আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 10 | AAy Aro Bedhe Bedhe Thaki Kobitar Question Answer

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো। প্রশ্নমান–১
১.১ ‘আমরা ভিখারি’
(ক) সারামাস
(খ) আটমাস
(গ) দশমাস
(ঘ) বারোমাস
উত্তরঃ (ঘ) বারোমাস
১.২ ‘হয়তো গেছে মরে’—এখানে কার কথা বলা হয়েছে?
(ক) ইতিহাসের
(খ) শিশুদের
(গ) মানুষের
(ঘ) পৃথিবীর
উত্তরঃ (ঘ) পৃথিবীর
১.৩ কবি হাতে হাত রাখতে চাইছেন, কারণ
(ক) হাত শক্ত হবে
(খ) প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে
(গ) যদি হারিয়ে যায়, সে কারণে
(ঘ) বন্ধুত্ব গড়ে উঠবে
উত্তরঃ (খ) প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে
১.৪ “আমাদের চোখমুখ ঢাকা”—‘চোখমুখ ঢাকা’ বলতে বোঝায়
(ক) মুখোশাবৃত
(খ) সময়াবৃত
(গ) অলংকারাবৃত
(ঘ) সমাজাবৃত
উত্তরঃ (খ) সময়াবৃত
১.৫ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় কোন্ বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছে?
(ক) বিপন্ন অস্তিত্ব
(খ) মনুষ্যত্ব
(গ) শূন্যতা
(ঘ) প্রাপ্তি
উত্তরঃ (ক) বিপন্ন অস্তিত্ব
১.৬ ‘আমাদের ডান পাশে’
(ক) পাথর
(খ) ধস
(গ) বাঁধ
(ঘ) বোমারু বিমান
উত্তরঃ (খ) ধস
১.৭ “ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে”—কাছে দূরে কী ছড়ানো রয়েছে?
(ক) কাটা গাছপালা
(খ) শিশুদের শব
(গ) গিরিখাত
(ঘ) হিমানী
উত্তরঃ (খ) শিশুদের শব
১.৮ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটি কোন্ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত?
(ক) নিহিত পাতাল ছায়া
(খ) পাঁজরে দাড়ের শব্দ
(গ) দিনগুলি রাতগুলি
(ঘ) জলই পাষাণ হয়ে আছে
উত্তরঃ (ঘ) জলই পাষাণ হয়ে আছে
📚 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির স্টুডেন্টদের জন্য দারুণ সুযোগ!
আপনি কি কম সময়ে ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করতে চান?
পরীক্ষার আগে রিভিশন করতে সমস্যা হচ্ছে?
👉 তাহলে এখনই নিয়ে নিন আমাদের Complete PDF eBook Package
✨ এই eBook-এ যা পাচ্ছেন:
✔ সহজ ভাষায় পুরো সিলেবাস
✔ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
✔ পরীক্ষার জন্য সাজানো নোটস
✔ শর্ট টেকনিক ও সাজেশন
🎯 কার জন্য উপযোগী?
👉 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সকল ছাত্র-ছাত্রী
👉 বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যারা
💡 মোবাইলেই পড়ুন, যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায়!
🔥 মাত্র ২৫ টাকা প্রতিটা সাবজেক্ট
১.৯ “আমাদের পথ নেই আর”—‘পথ’ শব্দটি কবিতায় ব্যবহৃত হয়েছে
(ক) দু-বার
(খ) একবার
(গ) তিন বার
(ঘ) চার বার
উত্তরঃ (ক) দু-বার
১.১০ আমাদের চোখমুখ ঢাকা পড়েছে
(ক) ইতিহাসে
(খ) ভূগোলে
(গ) জামাকাপড়ে
(ঘ) ধ্বংসস্তূপে
উত্তরঃ (ক) ইতিহাসে
১.১১ গিরিখাত রয়েছে
(ক) আমাদের উত্তরে
(খ) আমাদের বাঁয়ে
(গ) আমাদের দক্ষিণে
(ঘ) আমাদের ডানপাশে
উত্তরঃ (খ) আমাদের বাঁয়ে
কমবেশি ২০টি শব্দে প্রশ্নগুলির উত্তর দাও। প্রশ্নমান–১
২.১ “আমরা ভিখারি বারোমাস”—‘বারোমাস’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তরঃ ‘বারোমাস’ বলতে সারাজীবনের কথা তথা প্রজন্মের পর প্রজন্মের কথা বোঝানো হয়েছে।
২.২ “আমাদের পথ নেই আর”—‘পথ’ শব্দটি এখানে কোন্ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তরঃ প্রশ্নোক্ত অংশে ‘পথ’ শব্দটি বেঁচে থাকার উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
২.৩ “আয় আরো হাতে হাত রেখে”—উদ্ধৃতিটির অন্তর্নিহিত অর্থ লেখো।
উত্তরঃ আলোচ্য উদ্ধৃতিটির দ্বারা কবি সমস্ত শ্রমজীবী সাধারণ মানুষকে একজোট হয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
২.৪ “তবু তো কজন আছি বাকি”—তাদের করণীয় কী?
উত্তরঃ যারা বেঁচে আছে তাদের করণীয় মানবশৃঙ্খল রচনা করে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
২.৫ “ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে”—কাছে দূরে কী ছড়ানো রয়েছে?
উত্তরঃ শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় কাছে দূরে শিশুদের মৃতদেহ ছড়ানো রয়েছে।
২.৬ “আমরা ফিরেছি দোরে দোরে।” —কেন এ কথা বলা হয়েছে?
উত্তরঃ নিরাশ্রয়, সর্বহারা সাধারণ মানুষ শান্তি, সুস্থিতির আশায় ঘুরে বেড়িয়েছে সারা পৃথিবীতে। কিন্তু কোথাও আশ্রয় বা ভালোবাসা পায়নি। তাই তাদের পথ পরিক্রমাও থামেনি।
২.৭ “আমরাও তবে এইভাবে/এ–মুহূর্তে মরে যাব না কি?”—এমন সংশয়ের কারণ কী?
উত্তরঃ মানুষের স্বপ্নিল জগৎ তার শিশু। শিশুর মৃত্যু মানে স্বপ্ন দেখার মৃত্যু। তাই যুদ্ধের তাণ্ডবে ভবিষ্যতের স্বপ্ন শিশুর মৃত্যু দেখে কবির নিজেরও বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে এমন সংশয় দেখা দিয়েছে।
২.৮ “আমাদের ইতিহাস নেই”—এ কথা কেন বলা হয়েছে?
উত্তরঃ ইতিহাস রাজা-মহারাজাদের সংগ্রামের কাহিনিতে মুখর। সেখানে সাধারণ মানুষের জায়গা নেই। তাই সাধারণ মানুষের ইতিহাস নেই।
২.৯ “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি”—কবি এমন আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কেন?
উত্তরঃ সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধবাজ শক্তিকে প্রতিহত করার জন্যই বেঁধে বেঁধে থাকতে, অর্থাৎ এক্যবদ্ধ হতে কবি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
২.১০ “আমাদের পথ নেই আর”—‘পথ’ শব্দটি এখানে কোন্ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তরঃ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় ‘পথ’ শব্দটি উপায় অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
আরো পড়ুন : অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর
২.১১ “আমাদের চোখমুখ ঢাকা”—কেন?
উত্তরঃ ইতিহাসে সাধারণ মানুষের জায়গা নেই। সেখানে তারা ব্রাত্য। পুথিগত ও প্রথাগত ইতিহাস শুধু রাজরাজড়াদের জয়গানে মুখর। তাই সেখানে সাধারণ মানুষের চোখমুখ ঢাকা।
প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কমবেশি ৬০টি শব্দে উত্তর দাও। প্রশ্নমান–৩
৩.১ “এ–মুহূর্তে মরে যাব না কি?”—কাদের, কেন এই আশঙ্কা?
আশঙ্কাকারী: ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় শঙ্খ ঘোষ সাধারণ মানুষের আশঙ্কার কথা বলেছেন।
আশঙ্কার কারণ: “War is organised murder and nothing else.” যুদ্ধ মানে নরমেধ যজ্ঞ। যুদ্ধ মানে ধ্বংস, সম্পদহানি, প্রাণ নিয়ে টানাটানি। যুদ্ধবাজ শাসকশক্তির আগ্রাসনে সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত, বিপন্ন, উদ্বাস্তু। তাদের চারদিকে বিপদ। পদে পদে মৃত্যুর হাতছানি। শিশুরাও রেহাই পায় না এই চরম ধ্বংস থেকে। মারা যায় কাতারে কাতারে। তাই মৃত্যুভয় নিয়ে সংশয় জেগেছে হৃদয় কোণে।
৩.২ “আমাদের ইতিহাস নেই”—কে, কেন এ কথা বলেছেন?
বক্তা: মানবতাবাদী কবি শঙ্খ ঘোষ তাঁর ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে একাত্ম হয়ে উদ্ধৃত মন্তব্যটি করেছেন।
এ কথা বলার কারণ: সাধারণ মানুষের কথা ইতিহাসে নেই। কারণ, প্রথাগত ইতিহাস হল ধর্মের ধ্বজাধারী ক্ষমতালোভী রাজা, নবাব কিংবা রাজনীতিকদের আখ্যান। এজন্যই রবীন্দ্রনাথ বলেছেন ইতিহাসে যেন সাধারণ মানুষ নেই, কেবল যারা মারামারি, খুনোখুনি করেছে তারাই আছে। বিকৃত আরোপিত এই ইতিহাস নিছক শিশুপাঠ্য কাহিনি। এখানে চিনের প্রাচীর কিংবা মিশরের পিরামিড তৈরি করেছেন রাজা কিংবা ফ্যারাওরা। সাধারণ মানুষের মাথার ঘাম পায়ে ফেলা শ্রম সেখানে উপেক্ষিত। সাধারণ মানুষেরা বুর্জোয়াদের তোষণকারী ইতিহাসের পাতায় ব্রাত্য।
৩.৩ ‘আমরা ভিখারি বারোমাস’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
তাৎপর্য: ‘আমরা’ বলতে যুদ্ধবিধ্বস্ত নিরাশ্রয় সাধারণ মানুষদের কথা বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষেরা চিরকাল ভিখারি। তাদের ইতিহাস নেই। অথচ তারাই মানবসভ্যতার ধারক ও বাহক, তারা ‘সভ্যতার পিলসুজ’। সভ্যতারূপ প্রদীপকে মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তাই উপরের সবাই আলো পায়। অথচ এদের গা দিয়ে তেল গড়িয়ে পড়ে। এদের শ্রমের বিনিময়ে মানবসভ্যতা এগোয় না। প্রতিদানে এরা পায় অনাহার, অশিক্ষা, আশ্রয়হীনতা, নিদারুণ নিপীড়ন। খাবার, পোশাক আর মাথা গোঁজার একটু আশ্রয়ের আশায় এরা ঘুরে বেড়ায় পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে আর-এক প্রান্তে। তাই কবি এই সর্বহারা সাধারণ মানুষদের ‘ভিখারি’ বলেছেন।
৩.৪ “আমাদের পথ নেই কোনো”—‘পথ’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? এমন আশঙ্কার কারণ কী?
পথ: ‘পথ’ শব্দের সাধারণ অর্থ রাস্তা বা সড়ক। তবে এখানে শব্দটি ‘উপায়’ অর্থে প্রযুক্ত হয়েছে।
পথ না থাকার আশঙ্কার কারণ: “হিংসায় উন্মত্ত পৃথিবী; নিত্য নিঠুর দ্বন্দ্ব”—সাধারণ মানুষের জীবন আজ দুর্বিষহ। যুদ্ধবাজ শাসকশক্তির লোলুপ আগ্রাসনে নিরপরাধ, নিরীহ সাধারণ মানুষদের নাভিশ্বাস উঠেছে। তাদের ডানদিকে ধস, বাঁয়ে গিরিখাত, মাথায় বোমারু বিমান বাহিনীর আক্রমণ, পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ। চতুর্দিকে বিপদের মুখোমুখি হয়ে সাধারণ মানুষ আজ হতভম্ব, দিগ্ভ্রান্ত। তাই তাদের পথ বা উপায় নেই।
৩.৫ “আমাদের শিশুদের শব/ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে!”—এ কথার অর্থ কী?
অর্থ: “আমরা যাই নি যুদ্ধে/পাই নি কি বারুদের ঘ্রাণ?” আধুনিক যুগে যুদ্ধ সেনায় সেনায় কিংবা রণাঙ্গনে হয় না। এখন যুদ্ধ হয় চোরাগোপ্তা। যুদ্ধবাজ জনবসতির ওপর হঠাৎ নেমে আসে বোমা কিংবা মিসাইলের আঘাত। মারা যায় নিরীহ মানুষ। শিশুরা, অর্থাৎ ভাবী প্রজন্মও রেহাই পায় না যুদ্ধের এই বীভৎসতা থেকে। কুঁড়ি ফুল হয়ে ফুটে ওঠার আগেই ঝরে যায়। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হারিয়ে যায় যুদ্ধবাজ রাজনীতিকদের লোলুপ আগ্রাসনে। দেশে-বিদেশে কাছে-দূরে যখনই যুদ্ধ হয়, মারা যায় এই নিষ্পাপ শিশুরা। তাদের দৃষ্টি এড়ায়নি।
৩.৬ “কিছুই কোথাও যদি নেই/তবু তো কজন আছি বাকি”—কিছু না থাকার কারণ কী? এই মন্তব্যের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
কিছু না থাকার কারণ: কবি শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় উল্লিখিত খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের জীবন অভাব আর বঞ্চনার জীবন। তার ওপর তারা সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসন, হিংসা ও হানাহানিতে জীবন ও জীবিকা থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তাই তাদের কিছুই নেই।
তাৎপর্য: অস্থির সময়ে দাঁড়িয়ে কবি প্রত্যক্ষ করেছেন পৃথিবী জুড়ে শুধুই ধ্বংসের আয়োজন, চারদিকে মৃত্যুর হাতছানি। তবু আশাবাদী কবি মনে করেন এই যুদ্ধ-ধ্বংসই সভ্যতার শেষ কথা হতে পারে না। শত শূন্যতার মাঝেও সমাজে এখনও শুভ বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ আছে। তারাই হাজারো বেদনা বুকে নিয়ে হাতে হাত রেখে অশুভকে রুখে দিয়ে নিয়ে আসবে শান্ত সোনালি সকাল।
কমবেশি ১৫০ শব্দে প্রশ্নের উত্তর দাও। প্রশ্নমান–৫
৪.১ “আমরাও তবে এইভাবে/এ–মুহূর্তে মরে যাব না কি?”—এমনটা মনে হচ্ছে কেন?
এমনটা মনে হওয়ার কারণ: “It is the waste land/It is the cactus land”—যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবীকে এমনই বন্ধ্যা জমি, পোড়োজমি মনে হয়েছিল টি. এস. এলিয়টের। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসন ডেকে এনেছে একের পর এক যুদ্ধ। সাধারণ মানুষ হয়েছে উদ্ব্যস্ত এবং উদ্বাস্তু। ডাইনে ধস, বাঁয়ে গিরিখাত, মাথার ওপর বোমারু বিমানের পাহারা আর পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ সাধারণ মানুষকে করেছে উদ্ভ্রান্ত। চোখের সামনে শিশুরা পরিণত হচ্ছে শবে। কুঁড়ি ঝরে যাচ্ছে ফুল হয়ে ফুটে ওঠার আশেই। ভাবী প্রজন্মের এই হারিয়ে যাওয়া সাধারণ নির্বিবাদী মানুষকে করেছে ভীত, সন্ত্রস্ত। নিজেদের অস্তিত্ব সম্পর্কেই তারা সন্দিহান হয়ে উঠেছে।
“মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে”—এ কামনা তো আম-নাগরিকের। কিন্তু গোটা পৃথিবী জুড়ে যুদ্ধবাজ রাজনীতির ‘বুড়ো খোকা’-দের দাপাদাপিতে সাধারণ মানুষের ‘মানবের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই’ বাসনাটুকুও অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে। তাদের মনে আশঙ্কা জাগছে—এখন তো বেঁচে আছি, পরমুহূর্তে পৃথিবীর আলো দেখতে পাব তো? তাই প্রতিমুহূর্তে কণ্টকিত মানুষের মনে এই মৃত্যু আশঙ্কা জেগেছে।
৪.২ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় কবি যুদ্ধের যে বীভৎস রূপ তুলে ধরেছেন তা আলোচনা করো।
যুদ্ধের বীভৎস রূপ: শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতাটির প্রেক্ষাপটে আছে যুদ্ধের বীভৎস ছবি। যুগে যুগে যখনই মানুষ যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছে, তখনই মানবতা হয়েছে ভুলুণ্ঠিত। মানুষকে বাঁচতে হলে তাকে একজোট হতে হবে।
যুদ্ধ মানুষকে করেছে অসহায়। পৃথিবী জুড়ে Havenots-রা বিপদের মুখোমুখি। সারা বিশ্বজুড়ে চলছে পররাষ্ট্র লোলুপ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসন। তাদের ডানদিকে ধস, বাঁ দিকে গিরিখাত। মাথার ওপর বোমারু বিমানের পাহারা। তাদের যাওয়ার পথ নেই। তারা ছিন্নমূল, নীড়হীন।
যুদ্ধ কেড়ে নিয়েছে সাধারণ মানুষের শেষ আশ্রয়। মেরে ফেলেছে শিশুদের। অহরহ মৃত্যু তাদের ডাকছে ইশারায়। তারা কি মরে যাবে? হারিয়ে যাবে পৃথিবী থেকে? সাধারণ মানুষকে অস্তিত্বের সংকটের মুখোমুখি করে তুলেছে যুদ্ধ।
সাম্রাজ্যবাদী শাসকশক্তি পররাজ্য লালসায় যুদ্ধ বাধায় সারা পৃথিবী জুড়ে। সাধারণ মানুষ হয় উদ্বাস্তু ও উদ্বাস্ত। তাদের মাথার ওপরের ছাদ উড়ে যায় বোমারু বিমান বাহিনীর আঘাতে। ভাবী প্রজন্মের মৃত্যুদেহ ছড়িয়ে থাকে কাছে দূরে। তাদের মৃত্যুদেহের ওপর হিমানীর বাঁধ তাদের ঠেলে দেয় মৃত্যুর মুখোমুখি। যুদ্ধ তাদের যে পরিস্থিতির মাঝখানে ফেলে দেয় তা যেন—
“হেঁটেয় কাঁটা উপরে কাঁটা
এই কি দীর্ঘ জীবনযাপন?”
৪.৩ “আমাদের চোখমুখ ঢাকা/আমরা ভিখারি বারোমাস”—কার লেখা, কোন্ কবিতার অংশ? ‘চোখমুখ ঢাকা’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন? তারা নিজেদের সর্বদা ভিখারি বলে মনে করেছে কেন? ১+২+২
রচয়িতা ও রচনা: শঙ্খ ঘোষের লেখা ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার অংশ।
‘চোখমুখ ঢাকা’–র অর্থ: প্রথাগত আর পুথিগত ইতিহাস তো রাজরাজড়াদের স্তবগানেই মুখর। ইতিহাস পড়ুয়াদের শেখানো হয় তাজমহল নির্মাণ করেন শাহজাহান, চিনের প্রাচীর তৈরি করেন কিং, হান, সুই, জিং রাজারা। পিরামিড মানেই ইতিহাসে ফ্যারাওদের কীর্তিকলাপের ঢালাও বিজ্ঞাপন। শ্রমিক সাধারণ মানুষদের অবদান সেখানে কানাকড়ি মাত্র। তাই সেখানে Havenots-দের ‘চোখমুখ ঢাকা’।
ভিখারি মনে করার কারণ: “সবচেয়ে ভালো খেতে গরিবের রস্ত”—পৃথিবী জুড়ে ধনপতি পালদের অভাব নেই। Havenots-দের শোষণ করেই এদের প্রসার ও প্রসার। অন্যদিকে যারা ‘সভ্যতার পিলসুজ’ মাথায় প্রদীপ নিয়ে খাড়া দাঁড়িয়ে থাকে, তারা সারাজীবন ধরে শুধু দিয়েই যায়। পায় না কিছুই। সভ্যতার রথচক্রে পিষ্ট হওয়াই এদের নিয়তি। এদের কর্ম আর ঘর্মে সভ্যতার রথ এগিয়ে যায়। বিনিময়ে এরা পায় অশিক্ষা, অনাহার, আশ্রয়হীনতা। এরা ঘুরে বেড়ায় পৃথিবীর যত্রতত্র। তাই তারা নিজেদের ভিখারি ভেবেছে।
৪.৪ “আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি”—‘বেঁধে বেঁধে থাকা’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন এবং কাদের এভাবে থাকতে বলেছেন? কবি বেঁধে বেঁধে থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন কেন? ২+১+২
‘বেঁধে বেঁধে’ থাকার অর্থ: ‘বেঁধে বেঁধে’ থাকার অর্থ একজোট হয়ে থাকা বা ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকা।
যাদের ‘বেঁধে বেঁধে’ থাকতে বলা হয়েছে: ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় কবি শঙ্খ ঘোষ সাধারণ মানুষকে বেঁধে বেঁধে থাকার কথা বলেছেন।
বেঁধে বেঁধে থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়ার কারণ: হেলেন কেলার বলেছেন—“Alone we can do so little; together we can do so much.” তাই জোট বাঁধতে হবে। ঐক্যবোধে উদ্বুদ্ধ হতে হবে। সাম্রাজ্যবাদী শাসকশক্তির লালসা পৃথিবীকে করেছে ভীত, সন্ত্রস্ত। তাদের প্রেরিত বোমারু বিমান বাহিনীর আক্রমণ সাধারণ মানুষকে করেছে আশ্রয়হীন। অভিমন্যুর মতো অবস্থা আজ তাদের।
এই ব্যুহ কেটে বেরোতে গেলে চাই সম্মিলিত প্রতিরোধ। হাতে হাত রেখে তৈরি করতে হবে মানববন্ধন। Strength of unity-তে আস্থা রাখতে হবে মানুষকে। এক ফোঁটা বৃষ্টি তৃষ্ণা মেটাতে পারে না কারওর, কিন্তু কোটি কোটি বৃষ্টির ফোঁটা ভরিয়ে তোলে জলাশয়। ‘United we stand, divide we fall’। অসংখ্য মানুষের একতার বাঁধ আটকে দিতে পারে সাম্রাজ্যবাদী শাসকের আগ্রাসন। একসূত্রে গ্রথিত হয়ে সাধারণ মানুষ একদিন ঘটিয়েছিল বাস্তিল দুর্গের পতন, বাংলাদেশকে করেছিল স্বাধীন, আমেরিকায় কালো চামড়ার মানুষের দাবিকে করেছিল প্রতিষ্ঠিত। তাই নিজেদের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার জন্য, পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তোলার জন্য আরও বেঁধে বেঁধে থাকতে হবে সাধারণ মানুষকে।
৪.৫ ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় কবি স্বপ্ন দেখা ও স্বপ্নভঙ্গের যে প্রতিচ্ছবি এঁকেছেন তা নিজের ভাষায় লেখো।
স্বপ্ন দেখা ও স্বপ্নভঙ্গের প্রতিচ্ছবি: মানবতার সংকটের পটভূমিকায় লেখা শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় শঙ্খ ঘোষ রচনা করেছেন সাধারণ মানুষের স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের সংহিতা।
স্বপ্ন দেখা: Point of no return-এর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তাহলে সাধারণ মানুষ কি হারিয়ে যাবে? তাদের এক হতে হবে। গড়ে তুলতে হবে প্রতিরোধ। হাতে হাত রেখে তৈরি করতে হবে মানবশৃঙ্খল। জোটবদ্ধ হয়ে বিরুদ্ধ শক্তির মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে। বলে উঠতে হবে—
“আমি ভয় করব না ভয় করব না।
দুবেলা মরার আগে মরব না ভাই, মরব না।”
স্বপ্নভঙ্গ: সাধারণ মানুষের সামনে সমূহ বিপদ। তাদের ‘চলইতে শঙ্কিল পঙ্কিল বাট’। তাদের ডানদিকে ধস, বাঁদিকে গিরিখাত। মাথার উপর বোমারু বিমানের পাহারা। পায়ের তলায় বরফের স্তূপ। তাদের সামনে যাওয়ার পথ নেই। যুদ্ধ তাদের শেষ আশ্রয় কেড়ে নিয়েছে। মেরে ফেলেছে শিশুদের। অহরহ মৃত্যু তাদের ডাকছে ইশারায়। তারা আজ ছিন্নমূল, নীড়হীন।
সাধারণ মানুষের ইতিহাস নেই। পুথিগত আর প্রথাগত ইতিহাসে কেবল রাজরাজড়াদের রমরমা। সাম্রাজ্যবাদী শাসকশক্তি এদের ভিখারি করে দিয়েছে। তাদের কথা কেউ জানে না। তারা দরজায় দরজায় ঘুরছে। পৃথিবীর বাঁচা-মরার সঙ্গেও তাদের কোনো যোগ নেই। ওই যুদ্ধবাজদের লোলুপ আগ্রাসনে দেশে-বিদেশে কাছে-দূরে যখনই যুদ্ধ হয় মারা যায় এই শিশুরা আর তার সঙ্গে শেষ হয়ে যায় আমাদের সুস্থ-সুন্দর উন্নত ভবিষ্যতের সম্ভাবনা।
৪.৬ “আমাদের ইতিহাস নেই”—কাদের, কেন ইতিহাস নেই? উক্তিটির যৌক্তিকতা কবিতা অবলম্বনে বিচার করো। ১+১+৩
উত্তরঃ
যাদের ইতিহাস নেই: শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় সাধারণ শ্রমজীবী মানুষদের ইতিহাস না থাকার কথা বলা হয়েছে।
ইতিহাস না থাকার কারণ: শ্রমজীবী সাধারণ জনগণ ইতিহাসে ব্রাত্য। কারণ, প্রথাগত ইতিহাস ধর্মের ধ্বজাধারী আর সাম্রাজ্যবাদী শাসকদের জয়গানে মুখর। অত্যাচারী, পররাজ্যলোলুপ, যুদ্ধবাজ, ক্ষমতাশালী ব্যক্তিদের কার্যকলাপ ইতিহাসে ফলাও করে লেখা থাকে। তাই সেখানে সাধারণ মানুষদের জায়গা হয় না।
যৌক্তিকতা: রবীন্দ্রনাথ বলেছেন যে, ভারতবর্ষের ইতিহাস হল ভারতবর্ষের নিশীথকালের একটা দুঃস্বপ্ন কাহিনি মাত্র। সেখানে সাধারণ মানুষ নেই, কেবল যারা মারামারি, খুনোখুনি করেছে তারাই আছে। এই ইতিহাসে চিনের প্রাচীরের নির্মাতা কিং, হান, সুই, নরদান ও জিং রাজারা; তাজমহলের নির্মাতা শাহজাহান। চিনা রাজমিস্ত্রিদের উদয়াস্ত শ্রম কিংবা বিশ হাজার নির্মাণকর্মীর বাঁচা-খাটনি সেখানে গুরুত্বহীন। অর্থ, প্রতিপত্তি, পেশিশক্তি যার, ইতিহাসে দাপট তার। তাই সাধারণ মানুষের ইতিহাস নেই—এ কথা সর্বাংশে সত্য।
৪.৭ “আমাদের শিশুদের শব/ছড়ানো রয়েছে কাছেদূরে!”—কার, কোন্ কবিতার অংশ? মূল গ্রন্থের নাম কী? পাঠ্য কবিতা অনুসরণে পঙক্তি দুটির তাৎপর্য আলোচনা করো। ১+১+৩
রচয়িতা ও রচনা: আলোচ্য অংশটি কবি শঙ্খ ঘোষের লেখা ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার অংশ।
মূলগ্রন্থ: আলোচ্য ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতা ‘জলই পাষাণ হয়ে আছে’ নামক মূলগ্রন্থটি থেকে গৃহীত।
তাৎপর্য: আলোচ্য অংশটি কবি শঙ্খ ঘোষের ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতার অন্তর্গত। পৃথিবীতে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধবাজ শক্তি চায় নিজের সাম্রাজ্য বিস্তার করতে। আর এর জন্য তারা চালায় বিধ্বংসী আক্রমণ। সেই আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পায় না নিষ্পাপ, সরল, নিরপরাধ শিশুরাও। সাম্রাজ্যবাদী লোভের বীভৎসতার চিহ্ন রূপে তাই সর্বত্র ছড়িয়ে থাকে শিশুদের শব। শিশুরা হল আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, তারা কুঁড়ি হয়ে রয়েছে। অথচ তারা ফুল হয়ে ফুটে ওঠার আগেই ঝরে যায়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্য দিয়ে আসলে আমাদের ভবিষ্যৎটাই হারিয়ে যায় ওই যুদ্ধবাজদের লোলুপ আগ্রাসনে। দেশে-বিদেশে কাছে-দূরে যখনই যুদ্ধ হয় মারা যায় এই শিশুরা আর তার সঙ্গে শেষ হয়ে যায় আমাদের সুস্থ-সুন্দর উন্নত ভবিষ্যতের সম্ভাবনা।
৪.৮ “আমরা ভিখারি বারোমাস”—কোন পরিস্থিতিতে ‘আমরা’ বারোমাস ভিখারি? এই অবস্থায় কী দরকার বলে কবি মনে করেন? ৩+২
পরিস্থিতি: কবি শঙ্খ ঘোষ তাঁর ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আলোচ্য কবিতায় ‘আমরা’ হল সেইসব সাধারণ মানুষ যারা তিলে তিলে সভ্যতাকে গড়ে তুললেও চিরকাল অবহেলিত, অবদমিত ও অত্যাচারিত হয়ে থাকে। তারা সভ্যতার ‘পিলসুজ’। সভ্যতারূপ প্রদীপটিকে তারাই ধারণ করে বলে রাষ্ট্র নির্বিশেষে শাসক ও পুঁজিবাদী গোষ্ঠী সভ্যতার অত্যুজ্জ্বল আলোকে নিজেদের অমানবিক নৃশংস চেহারাকে লুকিয়ে রাখতে পারে। শাসক ও পুঁজিবাদী শক্তি লুণ্ঠন করে সাধারণ মানুষের সহায়সম্পদ। সাধারণের শ্রমের ওপর গড়ে ওঠে তাদের লোভ ও লালসার ইমারত। যারা শ্রমের জন্য এগিয়ে চলে মানবসভ্যতার রথ, তারাই অনাহার, অশিক্ষা, আশ্রয়হীনতা, চিকিৎসাহীনতার শিকার। বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম উপকরণটুকু তারা পায় না, কেন-না সভ্যতাগর্বীরা তাদের ভালোভাবে বাঁচতে দেয় না। শ্রমজীবী কৃষিজীবী সর্বহারার দল পৃথিবী জুড়ে ভিখারির মতো উচ্ছবৃত্তি করে যেন কোনোক্রমে জীবন ধারণ করে।
করণীয়: এই শ্রেণিবিভক্ত সমাজে সাধারণ মানুষ সব প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারবে তখনই যখন তারা জোটবদ্ধ হবে। পৃথিবী জুড়ে ধ্বংস আর মৃত্যুর বেসাতির মধ্যেও আশাবাদী কবি বিশ্বাস করেন, শান্তিদূত গোষ্ঠীর প্ররোচনার ফাঁদে পা না দিয়ে সর্বহারা মানুষ যদি জোটবদ্ধ হতে পারে, যদি হাতে হাত রেখে ‘বেঁধে বেঁধে’ থাকতে পারে, তবেই তারা রৌদ্রকরোজ্জ্বল সময় উপভোগ করবে।