লেখায় সাহিত্য
আনন্দমঠ: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘আনন্দমঠ’ জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও স্বাদেশিকতার বীজমন্ত্র ছিল। বঙ্গদর্শন পত্রিকায় তিনি ‘বন্দেমাতরম’ সংগীতটি প্রকাশ করেন, যা পরে ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে সংযুক্ত হয়। ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে তাঁর ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসটি প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসের মধ্য দিয়ে যুবসমাজকে পরাধীনতার শৃঙ্খলমোচনের জন্য জাতীয়তাবোধের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করেন বঙ্কিমচন্দ্র। ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন, ভারতের বিকাশ হবে দেশীয় ঐতিহ্য অনুসরণ করে। এই উপন্যাসের দেশপ্রেম ও আত্মোৎসর্গের আদর্শ বিপ্লবীদের প্রেরণা জোগায়।
বিদেশি ইংরেজ শাসনে নির্যাতিত, হীনম্মন্যতায় আক্রান্ত ভারতবাসীকে জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ অবদান রাখেন। তিনি দেশবাসীকে অভীঃ এবং উত্তিষ্ঠিত জাগ্রত মন্ত্র দেন। তিনি সব দেবদেবীকে বাদ দিয়ে একমাত্র ভারতমাতাকে আরাধ্যা দেবী করতে বলেন। যুবশক্তিকে নিজ বলে বলীয়ান করতে তিনি বলেন, ‘গীতাপাঠ অপেক্ষা ফুটবল খেলার দ্বারা স্বর্গের কাছাকাছি যাওয়া যায়।’ তাঁর বাণী ছিল বিপ্লবী ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রেরণার উৎস। তাঁর বাণী হতাশাগ্রস্ত ভারতীয়দের শিরায় মাদকতার সঞ্চার করে। ভারতবাসীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস জেগে ওঠে। এজন্য আর জি প্রধান বিবেকানন্দকে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের জনক বলে অভিহিত করেছেন।
এই উপন্যাসে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত বাঙালি সমাজের একটি সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবধারা, বিক্ষোভ-আন্দোলন, দেশাত্মবোধের প্রথম স্ফুরণের চাঞ্চল্য, ধর্ম, ভাবাবেগ স্থান পেয়েছে। গোরা উপন্যাসের সূচনা ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার মধ্য দিয়ে এবং সমাপ্তি ধর্ম ও বিশ্বমানবতার মধ্য দিয়ে। এখানেই জাতীয়তাবোধের বিকাশে ‘গোরা’ উপন্যাসের সার্থকতা।
রেখায় / চিত্রকলা
📚 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির স্টুডেন্টদের জন্য দারুণ সুযোগ!
আপনি কি কম সময়ে ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করতে চান?
পরীক্ষার আগে রিভিশন করতে সমস্যা হচ্ছে?
👉 তাহলে এখনই নিয়ে নিন আমাদের Complete PDF eBook Package
✨ এই eBook-এ যা পাচ্ছেন:
✔ সহজ ভাষায় পুরো সিলেবাস
✔ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
✔ পরীক্ষার জন্য সাজানো নোটস
✔ শর্ট টেকনিক ও সাজেশন
🎯 কার জন্য উপযোগী?
👉 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সকল ছাত্র-ছাত্রী
👉 বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যারা
💡 মোবাইলেই পড়ুন, যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায়!
🔥 মাত্র ২৫ টাকা প্রতিটা সাবজেক্ট
ভারতমাতা : জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘ভারতমাতা’ চিত্রটির মাধ্যমে বিশ শতকে জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রসার ঘটান। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে অঙ্কিত ‘বঙ্গমাতা’ চিত্রটিই স্বদেশি আন্দোলনের আবহে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে ‘ভারতমাতা’ রূপে খ্যাতি লাভ করে।
‘ভারতমাতা’ হলেন ভারতবর্ষের প্রতীক। তিনি গৈরিক বসন পরিহিতা এবং চতুর্ভুজা। চার হাতে তাঁর ধানের গোছা, সাদা কাপড়, পুথি ও জপমালা। অর্থাৎ তিনি তাঁর সন্তানদের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা ও দীক্ষা প্রদান করেন। ভারতমাতা সবুজ পৃথিবীর উপর দণ্ডায়মানা, পায়ের কাছে চারটি পদ্মফুল এবং পিছনে নীল আকাশ।
ব্যঙ্গচিত্র: গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যঙ্গচিত্রগুলিও জাতীয়তাবোধ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাঁর অঙ্কিত রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যামূলক ব্যঙ্গচিত্রগুলির মাধ্যমে তিনি ঔপনিবেশিক সমাজব্যবস্থার সমালোচনা করেছিলেন। অদ্ভুতলোক, বিরূপ বজ্র, নব হুল্লোড়, State Funeral of H.E. Old Bengal ইত্যাদি এক্ষেত্রে বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
