কে বাঁচায়, কে বাঁচে গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো

'কে বাঁচায়, কে বাঁচে' গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো
‘কে বাঁচায়, কে বাঁচে’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়ের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কে বাঁচায়, কে বাঁচে!’ গল্পে মৃত্যুঞ্জয়কে কেন্দ্র করে ঘটনার বিকাশ ঘটেছে, তাই মৃত্যুঞ্জয়ের চরিত্রের বিভিন্ন দিকগুলি প্রকটভাবে প্রকাশ পেয়েছে। মৃত্যুঞ্জয় চরিত্রের যে বৈশিষ্ট্যগুলি পাঠকের চোখে ধরা পড়েছে, সেগুলি হল-

মধ্যবিত্ত বাঙালি : এ গল্পের নায়ক মৃত্যুঞ্জয় মধ্যবিত্ত চাকুরিজীবী। দৈনন্দিন জীবনের বাঁধাধরা জীবনযাত্রার বাইরে সমাজে বা কর্মস্থলে তার ভূমিকা প্রায় ছিল না বললেই চলে।

ঐতিহ্য-আদর্শের কল্পনা-তাপস : গতানুগতিক জীবনযাত্রার মধ্যেও মৃত্যুঞ্জয়ের নিজের কিছু ভাবনা ছিল। সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য বিষয়ে তার নিজস্ব কিছু বিশ্বাস ছিল, এই বিশ্বাস ভাবপ্রবণ-আদর্শবাদের মতো নয় বরং অনেক বেশি মজবুত।

সংবেদনশীল: অফিস যাওয়ার পথে রাস্তায় অনাহারে মৃত্যু দেখে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়। মৃত্যুঞ্জয় এতটাই সংবেদনশীল যে তার মনের যন্ত্রণা শরীরের উপর প্রভাব ফেলে। অনাহারে মৃত্যুর ঘটনা তাকে সমস্যার গভীর পর্যন্ত ভাবায়।

সহমর্মী: মৃত্যুঞ্জয়ের মর্মবেদনা দিনে দিনে এত গাঢ় হয় যে অফিস, সংসার সবকিছু উপেক্ষা করে সে কেবলই অভুক্ত মানুষের কল্যাণের কথাই ভাবতে থাকে। সংসারনির্বাহের চিন্তা না করে মাসের পুরো মাইনেটা নিখিলের হাতে তুলে দেয় কোনো রিলিফ ফান্ডে দেওয়ার জন্য। শুধু তাই নয়, নিজে একবেলা না খেয়ে সেই খাবার অভুক্তদের মধ্যে বিলিয়ে দেয়। অভুক্ত মানুষদের দুঃখযন্ত্রণা জানার জন্য সে ফুটপাথে বা লঙ্গরখানায় ঘোরে।

দায়িত্বজ্ঞানহীন : মৃত্যুঞ্জয় রাস্তার নিরন্ন মানুষগুলোর উপকার করার নেশায় মেতে উঠেছিল কিন্তু স্ত্রী-পুত্র-কন্যা কিংবা পরিবারের অন্য সদস্যদের কথা ভাবেনি। সংসার খরচের টাকা রিলিফ ফান্ডে দেওয়ার পর কীভাবে সংসার চলবে সে-কথা তো ভাবেইনি উপরন্তু কাউকে কিছু না বলে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়ে স্ত্রী ও অন্যদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে।

বাস্তব জ্ঞানহীন: মৃত্যুঞ্জয় অভুক্ত মানুষদের সেবা করার জন্য নিজে না খেয়ে যেভাবে খাবার বিলিয়ে দিত তা একপ্রকার আত্মহনন। নিখিলের মতে- “ওটা পাশবিক স্বার্থপরতা।” অফিস ও সংসার ত্যাগ করে যেভাবে অভুক্ত মানুষদের সহমর্মী হওয়ার চেষ্টা করেছে তাতে জনসেবা যেমন হয়নি তেমনি পরিবারও চরম দুর্দশাগ্রস্ত হয়েছে।

মহত্তম মানবতাবোধ: শোষিত শ্রেণির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার জন্য মৃত্যুঞ্জয় নির্দ্বিধায় সাধারণ মধ্যবিত্ত মানসিকতা ঝেড়ে ফেলে সর্বহারাদের স্তরে ভিক্ষাপাত্র হাতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, মৃত্যুঞ্জয় যেন রবীন্দ্রনাথের সেই ভাবনার অনুসরণ করেছে- “ছোটোর উপকার করতে গেলে বড়ো হলে চলবে না, ছোটো অথবা সমান হতে হবে।” তাই চরম সোশিয়ালিস্টিক ভাবনাজাত মানবতাবোধ মৃত্যুঞ্জয় চরিত্রকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে।

আরও পড়ুন প্রয়োজনে
আফ্রিকা কবিতার প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 10 | Afrika Kobitar Question Answer Click here
আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 10 | AAy Aro Bedhe Bedhe Thaki Kobitar Question Answer Click here
অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 10 | Osukhi Ekjon Kobitar Question Answer Click here
নদীর বিদ্রোহ গল্পের প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 10 | Nodir Bidroho Golper Question Answer Click here

Leave a Comment

ফ্রিতে মক টেস্ট দিতে এখানে ক্লিক করুন