অদল বদল গল্পের প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 10 | Odol Bodol Golper Question Answer

অদল বদল গল্পের প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 10 | Odol Bodol Golper Question Answer

অদল বদল গল্পের প্রশ্ন উত্তর
অদল বদল গল্পের প্রশ্ন উত্তর

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো: প্রশ্নমান-১

১.১ অদল-বদলের গল্প গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরে যাঁর কানে গেল, তিনি হলেন
(ক) মাস্টারমশাই
(খ) গ্রামপ্রধান
(গ) প্রধানমন্ত্রী
(ঘ) গ্রামবাসী
উত্তর: (খ) গ্রামপ্রধান

১.২ “আজ থেকে আমরা অমৃতকে অদল আর ইসাবকে বদল বলে ডাকব।”-এই ঘোষণা কার?
(ক) হাসানের
(খ) গ্রাম পঞ্চায়েতের
(গ) অমৃতের বাবার
(ঘ) গ্রামপ্রধানের
উত্তর: (ঘ) গ্রামপ্রধানের

১.৩ হোলির দিন ছেলেরা অমৃত আর ইসাবকে একরকম পোশাকে দেখে কী করতে বলেছিল?
(ক) ছবি আঁকতে
(খ) হোলি খেলতে
(গ) কুস্তি লড়তে
(ঘ) ফুটবল খেলতে
উত্তর: (গ) কুস্তি লড়তে

১.৪ অমৃত ও ইসাবের বাবা পেশায় ছিলেন
(ক) চাষি
(খ) মজুর
(গ) শিক্ষক
(ঘ) চিকিৎসক
উত্তর: (ক) চাষি

১.৫ “ওরা ভয়ে কাঠ হয়ে গেল।”-ওরা কারা?
(ক) কালিয়া ও ইরসাদ
(খ) কালিয়া ও ইরফান
(গ) অমৃত ও কালিয়া
(ঘ) অমৃত ও ইসাব
উত্তর: (ঘ) অমৃত ও ইসাব

১.৬ ‘অদল বদল’ গল্পে কোন্ উৎসবের কথা আছে?
(ক) দুর্গাপুজো
(খ) নববর্ষ
(গ) নবান্ন
(ঘ) হোলি
উত্তর: (ঘ) হোলি

১.৭ ইসাব কালিয়াকে বলেছিল
(ক) অমৃতের সঙ্গে কুস্তি লড়তে
(খ) অমৃতকে বাড়ি পৌঁছে দিতে
(গ) তার সঙ্গে কুস্তি লড়তে
(ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তর: (গ) তার সঙ্গে কুস্তি লড়তে

১.৮ “তোর বাবা যদি তোকে মারে কী হবে?”-এ কথা বলেছেন
(ক) অমৃত
(খ) হাসান
(গ) অমৃতের মা
(ঘ) ইসাব
উত্তর: (ঘ) ইসাব

📚 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির স্টুডেন্টদের জন্য দারুণ সুযোগ!

আপনি কি কম সময়ে ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করতে চান?
পরীক্ষার আগে রিভিশন করতে সমস্যা হচ্ছে?

👉 তাহলে এখনই নিয়ে নিন আমাদের Complete PDF eBook Package

✨ এই eBook-এ যা পাচ্ছেন:
✔ সহজ ভাষায় পুরো সিলেবাস
✔ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
✔ পরীক্ষার জন্য সাজানো নোটস
✔ শর্ট টেকনিক ও সাজেশন

🎯 কার জন্য উপযোগী?
👉 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সকল ছাত্র-ছাত্রী
👉 বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যারা

💡 মোবাইলেই পড়ুন, যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায়!

🔥 মাত্র ২৫ টাকা প্রতিটা সাবজেক্ট

১.৯ ‘তারা ইসাব অমৃতকে ঘিরে বলতে লাগল’-তারা কী বলতে লাগল?
(ক) অদল-বদল অমৃত-ইসাব
(খ) বদল-অদল ইসাব-অমৃত
(গ) ইসাব-অমৃত অদল-বদল
(ঘ) অমৃত-ইসাব অদল-বদল
উত্তর: (ঘ) অমৃত-ইসাব অদল-বদল

১.১০ অমৃতের মতো ছেলে পেলে ইসাবের বাবা কতজনকে পালন করতে রাজি ছিলেন?
(ক) এগারো জনকে
(খ) সতেরো জনকে
(গ) একুশ জনকে
(ঘ) একত্রিশ জনকে
উত্তর: (গ) একুশ জনকে

১.১১ হোলির দিন নিমগাছের নীচে একদল ছেলে জড়ো হয়ে কী করেছিল?
(ক) রং খেলছিল
(খ) ধূলো ছোড়াছুড়ি করছিল
(গ) বুড়ির বাড়ি আর বাজি পোড়ানো দেখছিল
(ঘ) নাচানাচি করছিল
উত্তর: (খ) ধূলো ছোড়াছুড়ি করছিল

১.১২ “অমৃত ফতোয়া জারি করে দিল”- ‘ফতোয়া’ শব্দের অর্থ
(ক) মতামত বা অভিমত
(খ) নির্দেশ বা রায়
(গ) দাবি
(ঘ) উপদেশ
উত্তর: (খ) নির্দেশ বা রায়

১.১৩ “তোর জামা খুলে আমারটা পর।”-কথাটা বলেছিল
(ক) ইসাব
(খ) ইসাবের মা
(গ) অমৃতের একজন বন্ধু
(ঘ) অমৃত
উত্তর: (ঘ) অমৃত

১.১৪ হোলির দিন দলের ছেলেরা অমৃত আর ইসাবকে একরকম পোশাকে দেখে কী করতে বলেছিল?
(ক) ছবি আঁকতে
(খ) হোলি খেলতে
(গ) কুস্তি লড়তে
(ঘ) ফুটবল খেলতে
উত্তর: (গ) কুস্তি লড়তে

১.১৫ অমৃত তার মাকে নতুন জামা কিনতে বাধ্য করার জন্য কোথায় লুকিয়েছিল?
(ক) এক বন্ধুর বাড়িতে
(খ) ইসাবদের বাড়িতে
(গ) ইসাবদের গোয়ালঘরে
(ঘ) ইমনদের গোয়ালঘরে
উত্তর: (গ) ইসাবদের গোয়ালঘরে

১.১৬ “এসো, আমরা কুস্তি লড়ি।”-আমরা ছিল
(ক) অমৃত ও ইসাব
(খ) ইসাব ও কালিয়া
(গ) কালিয়া ও অমৃত
(ঘ) পাঠান ও কালিয়া
উত্তর: (খ) ইসাব ও কালিয়া

১.১৭ ‘অদল বদল’ গল্পে যে গাছটির কথা বলা আছে, তা হল
(ক) আম
(খ) জাম
(গ) নিম
(ঘ) তেঁতুল
উত্তর: (গ) নিম

কমবেশি ২০টি শব্দে প্রশ্নগুলির উত্তর দাও প্রশ্নমান-১

২.১ ‘তফাত শুধু এই যে’-কাদের মধ্যে কী তফাত ছিল?

উত্তরঃ পান্নালাল প্যাটেলের লেখা ‘অদল বদল’ গল্পে অমৃত ও ইসাবের মধ্যে সমস্ত বিষয়ে মিল থাকলেও তাদের মধ্যে যে অমিল ছিল তা হল, অমৃতের বাড়িতে বাবা-মা আর তিন ভাই আছে আর ইসাবের বাড়িতে শুধু তার বাবা আছে।

২.২ ‘অদল বদল’ গল্পে কোন বিশেষ দিনের ঘটনার কথা বলা হয়েছে?

উত্তরঃ ‘অদল বদল’ গল্পে হোলি বা বসন্ত উৎসবের দিনের ঘটনার কথা বলা হয়েছে।

২.৩ ‘অদল বদল’ গল্পটি বাংলায় কে তরজমা করেছেন?

উত্তরঃ ‘অদল বদল’ গল্পটি বাংলায় তরজমা করেছেন অর্ঘ্যকুসুম দত্তগুপ্ত।

২.৪ “শোনা মাত্র অমৃত ফতোয়া জারি করে দিল”-ফতোয়াটি কী?

উত্তরঃ অমৃতের মা-বাবা অমৃতকে জামা কিনে দিতে না চাইলে সে ফতোয়া জারি করেছিল যে, ইসাবের মতো একই জামা না পেলে সে স্কুলে যাবে না।

২.৫ ‘অদল-বদলের গল্প’ গ্রামপ্রধানের কানে গেলে তিনি কী ঘোষণা করেছিলেন?

উত্তরঃ ‘অদল-বদলের গল্প’ গ্রামপ্রধানের কানে গেলে তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, সেদিন থেকে অমৃতকে অদল আর ইসাবকে বদল বলে ডাকা হবে।

২.৬ অমৃত কুস্তি লড়তে রাজি ছিল না কেন?

উত্তরঃ অমৃত কুস্তি লড়তে রাজি হয়নি, কারণ নতুন জামা পরে অমৃত যখন বাড়ি থেকে বেরোয় তখন তার মা তাকে সাবধান করে দিয়ে বলেছিলেন, জামা ময়লা করে বা ছিঁড়ে বাড়ি ফিরলে তার কপালে দুঃখ আছে।

২.৭ “ওরা ভয়ে কাঠ হয়ে গেল।”-ওদের ভয় পাওয়ার কারণ কী?

উত্তরঃ কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের জামার পকেটের ছ-ইঞ্চি পরিমাণ কাপড় ছিঁড়ে যাওয়ায় অমৃত ও ইসাব ভয়ে কাঠ হয়ে যায়।

২.৮ কে জোর করে অমৃতকে খোলা মাঠে নিয়ে গিয়েছিল?

উত্তরঃ অমৃত ও ইসাব নিজেদের মধ্যে কুস্তি লড়তে রাজি না হওয়ায়, কালিয়া জোর করে অমৃতকে খোলা মাঠের মধ্যে নিয়ে গিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দেয়।

২.৯ ‘ছেলের দল আনন্দে চেঁচিয়ে উঠল’-আনন্দের কারণ কী?

উত্তরঃ কুস্তি লড়ার আহ্বান জানিয়ে কালিয়া অমৃতকে ছুঁড়ে মাটিতে ফেলে দিয়েছিল। এই দৃশ্য দেখে ছেলের দল আনন্দে চেঁচিয়ে উঠেছিল।

২.১০ “আমার সঙ্গে আয়।”-অমৃত ইসাবকে এমন নির্দেশ দিল কেন?

উত্তরঃ কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়ে ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ায় ইসাব তার বাবার কাছে মার খাবে এই আশঙ্কা ছিল। তাই অমৃত ইসাবের জামা নিজের জামার সঙ্গে বদল করার জন্যই তাকে সঙ্গে আসার নির্দেশ দেয়।

২.১১ “হঠাৎ অমৃতের মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল”-কী বুদ্ধি?

উত্তরঃ ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ায় ইসাব ভয়ে ছিল যে জামা ছেঁড়ার কথা জানতে পারলে তাকে তার বাবা নিশ্চয়ই পেটাবে। এমতাবস্থায় ইসাবকে তার রাগি বাবার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অমৃত জামা অদল বদলের বুদ্ধি দিয়েছিল।

২.১২ অমৃত ও ইসাবের মধ্যে তফাত কী ছিল?

উত্তরঃ অমৃত ও ইসাবের মধ্যে তফাত ছিল যে, অমৃতের পরিবারে আছে বাবা মা আর তিন ভাই, কিন্তু ইসাবের বাবা ছাড়া আর কেউ নেই।

২.১৩ “ইসাবের মেজাজ চড়ে গেল।”- কখন ইসাবের মেজাজ চড়ে গিয়েছিল?

উত্তরঃ কালিয়া জোর করে অমৃতকে টেনে নিয়ে গিয়ে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিল বলে ইসাবের মেজাজ চড়ে গিয়েছিল।

প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কমবেশি ৬০টি শব্দে উত্তর দাওঃ প্রশ্নমান-৩

৩.১ “উনি দশ বছরের অমৃতকে জড়িয়ে ধরলেন।”-উনি কে? কেন অমৃতকে উনি জড়িয়ে ধরলেন? ১+২

‘উনি’-র পরিচয়: পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পে আলোচ্য অংশে ‘উনি’ বলতে ইসাবের বাবা হাসানকে বোঝানো হয়েছে।

জড়িয়ে ধরার কারণ: অমৃতের জন্য কালিয়ার সঙ্গে কুস্তির লড়াই করতে গিয়ে ইসাবের নিজের জামাটি ছিঁড়ে যায়। অমৃত জানত ইসাবের বাবা সুদে টাকা ধার করে ইসাবকে সেই জামা তৈরি করিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে এত কষ্ট করে ধার নেওয়া পয়সায় তৈরি করা জামা ছিঁড়ে ফেলায় ইসাবকে তার বাবা শাস্তি দিতে পারেন, এটাই স্বাভাবিক। তাই ইসাবকে শাস্তি পাওয়ার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অমৃত তার নতুন জামার সঙ্গে ইসাবের ছেঁড়া জামাটি অদল-বদল করে নেয়। অমৃতও তার বাবা-মা-র কাছ থেকে শাস্তি পেতে পারত-এই আশঙ্কা সত্ত্বেও অমৃত তার বন্ধু ইসাবের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছিল। ঘটনাটি ইসাবের বাবার নজর এড়িয়ে যায়নি। বন্ধুর জন্য অমৃতের এই উদার আত্মত্যাগের বিষয়টি ইসাবের বাবার হৃদয়কে স্পর্শ করেছিল। সেই কারণে তিনি ছোট্ট দশ বছরের অমৃতকে জড়িয়ে ধরেছিলেন।

৩.২ ‘বলতে গেলে ছেলেদুটোর সবই একরকম, তফাত শুধু এই যে’-তফাতটা কী?

তফাত: পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পের উদ্ধৃত অংশে যে দুটি ছেলের কথা বলা হয়েছে, তারা হল অমৃত আর ইসাব। এই অমৃত ও ইসাবের পরিবারের সবই প্রায় একই রকম। তফাত কেবল ছিল পরিবারের সদস্য সংখ্যায়। অমৃতের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছিল ছ-জন। অর্থাৎ, অমৃত, তার বাবা-মা এবং তিন ভাই। অন্যদিকে ইসাবের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ছিল মাত্র দুজন। অর্থাৎ, ইসাব ও তার বাবা।

৩.৩ “অমৃতের জবাব আমাকে বদলে দিয়েছে।”-বক্তা কে? অমৃতের জবাব কীভাবে তাকে বদলে দিয়েছিল? ১+২

বক্তা: পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পে আলোচ্য উদ্ধৃতাংশটির বক্তা হলেন ইসাবের বাবা পাঠান ওরফে হাসান।

জবাবের ফলে বদল: হোলির দিন কিছু বখাটে ছেলের পাল্লায় পড়ে, ইসাবের নতুন জামার পকেটের কাছে ছ-ইঞ্চি পরিমাণ কাপড় ছিঁড়ে গিয়েছিল। যা বন্ধু অমৃত অদল-বদল করে নেয়। বিস্মিত ইসাব অমৃতকে জানায় যে, ছিঁড়ে যাওয়া জামার কারণে তার বাবাও তো তাকে প্রহার করবেন। প্রত্যুত্তরে অমৃত জবাবে জানায় যে, তার মা আছেন, মারের হাত থেকে তাকে রক্ষা করার জন্য। কিন্তু বন্ধু ইসাবের মা যে নেই। বন্ধুর প্রতি মর্মস্পর্শী অনুভবজনিত কথা ইসাবের বাবা, অর্থাৎ পাঠান সাহেব তাদেরই অগোচরে শোনেন এবং দুচোখে জল ভরে আসে তাঁর। কারণ, এমন খাঁটি কথা, এমন খাঁটি অনুভব পিতা হিসেবেও হয়তো তিনি কখনও অনুভব করেননি। পুত্রসম অমৃতের কথায় তার সে অনুভবের জাগরণ ঘটেছে, সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে তাঁকে।

৩.৪ “অমৃত এতেও পিছপা হতে রাজি নয়।”-অমৃত কেন পিছপা হতে রাজি নয়?

পিছপা হতে রাজি না হওয়ার কারণ: পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পে অমৃত একবার বাড়িতে বেশ জোড়-জুলুম করেছিল, সে বায়না করে বলেছিল-ইসাবের মতোই একটা নতুন জামা না পেলে সে স্কুলে যাবে না। তার মা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন এবং বলেন-ইসাব খেতে কাজ করার কারণে তার জামাটি ছিঁড়ে গিয়েছে, কিন্তু অমৃতের জামাটি তো নতুনই আছে। কাঁদতে কাঁদতে অমৃত সে মুহূর্তে জামার একটা ছেঁড়া জায়গায় আঙুল ঢুকিয়ে জামাটি আরও অনেকটা ছিঁড়ে ফেলে। মা সেসময় তাকে খানিকটা বেকায়দায় ফেলার জন্য জানান, ইসাব নতুন জামা পাওয়ার আগে, তার বাবা তাকে খুব মেরেছিল; আর তাই অমৃতকেও নতুন জামা পেতে গেলে তেমনই মার খেতে হবে। অমৃত মায়ের এই দেওয়া শর্ত শুনে এক বিন্দু পিছপা হয়নি, বরং নিজের সিদ্ধান্তেই অনড় ছিল।

৩.৫ ‘গল্প শুনে তাদেরও বুক ভরে গেল।’- ‘তাদেরও’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? তাদের বুক ভরে যাওয়ার কারণ কী? ১+২

তাদের পরিচয়ঃ পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ ছোটোগল্পে ‘তাদেরও’ বলতে পাড়াপড়শি মায়ের দলকে বোঝানো হয়েছে।

বুক ভরে যাওয়ার কারণ: দুই ভিন্ন ধর্মের অভিন্ন হৃদয় বন্ধু অমৃত ও ইসাব। তাদের বন্ধুত্বের গভীরতা ছিল অতলস্পর্শী, ছিল পরস্পরের প্রতি অপার আন্তরিকতা যা তাদের সম্পর্ককে সুদৃঢ় করেছিল। তাদের সম্পর্কের এই দৃঢ়তারই জ্বলন্ত উদাহরণ মেলে অমৃত ও ইসাবের জামা অদল বদলের ঘটনায়। পাঠানের মুখ থেকে এই ঘটনা শুনে পাড়াপড়শিদেরও মন ছুঁয়ে যায়। বস্তুত, নিতান্ত দুই কিশোর যে তাদের বন্ধুর জন্য এতটা গভীরভাবে ভাবতে পারে এ কথা ভেবেই পাড়াপড়শিদের গর্বে বুক ভরে গেল।

৩.৬ ‘ও স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিল’- ‘ও’ বলতে এখানে কার কথা বলা হয়েছে? ও স্কুলে যাওয়া বন্ধ করল কেন? ১+২

‘ও’ : পান্নালাল প্যাটেল রচিত ‘অদল বদল’ গল্পের আলোচ্য অংশে ‘ও’ বলতে অমৃতের কথা বলা হয়েছে।

স্কুলে যাওয়া বন্ধ করার কারণঃ অমৃতের বন্ধু ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে ইসাবের বাবা তাকে একটা নতুন জামা কিনে দেন। তাই দেখে অমৃত ওর মায়ের কাছে ইসাবের মতোই অবিকল নতুন একটি জামা কিনে দেওয়ার বায়না করে। অমৃতের মা তাতে রাজি হন না, কারণ অমৃতের জামা প্রায় নতুনই আছে। মায়ের কাছে আবদার জোরালো করার জন্য সে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।

৩.৭ “ইসাবের সঙ্গে কুস্তি লড়তে তো একেবারেই গররাজি।” -কে গররাজি? কেন সে গররাজি? ১+২

উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: পান্নালাল প্যাটেল রচিত ‘অদল বদল’ গল্পের অন্যতম চরিত্র অমৃত তার বন্ধু ইসাবের সঙ্গে কুস্তি লড়তে গররাজি।

গররাজি হওয়ার কারণ: অমৃত আর ইসাবের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব, যেন তারা ‘হরিহর আত্মা’। তাই পরস্পর কুস্তি লড়ে কেউ কাউকে আহত করতে চায় না। তা ছাড়া ইসাব ও অমৃত দুজনেই একইরকম নতুন জামা পরে এসেছে। ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ায় তার বাবা নতুন জামা কিনে দেন আর অমৃতের জেদের কাছে হার মেনে তার বাবা নতুন জামা কিনে দেন। কুস্তি লড়তে গিয়ে জামা নষ্ট হলে দুজনকেই বাড়িতে শাস্তি পেতে হবে। এই দুটো কারণে অমৃত কুস্তি লড়তে গররাজি।

৩.৮ “অমৃত আর ইসাবও রণভূমি ত্যাগ করল।” রণভূমি কাকে বলা হয়েছে? তারা কেন রণভূমি ত্যাগ করল? ১+২

রণভূমি: পান্নালাল প্যাটেল রচিত ‘অদল বদল’ গল্পে কালিয়া আর ইসাবের মধ্যে যে মাঠে কুস্তি লড়াই হয়েছিল, আলোচ্য অংশে সেই মাঠটিকে ‘রণভূমি’ বলা হয়েছে।

রণভূমি ত্যাগ করার কারণ: হোলির দিন অমৃত আর ইসাব একরকম নতুন জামা পরে মাঠে গেলে কালিয়া প্রথমে অমৃতকে ইসাবের সঙ্গে কুস্তি লড়তে বলে। অমৃত রাজি না হলে কালিয়া ওকে হঠাৎ ল্যাং মেরে ফেলে দেয়। বন্ধুর এই অবস্থা দেখে ইসাব তখন কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি করে কালিয়াকে হারিয়ে দেয়। কালিয়ার বাবা মা এসে ছেলেদের মারধোর করতে পারেন এই ভয়ে ছেলেরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়, অমৃত আর ইসাবও সেই রণভূমি ত্যাগ করে।

৩.৯ ‘ওঁর শান্ত গলা শুনে ওদের চিন্তা হল’-‘ওঁর’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে? চিন্তা হওয়ার কারণ কী? ১+২

উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: পান্নালাল প্যাটেল রচিত ‘অদল বদল’ গল্পের আলোচ্য অংশে ‘ওঁর’ বলতে ইসাবের বাবা হাসান পাঠানের কথা বলা হয়েছে।

চিন্তা হওয়ার কারণ: কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়ার ফলে ইসাবের জামা ছিঁড়ে যায়। বাবার মারের হাত থেকে ইসাবকে বাঁচানোর জন্য অমৃত আড়ালে গিয়ে ইসাবের সঙ্গে জামা অদলবদল করে। পাড়ার ছেলেরা বিষয়টা দেখতে পেয়ে অদল-বদল বলে চিৎকার করতে থাকে। ওরা তখন পালাতে উদ্যত হলে ইসাবের বাবা ওদেরকে শান্ত গলায় নিজের কাছে ডেকে নেন। ওদের ভয় হয়, উনি হয়তো পুরো বিষয়টা জেনে ফেলেছেন এবং সে জন্য শাস্তি দেবেন। তার আগে ভালোবাসার ভান করছেন।

৩.১০ “অমৃতের মতো ছেলে পেলে আমি একুশজনকেও পালন করতে রাজি আছি।”-বক্তা কে? তাঁর এমন উক্তির কারণ কী? ১+২

বক্তা: পান্নালাল প্যাটেল রচিত ‘অদল বদল’ গল্প থেকে গৃহীত আলোচ্য উক্তিটির বক্তা হলেন ইসাবের বাবা হাসান পাঠান।

উক্তির কারণ: কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের নতুন জামা ছিঁড়ে যায়। ইসাবের বাবার মারের হাত থেকে বন্ধুকে বাঁচাতে অমৃত তখন ইসাবের সঙ্গে জামা অদলবদল করে। সে জানে, তাকে তার বাবা মারলে তার মা তাকে বাঁচাবে, কিন্তু ইসাবের মা নেই। অমৃতের এই আত্মত্যাগ ও উপলব্ধিতে বিহ্বলিত হয়ে হাসান অমৃতের মায়ের উদ্দেশ্যে আলোচ্য উক্তিটি করেন।

কমবেশি ১৫০ শব্দে প্রশ্নের উত্তর দাও : প্রশ্নমান-৫

৪.১ “ও আমাকে শিখিয়েছে, খাঁটি জিনিস কাকে বলে।” -কে, কাকে শিখিয়েছে? ‘খাঁটি জিনিস’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? ১+৪

বক্তা ও উদ্দিষ্ট: ‘অদল বদল’ গল্পে অমৃত ইসাবের বাবা হাসানকে শিখিয়েছে ‘খাঁটি জিনিস’ কাকে বলে।

খাঁটি জিনিসের তাৎপর্য: ‘অদল বদল’ গল্পে ‘খাঁটি জিনিস’ বলতে মায়ের ওপর অমৃতর আস্থা, অর্থাৎ মায়ের স্নেহ-ভালোবাসার মূল্য এবং বন্ধুত্বের আন্তরিক বন্ধন—এই দুটিকেই বোঝানো হয়েছে। বন্ধুকে বাবার প্রহার থেকে বাঁচানোর জন্য সকলের চোখের আড়ালে অমৃত নিজের ভালো জামা ইসাবের ছেঁড়া জামার সঙ্গে বদলে নেয়। ইসাব যখন বন্ধু অমৃতর শাস্তি পাওয়ার সম্ভাবনার কথা বলে তখন অমৃত স্বতঃস্ফূর্তভাবে জানায়—”আমাকে বাঁচানোর জন্য তো আমার মা আছে।” অমৃতর এই যুক্তি ইসাবের বাবাকে নবতর চেতনায় পৌঁছে দেয়। শিশুর জীবনে মায়ের গুরুত্ব তিনি বুঝেছিলেন।

সেইসঙ্গে বন্ধুর জন্য ছোট্ট অমৃতের আত্মত্যাগ হাসান সাহেবকে মুগ্ধ করেছিল। তিনি হতবাক হয়েছিলেন ওদের বন্ধুত্বের গভীরতা ও পবিত্রতা দেখে। আসলে পূর্ণবয়স্ক বোদ্ধা মানুষ যা পারে না, তাই করে দেখিয়েছিল অমৃত। একটি অল্প বয়স্ক কিশোরের মধ্যে স্নেহ, ভালোবাসা ও উদারতার মতো খাঁটি জিনিস, অর্থাৎ হৃদয়বৃত্তিগুলি প্রত্যক্ষ করেন হাসান সাহেব।

৪.২ “অমৃত সত্যি তার বাবা-মাকে খুব জ্বালিয়েছিল।”-অমৃত কীভাবে বাবা-মাকে জ্বালাতন করেছিল? অবশেষে অমৃতের মা কী করেছিলেন? ৩+২

অমৃতর দ্বারা বাবা-মাকে জ্বালাতন: পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পে অমৃত তার বাবা-মাকে জ্বালাতন করেছিল।

ইসাবের জামার মতো একটি জামা কিনে দেওয়ার জন্য অমৃত তার মায়ের কাছে বায়না ধরেছিল। অমৃতের মা প্রথমে ছেলেকে বুঝিয়েছিলেন যে, ইসাবকে জমিতে কাজ করতে হয় বলে তার জামা ছিঁড়ে গেছে, কিন্তু অমৃতের জামাটা তো প্রায় নতুনই রয়েছে। কাঁদতে কাঁদতে অমৃত তার জামার একটা ছেঁড়া জায়গায় আঙুল ঢুকিয়ে আরও ছিঁড়ে ফেলে।

তখন অমৃতের মা তাকে বেকায়দায় ফেলার জন্য মার খাওয়ার কথা বলেন। ইসাবের বাবা জামা দেওয়ার আগে তাকে খুব মেরেছিলেন। অমৃতও কি সেরকম মার খেতে রাজি আছে? অমৃত মরিয়া হয়ে সেই প্রস্তাবেও রাজি হয়। অমৃতের মা তখন অমৃতের বাবার কাছে গিয়ে তাকে আবেদন জানাতে বলেছিলেন। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে অমৃত স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়, খাওয়া ছেড়ে দেয় এবং রাত্রিতে বাড়ি ফিরতে রাজি হয় না। শেষ পর্যন্ত হার মেনে অমৃতের বাবা ইসাবের বাবার গোয়ালঘর থেকে অমৃতকে বাড়ি নিয়ে আসেন। এভাবেই অমৃত বাবা-মাকে জ্বালাতন করেছিল।

অমৃতের মার পরবর্তী পদক্ষেপঃ শেষ পর্যন্ত অমৃতের মা অমৃতের জেদের কাছে মাথা নত করেছিলেন। তিনি অমৃতের বাবাকে নতুন জামা কিনে দিতে রাজি করান। ইসাবের জামার রং, মাপ, কাপড়ের অনুরূপ একটি নতুন জামা কিনে দেন।

৪.৩ ‘অদল বদল’ গল্পে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চিত্র কীভাবে ফুটে উঠেছে তা আলোচনা করো।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চিত্র: ‘অদল বদল’ নিছক দুই কিশোরের জামাবদলের কাহিনি নয়। হিন্দু-মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের সত্তার বদলের কাহিনি। অমৃত এ গল্পে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতীক আর ইসাব মুসলিম সম্প্রদায়ের। ইসাবের বাবার মারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অমৃত ইসাবের ছেঁড়া জামাটি নিজে পরেছে। এই ঘটনা ইসাবের বাবার চিত্ত বদল ঘটিয়েছে।

অমৃত ও ইসাবের মধ্যে অকৃত্রিম বন্ধুত্বে, পুত্রস্নেহে অমৃতকে ইসাবের বাবার বুকে জড়িয়ে ধরার নিদর্শনে ভারতের সেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তাই ঘোষিত হয়। গ্রামপ্রধান তাদের নতুন নামকরণ করেন ‘অদল’ এবং ‘বদল’। দুই ভিন্ন সম্প্রদায়ের বন্ধুর মধ্যে মহামিলনের বার্তায়, গ্রামের আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। এভাবেই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ যদি একে-অপরের বিপদে পাশে দাঁড়ায়, একে অপরকে আগলায় বুক দিয়ে তাহলেই ঘুচবে বিভেদ, ইতিহাস হবে দাঙ্গামুক্ত।

গোষ্ঠীগত বিদ্বেষের হিংসা, ক্রোধ, শঠতা, স্বার্থপরতা নয়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনে সৃষ্ট প্রেম-ভালোবাসা, স্নেহ-মমতাই হল প্রকৃত মনুষ্যত্ব। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই মূল কথাই ‘অদল বদল’ গল্পে সত্য হয়ে উঠেছে। অমৃত আর ইসাবের আদর্শে লেখক উদ্বুদ্ধ করে তুলতে চেয়েছেন ভারতবর্ষের দুই ধর্মসম্প্রদায়ের মানুষকে। তাই এই গল্পে দুই ভিন্ন ধর্মাবলম্বী বন্ধু হিন্দু অমৃত ও মুসলিম ইসাব এবং তাদের বন্ধুত্বের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে জাতপাতের ঊর্ধ্বে রয়েছে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অবস্থান।

৪.৪ ‘অদল বদল’ গল্প অবলম্বনে অমৃত ও ইসাবের বন্ধুত্বের পরিচয় দাও।

বন্ধুত্বের পরিচয়ঃ অমৃত ও ইসাব একে-অপরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তাদের দেখে স্বচ্ছন্দে বলা যায়—”True friends are always together in spirit.” সত্যিই তারা “A single soul dwelling in two bodies.”

হোলির দিনের পড়ন্ত বিকেলে তারা হাত ধরাধরি করে বাইরে বেরিয়েছে। কালিয়া জোর করে কুস্তি লড়ার জন্য অমৃতকে টানাটানি করেছে এবং মাটিতে ছুড়ে ফেলেছে। এতে ইসাবের মেজাজ চড়ে গেছে। সে কালিয়াকে দ্বন্দুযুদ্ধে আহ্বান করেছে। অমৃতকে হেনস্থা করার বদলা নিয়েছে ইসাব। কালিয়াকে সে ল্যাং মেরে ফেলে দিয়েছে।

আরো পড়ুন : জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর

এরপর দুজনে রণভূমি ত্যাগ করেছে। হঠাৎ অমৃতের নজরে পড়ে ইসাবের জামা কিছুটা ছিঁড়ে গেছে। বাবার মারের হাত থেকে ইসাবকে বাঁচানোর জন্য অমৃত জামা অদল বদলের প্রস্তাব দেয়। ইসাব প্রথমে রাজি হয়নি। কারণ, ছেঁড়া জামা পরে বাড়ি ফিরলে অমৃতের বাবাও তাকে পেটাবে। তখন অমৃত জানায় যে, তাকে বাঁচানোর জন্য তার মা আছে কিন্তু ইসাবকে বাঁচানোর জন্য তো কেউ নেই। এরপর দুজনে জামা বদল করে।

ইসাবের বাবা এই দৃশ্য দেখে ও অমৃতের কথা শুনে আপ্লুত হয়ে যান। তাঁর নবচৈতন্য জাগে। তিনি বুঝতে পারেন মা-হারা ছেলেকে মানুষ করতে গেলে বাবাকে মায়ের স্নেহও দিতে হয়। গ্রামবাসী এবং গ্রামপ্রধান তাদের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা ও আত্মত্যাগে অভিভূত হয়ে যান। দুই সম্প্রদায়ের দুটি ছেলের বন্ধুত্বের এই নিদর্শন দেখে আমাদের মনে হয়—”A sweet friendship refreshes the soul.”

৪.৫ “অমৃতের জবাব আমাকে বদলে দিয়েছে।”-অমৃতের কোন জবাব কাকে বদলে দিয়েছিল? তার চরিত্রের কী ধরনের বদল এসেছিল? ২+৩

অমৃতের জবাব ও বক্তা: জামা বদল করার জন্য অমৃতের বাবা তাকে মারতে পারে। ইসাবের ওই কথার জবাবে অমৃত ভয় না পেয়ে বলেছিল যে, তার মা তাকে বাঁচাবে। অমৃতের এই জবাবে ইসাবের বাবা বদলে গিয়েছিল।

ইসাবের বাবার চরিত্রের বদল: শিশু অমৃতের কাছ থেকে তিনি ভালোবাসার নতুন পাঠ নিয়েছেন। আবেগের বেগ ইসাবের বাবাকেও আন্দোলিত করে। তিনি দশ বছরের অমৃতকে জড়িয়ে ধরেছেন। অমৃতের মাকে আবেগের বশেই বলেছেন—”আজ থেকে আপনার ছেলে আমার”। অমৃতের মতো ছেলে পেলে একুশজনকেও পালন করতে রাজি থাকার কথা মুক্তকণ্ঠে ঘোষণা করে তিনি এক উদার আবেগময় পিতা হিসেবেই নিজেকে তুলে ধরেছেন।

দণ্ডদাতা হয়ে ইসাবকে এতদিন মারধোর করলেও অমৃতের ছোট্ট একটা কথায় ইসাবের বাবার মানস পরিবর্তন ঘটেছে। তিনি মাতৃহীন সন্তানের প্রতি নতুন করে সমবেদনা এবং ভালোবাসায় আবিষ্ট হয়েছেন। বুঝতে পেরেছেন—’শাসন করা তারেই সাজে সোহাগ করে যে’।

৪.৬ ‘ছেলের দল আনন্দে চেঁচিয়ে উঠল’-ছেলের দলের আনন্দের কারণ কী ছিল? এরপরেই বা কোন্ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল? ৩+২

আনন্দের কারণ: পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পে নিম গাছের নীচে ধুলো ছোড়াছুড়ি করা গ্রামের ছেলেদের আনন্দে চেঁচিয়ে ওঠার কারণ ছিল—অমৃতের মাটিতে পড়ে যাওয়া।

হোলির দিনের পড়ন্ত বিকেলে অমৃত ও ইসাব একই রকম জামা পরে হাত ধরাধরি করে বেড়াতে বেরোয়। দুজনের জামার সাদৃশ্য দেখে এবং গলায় গলায় বন্ধুত্ব দেখে ছেলের দলের একজন তাদের লড়াই করতে উৎসাহ দেয়। অমৃত লড়াই করতে রাজি না-হলে কালিয়া জোর করে তাকে খোলা মাঠে নিয়ে আসে এবং ছুড়ে মাটিতে ফেলে দেয়। অমৃতের এই হেনস্থা দেখে ছেলের দল আনন্দে চেঁচিয়ে ওঠে।

পরবর্তী ঘটনা: প্রিয় বন্ধুর নিগ্রহের এই ঘটনা স্বচক্ষে দেখে ইসাব রেগে যায়। সে কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে রাজি হয়ে যায়। ইসাব ল্যাং মারে। ব্যান্ডের মতো হাত-পা ছড়িয়ে কালিয়া মাটিতে পড়ে যায় এবং চ্যাঁচাতে শুরু করে। কালিয়ার বাবা-মা পেটাতে পারে ভেবে ছেলের দল পালিয়ে যায়।

৪.৭ ‘অদল বদল’ গল্প অবলম্বনে অমৃত চরিত্রটি আলোচনা করো।

অমৃত চরিত্র: চার্লস ডিকেন্সের ‘এ টেল অফ টু সিটিজ’ উপন্যাসের সিডনি কার্টন চরিত্রটির সঙ্গে মিল আছে পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্পের অমৃতের। “True friends are always together in spirit.” অমৃতও সেই প্রকৃত বন্ধু।

মাতৃভক্তি: “মায়ের মায়া কেমন ধারা/যাদের মা বলবার আছে তারাই জানে।” অমৃতও জানে। অমৃত মায়ের কথা শোনে এবং মানে। তাই সে কোনো প্ররোচনাতেই কুস্তি লড়তে রাজি হয়নি। বাবার মারের হাত থেকে মা তাকে বহুবার বাঁচিয়েছেন বলে তাঁর প্রতি একটা সহজিয়া বিশ্বাস তার মনে শিকড় গেড়েছে। জামা পালটানোর কথা সে ভাবতে পেরেছে মায়ের প্রতি অগাধ বিশ্বাস থেকেই।

উপস্থিত বুদ্ধি: অমৃত বুদ্ধিমান। তার presence of mind অসাধারণ। কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের জামা ছিঁড়ে গেলে বাবার মারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সে চটপট একটি বুদ্ধি বের করেছে। জামা অদল বদলের ভাবনায় তার তাৎক্ষণিক বুদ্ধির প্রকাশ ঘটেছে।

জেদি: অমৃত বড্ড জেদি, বড্ড একগুঁয়ে। নতুন জামা পাওয়ার জন্য সে বাবা-মাকে ভীষণ জ্বালাতন করেছিল। স্কুলে যাওয়া, খাবার খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। রাতে বাড়ি ফিরতে চায়নি। মার খেতেও পিছপা হয়নি।

প্রকৃত বন্ধু: “A friend in need is a friend indeed.” অমৃতও ইসাবের অসময়ের বন্ধু। বিপদের মুহূর্তে সে বন্ধু ইসাবকে আড়াল করেছে। নিজে বিপদে পড়তে পারে জেনেও বন্ধুকে বাঁচিয়েছে।

উদারতা: “আকাশ আমায় শিক্ষা দিল উদার হতে ভাই রে।” অমৃতও দিলখোলা। নিজের ভালো জামাটি বন্ধুকে দিয়ে তার ছিঁড়ে যাওয়া জামাটি সে নিজে পরেছে অক্লেশে, অনায়াসে। যে জামাটি পাওয়ার জন্য সে খাবার, স্কুল বন্ধ করেছে; গোয়ালঘরে লুকিয়ে থেকেছে সেই জামা হেলায় কাউকে দিয়ে দেওয়া সামান্য কথা নয়।

নিয়ন্ত্রক চরিত্র: অমৃত এ গল্পের সবচেয়ে Active চরিত্র। তার doing ও suffering-কে ঘিরেই মূলত এ গল্প আবর্তিত হয়েছে। তার বন্ধুকে বাঁচানোর তো নিছক জামা বদল নয়, আসলে দুই সম্প্রদায়ের সত্তা বদল। অসাধ্যসাধন করেছে অমৃত। ইসাবের বাবার চিত্ত পরিবর্তন ঘটেছে তার জন্য। দশ বছরের চাষির ছেলে হয়ে উঠেছে এ গল্পের নিয়ন্ত্রক বা নায়ক।

৪.৮ “বাহালি বৌদি, আজ থেকে আপনার ছেলে আমার।” -বক্তা কে? বক্তার এরূপ উক্তির কারণ কী? ১+৪

বক্তাঃ পান্নালাল প্যাটেলের ‘অদল বদল’ গল্প থেকে উদ্ধৃত আলোচ্য অংশের বক্তা হলেন ইসাবের বাবা হাসান।

উক্তির কারণ: কালিয়ার সঙ্গে কুস্তি লড়তে গিয়ে ইসাবের জামার পকেট ও ছ-ইঞ্চি পরিমাণ কাপড় ছিঁড়ে যায়। তা দেখতে পেয়ে দুজনেই ভয় পায়। বাবার মারের হাত থেকে ইসাবকে বাঁচানোর জন্য অমৃত জামা অদল বদল করার কথা বলে। ইসাব প্রথমে রাজি হয়নি। কারণ, ছেঁড়া জামা পরে বাড়ি ফিরলে অমৃতও বাবার হাতে মার খেতে পারে। অমৃত তাকে এই বলে বোঝায় যে বাবা তাকে মারতে এলে তার তো মা আছে। তিনি তাকে বাঁচাবেন কিন্তু ইসাবের তো মা নেই। শেষ পর্যন্ত ইসাব অমৃতের কথা শোনে। দুজনে জামা অদল বদল করে।

ইসাবের বাবা হাসান এই দৃশ্য দেখতে পান। অমৃতের কথা তাঁকে মুগ্ধ করে। তিনি দশ বছরের অমৃতকে জড়িয়ে ধরেন। অমৃতের কথা শুনে তিনি বুঝতে পারেন, সত্যিকারের বন্ধুত্ব হল—”A single soul dwelling in two bodies.” তিনি এও বুঝতে পারেন, মা-হারা ছেলেকে মানুষ করতে গেলে বাবাকেই মায়ের ভূমিকাও নিতে হয়, অর্থাৎ মাতৃস্নেহ দিতে হয়। দশ বছরের অমৃতের কাছ থেকে এই শিক্ষা গ্রহণ করে তিনি নিজেকে বদলে ফেলেন ও তার মাকে উদ্দেশ্য করে আলোচ্য কথাটি বলেন অমৃতের প্রতি পিতৃস্নেহ অনুভববশত।

৪.৯ “পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার গল্প শুনে তাঁদেরও বুক ভরে গেল।”-কাদের ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে? পরস্পরের প্রতি তাদের ভালোবাসার পরিচয় দাও। ১+৪

পরস্পরের ভালোবাসা: পান্নালাল প্যাটেল রচিত ‘অদল বদল’ গল্পের আলোচ্য অংশে অমৃত ও ইসাবের পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার কথা বলা হয়েছে।

ভালোবাসার পরিচয়: মুখোমুখি দুটি বাড়ির দুই কিশোর অমৃত ও ইসাব পরস্পরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। উভয়ের পরিবারের মোটামুটি সব একরকম হলেও তফাত হল অমৃতের বাবা, মা, তিন ভাই রয়েছে, কিন্তু ইসাবেরা মাত্র দুইজন—তার বাবা ও সে। ইসাবের মা নেই।

হোলির দিনের জন্য ইসাবের বাবা ইসাবকে নতুন জামা কিনে দেওয়ায় অমৃত ওর মায়ের কাছে একই রকমের জামার বায়না করে। তার মা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে খেতে কাজ করতে গিয়ে ইসাবের জামা ছিঁড়ে যাওয়ায় ওর বাবা ওকে নতুন জামা কিনে দিয়েছেন, আর অমৃতের তো জামাটি নতুনই আছে। তখন সে জামার একটা ছেঁড়া জায়গায় আঙুল ঢুকিয়ে আরও অনেকটা ছিঁড়ে দেয়। মায়ের বকুনি, মার খাওয়ার ভয় কোনোকিছুই অমৃতের জেদ কমাতে পারে না। শেষ পর্যন্ত অমৃতের বাবা ওকে ইসাবের মতো নতুন জামা দিতে বাধ্য হন।

হোলির দিন পড়ন্ত বিকেলে অমৃত ও ইসাব একই রকম জামা পরে বাইরে আসে। কালিয়া কুস্তি লড়ার জন্য জোর করে অমৃতকে মাটিতে ফেলে দেয়। তখন ইসাব কালিয়াকে ল্যাং মেরে ফেলে দেয়। এরপর তারা রণভূমি ত্যাগ করে। একসময় অমৃত খেয়াল করে ইসাবের জামা কিছুটা ছিঁড়ে গেছে। সে তখন ইসাবকে তার বাবার মারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য জামা অদল বদলের প্রস্তাব দেয়। ইসাব প্রথমে রাজি হয় না, কেন-না সে জানে অমৃতের জামা ছেঁড়া দেখলে তার বাবা তাকে পিটাবে। তখন অমৃত বলে, “আমার মা আছে।” অর্থাৎ, অমৃতের বাবা তাকে মারলে তার মা তাকে বাঁচাবে, কিন্তু ইসাবের বাবা মারতে শুরু করলে ইসাবকে রক্ষা করার কেউ নেই।

এভাবেই দুই বন্ধুর পারস্পরিক ভালোবাসা, উভয়ের অতলস্পর্শী বন্ধুত্ব গ্রামপ্রধান থেকে শুরু করে পাড়া-পড়শি সকলকে মুগ্ধ করে।

আরও পড়ুন প্রয়োজনে
ধর্ম কবিতার MCQ প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 12 | Dharma Kobitar MCQ Click here
Madhyamik 10 Years Bengali Question Papers | বিগত ১০ বছরের মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্নপত্র Click here
আদরিণী গল্পের MCQ প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 12 তৃতীয় সেমিস্টার । Adorini Golper MCQ Question Answer Click here
তৃতীয় সেমিস্টার বাংলা মডেল প্রশ্নপত্র সেট ২ Click here

Leave a Comment

ফ্রিতে মক টেস্ট দিতে এখানে ক্লিক করুন