![]() |
জোটনিরপেক্ষ নীতি কী ছিল? জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের উদ্দেশ্য আলোচনা করো। |
জোটনিরপেক্ষ নীতি
জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের উদ্দেশ্যসমূহ
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা প্রশমন: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিবদমান দুই গোষ্ঠী- সোভিয়েত রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই বিশ্বশান্তির পক্ষে বিপদ ডেকে আনে। এসময় ভারত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা প্রশমন ও বিশ্বশান্তির পক্ষে এক বিকল্প নির্জোট গোষ্ঠী গঠনের নীতি গ্রহণ করে।
বর্ণীবষম্যবাদের বিরোধিতা এবং সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বন্ধ করা: সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদ উভয়ই বিশ্বশান্তির পক্ষে ভয়াবহ, তাই জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের অগ্রদূত নেহরু উপলব্ধি করেছিলেন যে-সাম্রাজ্যবাদী শাসনের অবসান না হলে বিশ্বশান্তি অলীক কল্পনাই থেকে যাবে। তাই বেলগ্রেড সম্মেলনে (১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ) বর্ণবৈষম্যবাদের বিরোধিতার নীতি গৃহীত হয়।
ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম: জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সকল জাতির আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের স্বীকৃতি, আঞ্চলিক অখণ্ডতা প্রতিষ্ঠা, বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকার নীতি গ্রহণ এবং ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে সমর্থন জানানো ইত্যাদি।
বিশ্বশান্তি রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ: জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের অপর একটি মুখ্য উদ্দেশ্য হল- বিশ্বশান্তি রক্ষা ও জাতীয় মুক্তি আন্দোলন শক্তিশালী করার জন্য শান্তিপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ।