিন্যস্ত থাকা চাই। (iv) ইয়াদাতকে মোরগের ঝুঁটির ন্যায় দেখতে হয় বলে একে Cock’s comb Ridge বলে।
পরিলক্ষিত অঞ্চল: চিলির আটাকামা ও সৌদি আরবের মরুভূমিতে ইয়াদাও বেশি দেখা যায়। সাহারা মরুভূমির তিবেস্তিতে সবচেয়ে বড়ো ইয়াদাও দেখা যায়।
জিউগেন (Zeugen)
উৎপত্তি: মবু অঞ্চলে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর ক্রমান্বয়ে সমান্তরালে অবস্থান করলে যান্ত্রিক আবহবিকারের দ্বারা ওপরের কঠিন শিলায় দারণ বা ফাটলের সৃষ্টি হয়। এই দারণের মধ্য দিয়ে বায়ু নীচের কোমল শিলাস্তরকে ক্ষয় করে খাতের সৃষ্টি করে। কিন্তু কঠিন শিলা কম ক্ষয় হওয়ায় সমতল চূড়ারূপে অবস্থান করে। এইভাবে কঠিন শিলায় চওড়া ও কোমল শিলায় সরু যে ভূমিরূপ গড়ে ওঠে, তা জিউগেন নামে পরিচিত।
বৈশিষ্ট্য: (i) এরা 3 – 30 মিটার পর্যন্ত উচ্চ হয়। (ii) এদের উপরিভাগ বা মস্তকদেশ চ্যাপটা ও সমতল হয়। (iii) এদের দেখতে ছোটো ছোটো ছাতার মতো।
পরিলক্ষিত অঞ্চল : আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সোনেরান ও দক্ষিণ আফ্রিকার কালাহারি মরুভূমিতে জিউগেন বেশি দেখা যায়।
ইনসেলবার্জ (Inselberg)
উৎপত্তি: জার্মান শব্দ ‘Inselberg’-এর অর্থ ‘দ্বীপশৈল’। মরুভূমিতে অবস্থিত কঠিন শিলায় গঠিত উচ্চভূমিগুলি বায়ুর অবঘর্ষ প্রক্রিয়ায় ক্ষয় পেয়ে খাড়াই পার্শ্বদেশবিশিষ্ট, সমতল বা সামান্য গোলাকৃতি শিখরদেশযুক্ত উচ্চভূমিতে পরিণত হয়। বিস্তীর্ণ মরুভূমির মধ্যে দ্বীপের মতো জেগে থাকা এই উচ্চভূমিগুলিকে ভূ-বিজ্ঞানী পাসার্জ (Passarge) নাম দেন ইনসেলবার্জ।
বৈশিষ্ট্য : (i) এগুলি সাধারণত গ্রানাইট, নিস্ কিংবা কংগ্লোমারেট শিলায় গঠিত হয়। (ii) একসঙ্গে অবস্থিত বড়ো বড়ো ইনসেলবার্জকে কোপিস (Koppies) বলে। (iii) এগুলি সাধারণত 30-300 মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট হয়। (iv) ইনসেলবার্জ আরও ক্ষয় পেয়ে গোলাকার মাথাবিশিষ্ট ঢিবিতে পরিণত হলে একে ‘বর্নহার্ট’ (Bornhardt) বলে।
পরিলক্ষিত অঞ্চল: কালাহারি ও অস্ট্রেলীয় মরুভূমিতে এটি বেশি দেখা যায়। এছাড়া ভারতের মধ্যপ্রদেশের পাঁচমারি প্রদেশেও ইনসেলবার্জ দেখতে পাওয়া যায়।
