পরিবেশ সুরক্ষায় ছাত্রসমাজের ভূমিকা রচনা

পরিবেশ সুরক্ষায় ছাত্রসমাজের ভূমিকা রচনা
পরিবেশ সুরক্ষায় ছাত্রসমাজের ভূমিকা রচনা
“শ্যামল সুন্দর সৌম্য, অরণ্যভূমি
মানবের পুরাতন বাসগৃহ তুমি;
তুমি দাও ছায়াখানি, দাও ফুল ফল
দাও বস্ত্র, দাও শয্যা, দাও স্বাধীনতা
নিশিদিন মর্মরিয়া বহু কত কথা
অজানা ভাষার মন্ত্র;”

ভূমিকা

মহাবিশ্বে মাটি, জল, বাতাস, অরণ্য, পাহাড়, পর্বত ইত্যাদি ছড়িয়ে রয়েছে। এগুলি নিয়েই পার্থিব পরিবেশ। এই পার্থিব পরিবেশের প্রভাবে আমাদের জীবনধারা প্রভাবিত হয়েছে। মানুষ গড়ে তুলেছে তার নতুন সভ্যতা, নিজের পরিবেশ। মানুষের এই যে পরিবেশ তাই সভ্যতার প্রকৃত স্বরূপ। জীবনকে সুখী ও সুন্দর করার জন্য ছড়িয়ে থাকা উপকরণকে মানুষ আয়ত্ত করতে শিখেছে। এই আয়ত্ত করা সম্ভব হয়েছে বুদ্ধি, পরিশ্রম ও দক্ষতাকে মূলধন করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সহায়তায়। কিন্তু এইভাবে পরিবর্তিত হতে হতেই বর্তমানের পরিবেশ হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। মানুষের চারপাশে মাটি, জল, বাতাস এমনই দূষিত হয়েছে যে বিশ্ববাসী আজ সচেতন হয়ে সেই পরিবেশদূষণ প্রতিকারে উদ্যোগী হয়ে উঠতে বাধ্য হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদেরকেও পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে দেখা যাচ্ছে।

পরিবেশদূষণের কারণ

মানুষের চারপাশের পরিবেশ বিভিন্ন কারণে দূষিত হয়ে পড়েছে। এই কারণগুলিকে মোটামুটি দুটি ভাগে ভাগ করা যায়- (১) প্রাকৃতিক কারণ এবং (২) কৃত্রিম কারণ। দুশো বছর ধরে পৃথিবীর জনসংখ্যায় প্রবল বিস্ফোরণ ঘটেছে। এই জনসংখ্যাবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশ হয়েছে ভীষণভাবে দূষিত। প্রাকৃতিক কারণের মধ্যে উল্লেখ করা যেতে পারে ধূলিঝড়, বালিঝড়, দাবাগ্নি, অগ্ন্যুৎপাত প্রভৃতি। এ ছাড়া প্রাকৃতিক দূষণের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যায় পরিবেশে পারদ, সালফার ডাইঅক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড ইত্যাদির অনুমোদনযোগ্য মাত্রার অতিক্রমণ। এর মধ্যে আবার কতকগুলি বিভিন্ন প্রাণীর মল, মূত্র ও শরীরের পচন থেকে উৎপন্ন হয়। অন্যদিকে পরিবেশদূষণের কৃত্রিম কারণগুলি মানুষেরই সৃষ্টি। যেমন-কীটনাশক ওষুধ প্রয়োগ, কলকারখানার ধোঁয়া, নদীনালাতে পরিত্যক্ত বর্জ্য পদার্থ, আবর্জনা ফেলা, মহাশূন্যে রকেট উৎক্ষেপণ ইত্যাদি। তাই সামগ্রিকভাবে পরিবেশদূষণের কারণ হিসেবে বায়ুদূষণ, জলদূষণ ও শব্দদূষণ তিনটিরই প্রভাবকে খোঁজার চেষ্টা করতে হবে ছাত্রছাত্রীদের।

বায়ু বিভিন্নভাবে দূষিত হয়ে চলেছে। যেমন-ঝুল জাতীয় কার্বনকণা থেকে শুরু করে ভারী ধাতু, জটিল যৌগ, তেল, কয়লা ইত্যাদি পোড়ানোর ফলে বাতাসে CO₂ ছড়াচ্ছে। এই বায়ুদূষণের ফলে মানুষের মাথাধরা, শ্বাসকষ্ট, ক্যানসার প্রভৃতি রোগ হচ্ছে।

আজ সমুদ্র, নদনদী, খালবিল, পুকুর প্রভৃতির জল নানাভাবে হচ্ছে দূষিত। অসংখ্য কলকারখানা থেকে আগত বিষাক্ত নোংরা বর্জ্য পদার্থ পুকুর ও নদীর জলকে দূষিত করছে। জলদূষণের ফলে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ মানবদেহে ছড়িয়ে মানুষের অপমৃত্যুর কারণ হয়ে উঠেছে।

এ ছাড়া মাইক, মোটরগাড়ি, কলকারখানা, পটকা প্রভৃতির বিকট শব্দ নানাভাবে শব্দদূষণ ঘটানোর ফলে মানুষ শ্রবণশক্তি হারিয়ে ফেলছে, এমনকি বেড়ে যাচ্ছে রক্তচাপ ও মানসিক অস্থিরতা।

পরিবেশরক্ষা

পরিবেশরক্ষা কেবলমাত্র সরকারি উদ্যোগে সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সমাজের, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের একটা বৃহৎ দায়িত্ব রয়েছে। নবীন বয়সে উদ্যম মানুষের অপরিসীম। তাই পরিবেশরক্ষায় তারাই সর্বাগ্রে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। এক্ষেত্রে ছাত্রছাত্রীদের পরিকল্পিত কর্মসূচি গ্রহণ করা উচিত। গ্রামে-গ্রামে, পাড়ায়-পাড়ায়, পরিবেশ সচেতনতা সম্পর্কে শিবির তৈরি করে এবং গ্রীষ্মের বা পুজোর ছুটির মতো দীর্ঘকালীন ছুটিতে ছাত্ররা দলবেঁধে বিভিন্ন অঞ্চলে সেমিনার বা আলোচনাচক্র করে নাগরিককে পরিবেশদূষণের সমস্যা সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে পারে। এতে পরিবেশ সচেতনতার সঙ্গে সঙ্গে ভ্রমণের আনন্দও পাওয়া যায়, গ্রামবাসী বা শহরবাসীদের সঙ্গে পরিচয়ে অভিজ্ঞতা বাড়ে, সেই সঙ্গে পালিত হয় মানবিকতার ব্রত। আসলে পরিবেশদূষণ প্রতিকারের দায়িত্ব গোটা সমাজের হলেও সেই দায়িত্ব মূলত ছাত্রছাত্রীদের নিতে হবে। ছাত্রদের এই কর্মসূচিতে যোগদান করা উচিত শিক্ষকদেরও। অবশ্য পরিকল্পনা আরও বাস্তবসম্মত হতে পারে যদি পরিবেশ দপ্তরকে এই কর্মসূচিতে

উপসংহার

মানুষের সামনে খোলা আছে দুটি পথ- সুস্থ-অন্তর্ভুক্ত করা যায়। সবলভাবে জীবন অতিবাহিত করা অথবা পরিবেশদূষণের শিকার হয়ে রোগজ্বালায় ভুগতে ভুগতে মৃত্যুবরণ করা। পরিবেশদূষণ তাকে ক্রম-অবলুপ্তির দিকে নিয়ে যেতে পারে। হিরোসিমা-নাগাসাকির বিস্ফোরণ থেকে মানুষ যদি শিক্ষা না নেয় তাহলে মানুষের ধ্বংস অনিবার্য। এই বিস্ফোরণ শুধু এক মুহূর্তে অনেক মানুষের মৃত্যুই ঘটায়নি, প্রজন্মের পর প্রজন্মকে পঙ্গু বা অচল করে দিয়েছে। তাই পরিবেশরক্ষায় মানুষ তথা বৃহত্তর ছাত্রসমাজকে অঙ্গীকারবদ্ধ হতে হবে-

“চলে যাব তবু আজ যতক্ষণ দেহে

আছে প্রাণ

প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে

📚 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির স্টুডেন্টদের জন্য দারুণ সুযোগ!

আপনি কি কম সময়ে ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করতে চান?
পরীক্ষার আগে রিভিশন করতে সমস্যা হচ্ছে?

👉 তাহলে এখনই নিয়ে নিন আমাদের Complete PDF eBook Package

✨ এই eBook-এ যা পাচ্ছেন:
✔ সহজ ভাষায় পুরো সিলেবাস
✔ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
✔ পরীক্ষার জন্য সাজানো নোটস
✔ শর্ট টেকনিক ও সাজেশন

🎯 কার জন্য উপযোগী?
👉 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সকল ছাত্র-ছাত্রী
👉 বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যারা

💡 মোবাইলেই পড়ুন, যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায়!

🔥 মাত্র ২৫ টাকা প্রতিটা সাবজেক্ট

যাব আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।”

আরও পড়ুন প্রয়োজনে
জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর | ক্লাস 10 | Gyancokkhu Golper Question Answer Click here
Dharma Kobita Class 12 MCQ PDF | ধর্ম কবিতা প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় MCQ প্রশ্ন উত্তর PDF (HS 3rd Semester Exclusive Answer) Click here
Adorini Class 12 MCQ PDF | আদরিণী গল্প প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় MCQ প্রশ্ন উত্তর PDF (HS 3rd Semester Exclusive Answer) Click here
ধর্ম কবিতার MCQ প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 12 | Dharma Kobitar MCQ Click here

Leave a Comment

ফ্রিতে মক টেস্ট দিতে এখানে ক্লিক করুন