আফ্রিকা কবিতার প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 10 | Afrika Kobitar Question Answer

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো। প্রশ্নমান–১
১.১ “এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে”—‘ওরা’ কারা?
(ক) ভারতীয়
(খ) ইউরোপীয়
(গ) আমেরিকান
(ঘ) বর্গীর দল
উত্তরঃ (খ) ইউরোপীয়
১.২ প্রকৃতির দৃষ্টি অতীত জাদু আফ্রিকার মনে যা জাগছিল, তা হল
(ক) বিভীষিকা
(খ) মন্ত্র
(গ) অসন্তোষ
(ঘ) ক্রন্দন
উত্তরঃ (খ) মন্ত্র
১.৩ সৃষ্টিকর্তা আফ্রিকাকে যার নিবিড় পাহারায় বেঁধে ছিলেন, তা হল
(ক) সমুদ্রের
(খ) হিংস্র জন্তুর
(গ) বনস্পতির
(ঘ) বিদেশি সৈন্যের
📚 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির স্টুডেন্টদের জন্য দারুণ সুযোগ!
আপনি কি কম সময়ে ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করতে চান?
পরীক্ষার আগে রিভিশন করতে সমস্যা হচ্ছে?
👉 তাহলে এখনই নিয়ে নিন আমাদের Complete PDF eBook Package
✨ এই eBook-এ যা পাচ্ছেন:
✔ সহজ ভাষায় পুরো সিলেবাস
✔ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
✔ পরীক্ষার জন্য সাজানো নোটস
✔ শর্ট টেকনিক ও সাজেশন
🎯 কার জন্য উপযোগী?
👉 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সকল ছাত্র-ছাত্রী
👉 বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যারা
💡 মোবাইলেই পড়ুন, যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায়!
🔥 মাত্র ২৫ টাকা প্রতিটা সাবজেক্ট
উত্তরঃ (গ) বনস্পতির
১.৪ “সেখানে নিভৃত অবকাশে তুমি/সংগ্রহ করছিলে…” — কী সংগ্রহ করার কথা বলা হয়েছে?
(ক) দুর্বোধ সংকেত
(খ) ভাষাহীন ক্রন্দন
(গ) দৃষ্টি অতীত জাদু
(ঘ) দুর্গমের রহস্য
উত্তরঃ (ঘ) দুর্গমের রহস্য
১.৫ “বিদ্রুপ করছিলে ভীষণকে”—কীভাবে এই বিদ্রুপ করা হয়েছিল?
(ক) তাণ্ডবের দুন্দুভিনিনাদে
(খ) উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে
(গ) রক্তে অশ্রুতে মিশে
(ঘ) বিরূপের ছদ্মবেশে
উত্তরঃ (ঘ) বিরূপের ছদ্মবেশে
১.৬ “শঙ্কাকে চাচ্ছিলে হার মানাতে”
(ক) অতীত জাদুতে
(খ) দুর্গমের রহস্যে
(গ) বিরূপের ছদ্মবেশে
(ঘ) তাণ্ডবের দুন্দুভিনিনাদে
উত্তরঃ (ঘ) তাণ্ডবের দুন্দুভিনিনাদে
১.৭ কালো ঘোমটার নীচে কী অপরিচিত ছিল?
(ক) আদিম রূপ
(খ) মানব রূপ
(গ) হিংস্র রূপ
(ঘ) অমানবিক রূপ
উত্তরঃ (খ) মানব রূপ
১.৮ “চিরচিহ্ন দিয়ে গেল”—চিরচিহ্ন দিয়ে গেল
(ক) লাঞ্ছিত ইতিহাসে
(খ) অপমানিত ইতিহাসে
(গ) সাধারণের মনে
(ঘ) ভবিষ্যতের ভাবনায়
উত্তরঃ (খ) অপমানিত ইতিহাসে
১.৯ কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল
(ক) বিপ্লবের সুর
(খ) সুন্দরের আরাধনা
(গ) দেবতার স্তবগান
(ঘ) পুজোর মন্ত্রধ্বনি
উত্তরঃ (খ) সুন্দরের আরাধনা
১.১০ “প্রদোষকাল ঋক্ষপ্রবাসে রুদ্রবাস”—‘প্রদোষ’ শব্দের অর্থ
(ক) সন্ধ্যা
(খ) ভোর
(গ) রাত্রি
(ঘ) দুপুর
উত্তরঃ (ক) সন্ধ্যা
১.১১ “দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে”—‘মানহারা মানবী’ হল
(ক) বসুধা
(খ) পশ্চিমি দুনিয়া
(গ) ভারতবর্ষ
(ঘ) আফ্রিকা
উত্তরঃ (ঘ) আফ্রিকা
১.১২ “সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী”—‘সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী’
(ক) বিদ্বেষ ত্যাগ করো
(খ) ক্ষমা করো
(গ) ভালোবাসো
(ঘ) মঙ্গল করো
উত্তরঃ (খ) ক্ষমা করো
১.১৩ ‘আফ্রিকা’ কবিতায় “পশ্চিম দিগন্ত” বলতে বোঝানো হয়েছে
(ক) আমেরিকা
(খ) এশিয়া
(গ) ইউরোপ
(ঘ) অস্ট্রেলিয়া
উত্তরঃ (গ) ইউরোপ
১.১৪ আফ্রিকা কীসের ছদ্মবেশে বিদ্রুপ করেছিল?
(ক) অরূপের
(খ) কুরূপের
(গ) বিদ্রুপের
(ঘ) সুদৃশ্যের
উত্তরঃ (গ) বিদ্রুপের
১.১৫ সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই তাদের পাড়ায় পাড়ায় বাজছিল
(ক) পুজোর বাজনা
(খ) ঢাকের বাজনা
(গ) পুজার ঘণ্টা
(ঘ) পুজার মন্ত্র
উত্তরঃ (গ) পুজার ঘণ্টা
১.১৬ কবি যুগান্তের কবিকে দাঁড়াতে বলেছেন
(ক) কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে
(খ) বাষ্পাকুল অরণ্যপথে
(গ) মানহারা মানবীর দ্বারে
(ঘ) প্রদোষকালের ঋক্ষপ্রবাসে
উত্তরঃ (গ) মানহারা মানবীর দ্বারে
১.১৭ আদিম যুগে স্রষ্টার কার প্রতি অসন্তোষ ছিল?
(ক) দয়াময় দেবতার প্রতি
(খ) কবির সংগীতের প্রতি
(গ) নিজের প্রতি
(ঘ) ধরিত্রীর প্রতি
উত্তরঃ (গ) নিজের প্রতি
কমবেশি ২০টি শব্দে প্রশ্নগুলির উত্তর দাও। প্রশ্নমান–১
২.১ “ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, আফ্রিকা”—কে আফ্রিকাকে, কোথা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল?
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতায় সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল প্রাচী ধরিত্রীর বুক থেকে।
২.২ “গর্বে যারা অন্ধ”—গর্বে যারা অন্ধ তাদের প্রকৃতি কেমন ছিল?
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘পত্রপুট’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘আফ্রিকা’ কবিতায় বর্ণিত আধুনিক সভ্যতার গর্বে গর্বিত ইউরোপীয়রা আফ্রিকার সূর্যহারা অরণ্যের অন্ধকারের চেয়েও বেশি অন্ধ হয়ে উঠেছিল।
২.৩ “বিদ্রুপ করছিলে ভীষণকে”—কীভাবে ‘বিদ্রুপ’ করছিল?
উত্তরঃ আফ্রিকা প্রতিকূলতার বেশ ধারণ করে, অর্থাৎ ‘বিরূপের ছদ্মবেশে’ প্রকৃতির ভয়ংকর রূপকে বিদ্রুপ করছিল।
২.৪ “এসো যুগান্তের কবি”—কবির ভূমিকা কী হবে?
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যুগান্তের কবিকে ‘আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে’ অপমানিত আফ্রিকার পাশে দাঁড়ানোর ডাক দিয়েছেন।
২.৫ “এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে”—কারা লোহার হাতকড়ি নিয়ে এল?
উত্তরঃ ‘আফ্রিকা’ কবিতায় অত্যাচারী ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদী শাসকরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে এল। এরা আফ্রিকার মানুষদের বন্দি করে ক্রীতদাসে পরিণত করেছিল।
২.৬ স্রষ্টা নতুন সৃষ্টিকে বারবার বিধ্বস্ত করেছিলেন কেন?
উত্তরঃ নতুন সৃষ্টি তথা পৃথিবীর প্রতি প্রবল অসন্তোষে স্রষ্টা তাকে বারবার বিধ্বস্ত, অর্থাৎ ভেঙে-গড়ে দেখেছিলেন।
২.৭ “সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই”—সমুদ্রপারে তখন কী ঘটছিল?
উত্তরঃ আফ্রিকা যখন অত্যাচারিত, অপমানিত, লাঞ্ছিত তখন সমুদ্রপারে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির পাড়ায় পাড়ায় মন্দিরে পুজোর ঘণ্টা বাজছিল। শিশুরা মায়ের কোলে খেলা করছিল, কবিরা সুন্দরের আরাধনা করছিলেন।
২.৮ “কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল”—কবির সংগীতে কী বেজে উঠেছিল?
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতার আলোচ্য অংশে কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল সুন্দরের আরাধনা।
২.৯ গুপ্ত গহ্বর থেকে পশুরা বেরিয়ে এসে কী ঘোষণা করেছিল?
উত্তরঃ গুপ্ত গহ্বর থেকে পশুরা বেরিয়ে এসে অশুভ ধ্বনিতে ঘোষণা করেছিল দিনের অন্তিম কাল।
২.১০ “এল মানুষ–ধরার দল”—এখানে ‘মানুষ–ধরার দল’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তরঃ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘মানুষ-ধরার দল’ বলতে সাম্রাজ্যবাদী নিষ্ঠুর অত্যাচারী শাসকদের কথা বলা হয়েছে। যারা অত্যাচার, অপমান ও লাঞ্ছনায় আফ্রিকাকে বিধ্বস্ত করেছিল।
আরো পড়ুন : আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি কবিতার প্রশ্ন উত্তর
২.১১ “হায় ছায়াবৃতা”—কাকে, কেন ‘ছায়াবৃতা’ বলা হয়েছে?
উত্তরঃ আফ্রিকাকে ‘ছায়াবৃতা’ বলা হয়েছে। কারণ, আফ্রিকার ভূখণ্ড ছিল বনস্পতির নিবিড় পাহারায় ছায়াচ্ছন্ন।
২.১২ “চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে”—কারা চিরচিহ্ন দিয়ে গেল?
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘আফ্রিকা’ কবিতায় আফ্রিকার ওপর সাম্রাজ্যবাদী শাসকদের অত্যাচার, শোষণ-বঞ্চনার কাহিনি তুলে ধরেছেন। সাম্রাজ্যবাদী শাসকেরা যেন চিরকালের মতো অত্যাচারের চিহ্ন রেখে গিয়েছিল আফ্রিকার অপমানিত ইতিহাসে।
২.১৩ “আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে” কবিকে কোথায় দাঁড়াতে অনুরোধ করা হয়েছে?
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে’ যুগান্তের কবিকে মানহারা মানবীর দ্বারে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কমবেশি ৬০টি শব্দে উত্তর দাও। প্রশ্নমান–৩
৩.১ “এসো যুগান্তের কবি”—কোন পরিস্থিতিতে যুগান্তের কবিকে আহ্বান করা হচ্ছে? তাঁর কাছে কী প্রত্যাশা করা হচ্ছে? ২+১
উত্তরঃ
পরিপ্রেক্ষিত: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘পত্রপুট’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘আফ্রিকা’ কবিতায়, বিশ্বযুদ্ধের উন্মাদনায় যখন প্রায় সমস্ত ঔপনিবেশিক শক্তিগুলি খুব সহজেই তাদের বাহ্যিক নামাবলিকে পরিত্যাগ করে অভ্যন্তরের কদর্য অমানবিক পাশবিক সত্তার প্রকাশ ঘটিয়ে ধ্বংসযজ্ঞে মেতে উঠেছিল, তখন কবি যুগান্তের কবিকে আহ্বান করেছেন।
প্রত্যাশা: আলোচ্য কবিতায় কবির প্রত্যাশা সেই ‘কবি’ সত্তার প্রতীক যিনি নবতর যুগের সূচনা করতে পারেন, যার দরুন বিষযুদ্ধের ভয়াবহতা খানিক রূপ বদল হতে পারে।
৩.২ “দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে”—কাকে দাঁড়াতে বলা হয়েছে? ‘মানহারা মানবী’ বলার তাৎপর্য কী? ১+২
উত্তরঃ
উদ্দিষ্ট: মানবতাবাদী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘পত্রপুট’ কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত ‘আফ্রিকা’ কবিতায়, শুভ চিত্তক ও নতুন আশাবাদের বীজ বপনকারী যুগান্তের কবিকে ‘মানহারা মানবী’ আফ্রিকার পাশে দাঁড়াতে বলা হয়েছে।
‘মানহারা মানবী’ বলার তাৎপর্য: ঔপনিবেশিক শক্তি তার উগ্র জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশাল আফ্রিকা নামক ভূখণ্ডটিকে করে তুলেছিল ক্রীতদাস সমতুল্য। সভ্যতা যখন তার উজ্জ্বল সৌরিকরণ ছড়িয়ে চলেছে সারা বিশ্বে, সেই প্রেক্ষাপটে একাকী মানবীস্বরূপা আফ্রিকা লোহার হাতকড়ির নাগপাশে আবদ্ধ হয়ে কেবলই হয়ে চলেছিল অত্যাচারিত ও ভৃত্য। বাকি আর সকল ভূখণ্ড যখন সোনার গৌরববিত সেই প্রেক্ষাপটে হিংস্র লোলুপতার শিকার এই ভূখণ্ডটি। একাকী অসহায় ও সদ্য বিকাশের ফলে ঔপনিবেশিক শক্তির দুষ্ট হিংস্র থাবার শিকার হয়ে ওঠে সে আর এই প্রসঙ্গটিই আফ্রিকা মানবীর হতমানের জন্য দায়ী।
৩.৩ “হায় ছায়াবৃতা”—‘ছায়াবৃতা’ কে? তাকে ‘ছায়াবৃতা’ বলা হয়েছে কেন? ১+১
উত্তরঃ
ছায়াবৃতা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত কবিতা ‘আফ্রিকা’-য় আফ্রিকাকেই ‘ছায়াবৃতা’ বলে কবি সম্বোধন করেছেন।
‘ছায়াবৃতা’ সম্বোধনের কারণ: আফ্রিকাতে নিরক্ষীয় চিরহরিৎ বিশাল অরণ্যক্ষেত্র রয়েছে। বনস্পতির নিবিড় পাহারায় আফ্রিকা বন্দি। সুবিশাল বনস্পতি ডালপালা বিস্তার করে এমন এক ক্যানোপি বা চাঁদোয়ার সৃষ্টি করেছে যে তা সূর্যের আলোর কাছেও দুর্ভেদ্য। আফ্রিকা তাই এই বনস্পতির ছায়ায় মোড়া। আবার অন্য অর্থে, আফ্রিকাতে প্রবেশ করেনি সভ্য জগতের আলো। এ কারণেই রবীন্দ্রনাথ আফ্রিকাকে ‘ছায়াবৃতা’ সম্বোধন করেছেন।
৩.৪ “উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে”—উদ্ভ্রান্ত আদিম যুগে কী ঘটনা ঘটেছিল? ১+২
উত্তরঃ
উদ্ভ্রান্ত আদিম যুগের ঘটনা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতা অনুযায়ী উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে পৃথিবী আজকের মতো সুস্থিত ছিল না। অস্থির সেই পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত চলছিল ভাঙা-গড়ার খেলা। সৃষ্টিকর্তা নিজেই নিজের সৃষ্টি নিয়ে বিভ্রান্ত ছিলেন। নিজের সৃষ্টিকে নিখুঁত রূপদান করতে বারেবারেই তিনি গড়ে তোলা জিনিসকে ভেঙে চুরমার করেছেন, আবার পরে অতি যত্নে নতুন করে তা নির্মাণ করতে মগ্ন হয়ে পড়েছেন।
৩.৫ “বাঁধলে তোমাকে বনস্পতির নিবিড় পাহারায়”—কে বাঁধল? বনস্পতির নিবিড় পাহারা বলা হয়েছে কেন? ১+২
উত্তরঃ
বাঁধনদাতা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতায় প্রকৃতি আফ্রিকাকে বেঁধেছিল ‘বনস্পতির নিবিড় পাহারায়’।
বনস্পতির নিবিড় পাহারা বলার কারণ: পৃথিবীর প্রাচ্য ভূখণ্ড, অর্থাৎ এশিয়া মহাদেশ থেকে সমুদ্র কর্তৃক বিচ্ছিন্ন হয়ে আফ্রিকা এক পৃথক সত্তা নিয়ে অবস্থান করতে থাকে। আফ্রিকার বুকে সৃষ্টি হয় নিরক্ষীয় চিরহরিৎ গহন অরণ্য। এই গভীর অরণ্যের ছত্রছায়া ভেদ করে সূর্যের আলো প্রবেশ করতে অক্ষম। এই প্রাকৃতিক ঘটনাকেই কবি অপূর্ব কাব্যিক মহিমায় প্রকাশ করেছেন।
কমবেশি ১৫০ শব্দে প্রশ্নের উত্তর দাও। প্রশ্নমান–৫
৪.১ “এল মানুষ–ধরার দল”—কোথায় এল? ‘মানুষ–ধরার দল’ এসে কী করেছিল? ১+৪
উত্তরঃ
আগমনের স্থল: বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘আফ্রিকা’ কবিতায় বলেছেন যে, ‘মানুষ-ধরার দল’, অর্থাৎ ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক ফ্যাসিস্ট শক্তি উপনিবেশ গড়ে তোলার নেশায় প্রাচীন ভূমি আফ্রিকায় এল।
কার্যকলাপ: ফ্যাসিবাদী ইউরোপীয় শক্তি ছিল বর্বর, লোভী ও অত্যাচারী। তারা প্রাচী ধরিত্রীর বিবিধ সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চলকে কুক্ষিগত করে তাদের বুকে সঞ্চিত অগাধ সম্পদের লোভে। আফ্রিকাও ছিল বিপুল প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদে ভরপুর। তাই তার লোভে ইউরোপীয় শক্তি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা হরণ করে গড়ে তোলে উপনিবেশ। ‘সভ্যতার বর্বর লোভ’-এ চলে শোষণ, অত্যাচার ও লুণ্ঠন। যে আফ্রিকা একদিন ছিল সভ্য সমাজের কাছে উপেক্ষিত, সেই আফ্রিকাই ওপনিবেশিকদের কাছে হয়ে ওঠে সম্পদ আহরণের লীলাভূমি।
সাম্রাজ্যবাদীরা গ্রাস করতে থাকে আফ্রিকার কালো মানুষদের জীবনের উচ্চ্বলতা ও সারল্য। লোহার হাতকড়িতে বন্দি হয়ে তারা পরিণত হয় ক্রীতদাসে। তাদের পরিশ্রম নিংড়ে বেড়েই চলতে থাকে ঔপনিবেশিকদের প্রতিপত্তি। নিজেদের অমানবিকতার উলঙ্গ প্রকাশ ঘটিয়েছিল তথাকথিত সভ্য ইউরোপীয়রা। অত্যাচারী ফ্যাসিস্ট শক্তি আফ্রিকার প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ লুণ্ঠনের পাশাপাশি দিনের পর দিন তার নিজস্ব সভ্যতা-সংস্কৃতিকেও ধ্বংস করে। তারা রচনা করে সভ্যতার ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।
৪.২ “দাঁড়াও ওই মানহারা মানবীর দ্বারে;/বলো ‘ক্ষমা করো’”—‘মানহারা মানবী’ কথাটি ব্যাখ্যা করো। কেন তার কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা বলা হয়েছে? ২+৩
উত্তরঃ
‘মানহারা মানবী’: ‘মানহারা মানবী’ বলতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় অত্যাচারিত, লাঞ্ছিত ও অপমানিত আফ্রিকাকে বোঝানো হয়েছে। সভ্য জগতের তথাকথিত সভ্যতার আড়ালে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি আফ্রিকার ওপর যে অমানবিক অত্যাচার চালিয়েছিল, তাতে তার মান-সম্মান নষ্ট হয়েছিল।
ক্ষমা চাওয়ার কারণ: একদিকে নিরুপদ্রব শান্তির জীবন এবং অপরদিকে বিপন্ন মানবাত্মা কবিকে মর্মাহত করে। ক্রান্তদর্শী কবি তাঁর মানসচক্ষে দেখতে পান সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আসন্ন পতন। তাই তিনি যুগান্তের, অর্থাৎ নতুন যুগের কবিকে আহ্বান করেন। ‘যুগান্তের কবি’ যেমন বিশ্বের সমস্ত মানুষের প্রতিনিধি হয়ে আফ্রিকার ওপর ঘটে যাওয়া নিলজ্জ অত্যাচারের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা করবেন, তেমনি আফ্রিকাও তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়ে বিশ্বে শান্তির বাতাবরণ রচনায় দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা গ্রহণ করবে। উপনিষদের বাণী প্রচারক ও উপনিষদিক মন্ত্রে দীক্ষিত রবীন্দ্রনাথ এভাবেই চেয়েছেন পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পতনের পর যুগান্তে ভাবীকালের কবি বুদ্ধদেবের ‘মা হিংসী’ বাণীর পুনরায় প্রয়োগ ঘটাবেন—এমনটাই রবীন্দ্রনাথের একান্তিক ইচ্ছা। রগোন্মত্ত পৃথিবীর হিংস্র প্রলাপের মধ্যে সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী হিসেবে উচ্চারিত হবে অহিংসার এই শাশ্বতবাণী।
৪.৩ “সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী”—কোন্ প্রসঙ্গে এই উক্তি? উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। ২+৩
উত্তরঃ
প্রসঙ্গ: সভ্যতার জন্মলগ্ন থেকেই আফ্রিকা সভ্যতা-বিচ্ছিন্ন, দুর্গম, অরণ্যসংকুল, অন্ধকারাচ্ছন্ন এক মহাদেশ। সভ্য জগতের উপেক্ষায় সে তার ঐতিহ্য-সংস্কৃতির কোনো মূল্য পায়নি। পরে আবার সভ্যতার বর্বর লোভ ও আবিল দৃষ্টি পড়ে আফ্রিকার সেই প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদের দিকেই—এমনকি এর আদিম অধিবাসীদের কালো মানুষদের নিয়ে চলে দাস ব্যবসা। আফ্রিকার মানুষদের স্বেদ-অশ্রু-রক্তে পিচ্ছিল হয় আফ্রিকার অরণ্যপথ। এই অত্যাচার-অনাচার যে-কোনো বিবেকবান, শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকেই লজ্জা দেবে।
তাৎপর্য: একদিকে নিরুপদ্রব শান্তির জীবন ও অপরদিকে বিপন্ন মানবাত্মা কবিকে মর্মাহত করে। ক্রান্তদর্শী কবি তাঁর মানসচক্ষে দেখতে পান সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আসন্ন পতন। তাই তিনি যুগান্তের কবিকে আহ্বান করেন। যুগান্তের কবি যেমন বিশ্বের সমস্ত মানুষের প্রতিনিধি হয়ে আফ্রিকার ওপর ঘটে যাওয়া নির্লজ্জ অত্যাচারের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা করবেন, তেমনি আফ্রিকাও তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়ে বিশ্বশান্তির বাতাবরণ রচনায় দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা গ্রহণ করবে। উপনিষদের বাণী প্রচারক ও উপনিষদিক মন্ত্রে দীক্ষিত রবীন্দ্রনাথ এভাবেই পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির পতনের পর যুগান্তে ভাবীকালের কবি বুদ্ধদেবের ‘মা হিংসী’ বাণীর পুনরায় প্রয়োগ ঘটাবেন—এমনটাই রবীন্দ্রনাথের একান্তিক ইচ্ছা। রগোন্মত্ত পৃথিবীর হিংস্র প্রলাপের মধ্যে সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী হিসেবে উচ্চারিত হবে অহিংসার এই শাশ্বতবাণী।
৪.৪ “এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে”—‘ওরা’ বলতে কাদের কথা বলা হয়েছে? ‘ওরা’ এসে কোন পরিস্থিতিতে কবিতার অন্তর্ভুক্ত করে কবিতায় অনুসরণে লেখো। ১+৪
উত্তরঃ
‘ওরা’: সাম্রাজ্যবাদবিরোধী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতা থেকে গৃহীত উদ্ধৃতাংশে ‘ওরা’ বলতে সাম্রাজ্যবাদী ফ্যাসিস্ট শক্তির কথা বলা হয়েছে, যারা আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল।
পরিস্থিতি ও ওদের আচরণ: ফ্যাসিবাদী শক্তি শ্বেত ইউরোপীয়রা বা হিংস্রপিপাসু আগ্রাসন করে। এই ঘটনাই ছিল ‘আফ্রিকা’ কবিতা রচনার প্রেক্ষাপট। আফ্রিকা ছিল বিপুল প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদে ভরপুর। তাই লোভে ইউরোপীয় শক্তি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা হরণ করে গড়ে তোলে উপনিবেশ। ‘সভ্যতার বর্বর লোভ’-এ চলে শোষণ, অত্যাচার ও লুণ্ঠন।
যে আফ্রিকা একদিন ছিল সভ্য সমাজের কাছে উপেক্ষিত, সেই আফ্রিকাই উপনিবেশিকদের কাছে হয়ে ওঠে সম্পদ আহরণের লীলাভূমি। সাম্রাজ্যবাদীরা গ্রাস করতে থাকে আফ্রিকার কালো মানুষদের জীবনের উচ্ছ্বলতা ও সারল্য। লোহার হাতকড়িতে বন্দি হয়ে তারা পরিণত হয় ক্রীতদাসে। তাদের পরিশ্রম নিংড়ে বেড়ে চলতে থাকে উপনিবেশিকদের প্রতিপত্তি। নিজেদের অমানবিকতার উলঙ্গ প্রকাশ ঘটিয়েছিল তথাকথিত সভ্য ইউরোপীয়রা। অত্যাচারী ফ্যাসিস্ট শক্তি আফ্রিকার প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ লুণ্ঠনের পাশাপাশি দিনের পর দিন তার নিজস্ব সভ্যতা-সংস্কৃতিকেও ধ্বংস করে। তারা রচনা করে সভ্যতার ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের প্রবেশচিত্রই কবি আলোচ্য পঙক্তিতে অঙ্কন করেছেন।
৪.৫ “সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী”—কোন্ প্রসঙ্গে এই উক্তি? উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ
প্রসঙ্গ: কবি শ্রেষ্ঠ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি সাম্রাজ্যবাদী শ্বাপদ শক্তিকে লেখা এক খোলা চিঠি। যেখানে কবি তুলে ধরেছেন ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদীদের দ্বারা আফ্রিকার শোষণ ও লাঞ্ছনার এক সকরুণ ছবি। তুলে ধরেছেন ক্রীতদাসে পরিণত হওয়া আফ্রিকা ও তার অধিবাসীদের রক্তাক্ত হৃদয়ের রক্তিম হাহাকার। আর মানবতা লুণ্ঠনকারী সভ্যের সীমাহীন বর্বরতায় মানবী আফ্রিকার মান হারানোর ইতিহাস। অপমানিতা আফ্রিকা মান হারিয়েছে বলেই ‘মানহারা’ আর কবি করুণায় জর্জরিত সত্তা আর্ত হয়ে সে মানবী। তাই আফ্রিকা মানহারা মানবী। এই বেদনা বিধুর পরিস্থিতিতেই কবি এক যুগান্তের কবিকে প্রত্যাশা করেছেন, যিনি সাম্রাজ্যবাদীদের হয়ে মানহারা মানবীর কাছে আনত ভঙ্গিতে বলবেন—‘ক্ষমা করো’।
তাৎপর্য: মানবদরদি কবির বিশ্বাস মানবতার অপমান আর হিংস্রতার ক্রম অগ্রাসন মানবতার শেষ কথা হতে পারে না। কবির আরও বিশ্বাস হিংসাকে প্রতিহিংসা দিয়ে নয়, ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি দিয়েই দেখা উচিত। তাই শেষ পর্যন্ত অপমানিতা আফ্রিকার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ‘যুগান্তের কবিকে’ আহ্বান জানিয়েছেন। আফ্রিকার সম্মান ফিরিয়ে দিতে তাকে সাম্রাজ্যবাদীদের হয়ে ক্ষমার মন্ত্র উচ্চারণ করতে বলেছেন। আসলে রবীন্দ্রমনে এই ভাবনা বারবার গুঞ্জরিত হয়েছে যে, সভ্যতার বর্বরতাকে ঢাকা দিতে পারে ক্ষমার মন্ত্র। তবেই শাশ্বত মানবধর্মের সত্যকার জাগরণ সম্ভব। তাই তিনি ‘ক্ষমা করো’ পদগুচ্ছের সোচ্চার উচ্চারণকে মনে করেন—‘সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী’।