নদীর বিদ্রোহ গল্পের প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 10 | Nodir Bidroho Golper Question Answer

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো। প্রশ্নমান-১
১.১ ‘অবিরত বৃষ্টি হইয়া… বর্ষণ থামিয়াছে’- বৃষ্টি হয়েছিল
(ক) তিনদিন
(খ) চারদিন
(গ) পাঁচদিন
(ঘ) ছয়দিন
উত্তর: (গ) পাঁচদিন ✓
১.২ স্টেশনের কাছে নদীটিকে নদেরচাঁদ চেনে
(ক) দু-বছর ধরে
(খ) তিন বছর ধরে
(গ) চার বছর ধরে
(ঘ) পাঁচ বছর ধরে
উত্তর: (গ) চার বছর ধরে ✓
১.৩ ‘জলপ্রবাহকে আজ তাহার জীবন্ত মনে হইতেছিল’
(ক) প্রবল বর্ষণের জন্য
(খ) ভয়ংকরতার জন্য
(গ) বিরহ বেদনার জন্য
(ঘ) উন্মত্ততার জন্য
উত্তর: (ঘ) উন্মত্ততার জন্য ✓
১.৪ ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি
(ক) তিনটে পঁয়তাল্লিশের
(খ) চারটে পঁয়তাল্লিশের
(গ) পাঁচটা পঁয়তাল্লিশের
(ঘ) ছটা পঁয়তাল্লিশের
উত্তর: (খ) চারটে পঁয়তাল্লিশের ✓
১.৫ অবিরত বর্ষণের ফলে নদীকে নদেরচাঁদ কতদিন দেখতে পায়নি?
(ক) পাঁচ দিন
(খ) তিন দিন
(গ) সাত দিন
(ঘ) চার দিন
উত্তর: (ক) পাঁচ দিন ✓
১.৬ নদেরচাঁদ ছিল একজন
(ক) ট্রেনের চালক
(খ) লাইটম্যান
(গ) স্টেশনমাস্টার
(ঘ) মাস্টারমশাই
উত্তর: (গ) স্টেশনমাস্টার ✓
১.৭ কোন ট্রেনের ধাক্কায় নদেরচাঁদ মারা গিয়েছিল?
(ক) ৩ নং ডাউন প্যাসেঞ্জার
(খ) ৭ নং ডাউন প্যাসেঞ্জার
(গ) ৩ নং আপ প্যাসেঞ্জার
(ঘ) ৫ নং ডাউন প্যাসেঞ্জার
উত্তরঃ (খ) ৭ নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ✓
১.৮ নদেরচাঁদের গ্রামের নদীটি শুকিয়ে যাওয়ার কারণ
(ক) অলৌকিক
(খ) অতিবর্ষণ
(গ) ক্ষীণ স্রোত
(ঘ) অনাবৃষ্টি
উত্তর: (ঘ) অনাবৃষ্টি ✓
📚 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির স্টুডেন্টদের জন্য দারুণ সুযোগ!
আপনি কি কম সময়ে ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করতে চান?
পরীক্ষার আগে রিভিশন করতে সমস্যা হচ্ছে?
👉 তাহলে এখনই নিয়ে নিন আমাদের Complete PDF eBook Package
✨ এই eBook-এ যা পাচ্ছেন:
✔ সহজ ভাষায় পুরো সিলেবাস
✔ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
✔ পরীক্ষার জন্য সাজানো নোটস
✔ শর্ট টেকনিক ও সাজেশন
🎯 কার জন্য উপযোগী?
👉 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সকল ছাত্র-ছাত্রী
👉 বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যারা
💡 মোবাইলেই পড়ুন, যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায়!
🔥 মাত্র ২৫ টাকা প্রতিটা সাবজেক্ট
১.৯ “বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের।”-তার ভয়ের কারণ
(ক) অন্ধকার
(খ) বৃষ্টি
(গ) নদীর প্রতিহিংসা
(ঘ) নদীর স্ফীতি
উত্তর: (ঘ) নদীর স্ফীতি ✓
১.১০ ‘এতকাল নদেরচাঁদ গর্ব অনুভব করিয়াছে।’ কীসের জন্য গর্ব?
(ক) নূতন রং করা ব্রিজটির জন্য
(খ) দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টেশনটির জন্য
(গ) নদীকে ভালোবাসার জন্য
(ঘ) দেশের নির্জীব নদীটির জন্য
উত্তর: (ক) নূতন রং করা ব্রিজটির জন্য ✓
১.১১ স্টেশন থেকে নদীর উপরকার ব্রিজের দূরত্ব হল
(ক) পাঁচ মাইল
(খ) এক মাইল
(গ) পাঁচ কিলোমিটার
(ঘ) এক কিলোমিটার
উত্তরঃ (খ) এক মাইল ✓
১.১২ নদীকে দেখতে নদেরচাঁদ কোথায় বসেছিল?
(ক) ধারক স্তম্ভের শেষ প্রান্তে
(খ) ধারক স্তম্ভের পাশে
(গ) ধারক স্তম্ভের মাঝে
(ঘ) ব্রিজের শেষে
উত্তরঃ (ক) ধারক স্তম্ভের শেষ প্রান্তে ✓
১.১৩ বউকে চিঠি লিখতে নদেরচাঁদের সময় লেগেছিল
(ক) দু-দিন
(খ) দু-ঘণ্টা
(গ) একদিন
(ঘ) তিন দিন
উত্তরঃ (ক) দু-দিন ✓
১.১৪ চোখের পলকে কী অদৃশ্য হয়ে গেল?
(ক) বইখানা
(খ) চিঠিখানা
(গ) পত্রিকাটি
(ঘ) খাতাখানি
উত্তরঃ (খ) চিঠিখানা ✓
কমবেশি ২০টি শব্দে প্রশ্নগুলির উত্তর দাও। প্রশ্নমান-১
২.১ নদেরচাঁদ গল্পে উল্লিখিত স্টেশনটিতে কত দিন স্টেশনমাস্টারি করছে?
উত্তরঃ নদেরচাঁদ উল্লিখিত স্টেশনটিতে স্টেশনমাস্টারি করেছিল চার বছর।
২.২ ‘একটু মমতা বোধ করিল বটে,’-কে, কখন মমতাবোধ করেছিল?
উত্তরঃ প্রবল জলরাশি নদীখাতে প্রবাহিত হতে দেখে আনন্দে আত্মহারা নদেরচাঁদ নদীর সঙ্গে খেলা করার জন্য যখন স্ত্রীকে লেখা চিঠির পৃষ্ঠাগুলি নদীস্রোতে ফেলছিল তখন চিঠিটির প্রতি তার মনে মমত্ব উদিত হয়।
২.৩ ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে উল্লিখিত প্যাসেঞ্জার ট্রেনটির সময় কী ছিল?
উত্তরঃ ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে উল্লিখিত প্যাসেঞ্জার ট্রেনটির সময় ছিল বিকেল চারটে পঁয়তাল্লিশ।
২.৪ ‘লোভটা সে সামলাইতে পারিল না।’ কার, কোন্ লোভের কথা বলা হয়েছে?
উত্তরঃ নদেরচাঁদের নদীর সঙ্গে খেলা করার লোভের কথা বলা হয়েছে।
২.৫ ‘চিঠি পকেটেই ছিল।’- কোন্ চিঠির কথা বলা হয়েছে?
উত্তরঃ বর্ষার সঙ্গে বিরহের সুর মিলিয়ে বাড়ি থেকে বহুদূরে কর্তব্যরত স্টেশনমাস্টার নদেরচাঁদ তার বউকে পাঁচ পাতার একটি চিঠি লিখেছিল। এখানে সেই চিঠির কথা বলা হয়েছে।
২.৬ “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।”-নদীর বিদ্রোহের কারণ কী ছিল?
উত্তরঃ নদীর ওপরের ব্রিজটি ভেঙে, দুপাশে মানুষের গড়া বাঁধ চুরমার করে স্বাভাবিক গতিতে প্রবাহিত হওয়ার পথ করে নিতে নদী বিদ্রোহ করে।
২.৭ “নদীকে এভাবে ভালোবাসিবার একটা কৈফিয়ত নদেরচাঁদ দিতে পারে।”-নদেরচাঁদের কৈফিয়তটি কী?
উত্তরঃ নদেরচাঁদের নদীর প্রতি আকর্ষণ শিশুসুলভ পাগলামি হলেও এর পিছনে তার একটা নিজস্ব যুক্তি ছিল, যাকে কৈফিয়তও বলা যায়। কারণ, তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা নদীর ধারেই, তাই তার নদীর প্রতি এই ভালোবাসা বাল্যকাল থেকেই।
২.৮ “এক একখানি পাতা ছিঁড়িয়া দুমড়াইয়া মোচড়াইয়া জলে ফেলিয়া দিতে লাগিল।”- উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কীসের পাতা জলে ফেলতে লাগল?
উত্তর: উদ্দিষ্ট ব্যক্তি, অর্থাৎ নদেরচাঁদ তার স্ত্রীকে লেখা পাঁচ পাতার চিঠি থেকে এক-একটা পাতা জলে ফেলতে লাগল।
২.৯ নদীকে বিশ্বাস নেই কেন?
উত্তরঃ নদীর অবস্থা ভয়ংকর ছিল। নদী যেন রোষে ক্ষোভে উন্মত্ত ছিল। নদেরচাঁদ নদী থেকে কয়েক হাত উঁচুতেই বসেছিল। তাই বর্ষার জলে ফুলে ফেঁপে ওঠা নদী যে-কোনো মুহূর্তেই বিপদ ঘটাতে পারে। এই জন্য নদেরচাঁদের নদীকে বিশ্বাস নেই বলে মনে হয়েছিল।
২.১০ “নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হইয়া গেল।”-তার স্তম্ভিত হওয়ার কারণ কী?
উত্তরঃ পাঁচদিন আগে যে নদী ঘোলা জলে চঞ্চল ছিল আজ সেই নদী যেন পাগল হয়ে উঠেছে। তার চারদিক গাঢ়তর ঘোলা জল এবং ফেনায় পরিপূর্ণ হয়ে আছে। নদীর এই ভয়ংকর ফেনিল রূপ দেখে নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হয়ে যায়।
২.১১ পুরোনো চিঠিটি নদীর জলস্রোতে ফেলার পর নদেরচাঁদের কী মনে হয়েছিল?
উত্তরঃ নদেরচাঁদ পকেট থেকে অনেকদিন আগের পুরোনো একটা চিঠি বার করে স্রোতের মধ্যে ছুড়ে দেয়। চোখের পলকে তা অদৃশ্য হয়ে যায়। এই উন্মত্ততার জন্যই জলপ্রবাহকে সেদিন তার জীবন্ত মনে হয়েছিল।
২.১২ “আজ তার মনে হইল কী প্রয়োজন ছিল ব্রিজের?”- কেন এমন মনে হয়েছিল?
উত্তরঃ আগে নদেরচাঁদ নদীর ওপর তৈরি নতুন রং করা ব্রিজটিকে নিয়ে গর্ব অনুভব করলেও এখন তার মনে হয় ব্রিজটি যেন নদীর পায়ের শিকল। ব্রিজের থামগুলি যেন নদীর জলপ্রবাহকে বাধা দিচ্ছে। তাই নদীর স্বাভাবিক ছন্দে বাধা সৃষ্টিকারী সেই ব্রিজটির আর কোনো প্রয়োজন নেই বলে তার মনে হয়।
২.১৩ ‘নদেরচাঁদ গর্ব অনুভব করিয়াছে’-নদেরচাঁদ কীসের জন্য গর্ব অনুভব করেছে?
উত্তরঃ স্টেশনের কাছে নতুন রং করা ব্রিজটির জন্য নদেরচাঁদ দীর্ঘকাল গর্ব অনুভব করেছে।
২.১৪ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম কী?
উত্তরঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।
২.১৫ ‘নদেরচাঁদ সব বোঝে’-নদেরচাঁদ কী বোঝে?
উত্তরঃ নদেরচাঁদের মধ্যে নদীর প্রতি এক অস্বাভাবিক ভালোবাসা, এক অদম্য পাগলামি বর্তমান। নদেরচাঁদের মতো স্টেশনমাস্টার, যার তত্ত্বাবধানে অসংখ্য ট্রেন চলাচল নির্ভরশীল তার ক্ষেত্রে এমন পাগলামি সত্যিই বেমানান-এ কথাই সে বোঝে।
আরো পড়ুন : জ্ঞানচক্ষু গল্পের প্রশ্ন উত্তর
২.১৬ “পাঁচদিন নদীকে দেখা হয় নাই।”-এই না দেখার কারণ কী?
উত্তরঃ পাঁচদিন অবিরাম বর্ষণের জন্য নদেরচাঁদের ওই কদিন নদীকে দেখা হয়নি।
২.১৭ জলপ্রবাহকে আজ নদেরচাঁদের জীবন্ত মনে হয়েছিল কেন?
উত্তরঃ বৃষ্টির জল পেয়ে নদীর জলপ্রবাহ উন্মত্ত হয়ে উঠেছিল। আর এই উন্মত্ততার জন্যই নদেরচাঁদের নদীর জলপ্রবাহকে জীবন্ত বলে মনে হয়েছিল।
প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কমবেশি ৬০টি শব্দে উত্তর দাওঃ প্রশ্নমান-৩
৩.১ “বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের।”-নদেরচাঁদ কে? তার ভয় লাগার কারণ কী? ১+২
নদেরচাঁদের পরিচয়: ‘নদীর বিদ্রোহ’ রচনাংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র নদেরচাঁদ এক স্টেশনের স্টেশনমাস্টার।
ভয় পাওয়ার কারণ: কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ রচনা অনুসারে জানা যায় যে নদী জলধারায় পরিপুষ্ট হয়ে উন্মত্ত হয়ে উঠেছে, তাকে কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যায় না। যদিও নদেরচাঁদ ইট, সুরকি, সিমেন্ট, লোহালক্কড়ের ব্রিজের উপর নিশ্চিন্তে বসে থেকেছে তবুও এই নদীকে আজ সে আর বিশ্বাস করতে পারছে না।
ব্রিজের কাছে এসে নদেরচাঁদ নদীর উন্মত্ততা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যায়। নদীর উদ্দাম জলস্রোত ব্রিজের ধারকস্তম্ভে বাধা পেয়ে ফেনিল আবর্ত রচনা করছিল। নদীর এই রূপ দেখে নদেরচাঁদের মনে হয় নদী যেন তার বন্দিদশা থেকে মুক্ত হতে চাইছে। ব্রিজকে যেন সে ভেঙে চুরমার করে দিতে চাইছিল। নদীর এই উন্মাদিনী রূপ দেখে তার হৃদয়ে ভয়ের সঞ্চার হয়েছিল।
৩.২ “… গভর্নমেন্টের কত টাকাই না এরা বুনো হাঁসের পিছনে ছুটোছুটি করে অপব্যয় করলে।”-এরা কারা? বুনো হাঁসের পিছনে ছোটার কথা বলা হয়েছে কেন বুঝিয়ে ১+২
এরা: ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের নির্বাচিত অংশ থেকে গৃহীত, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত উক্ত মন্তব্যটি অপূর্ব পুলিশের দলের উদ্দেশ্যে করেছে। কারণ: ‘বুনো হাঁসের পিছনে ছুটোছুটি’ কথাটির উদ্দেশ্য হল সময়ের অপব্যয় তথা অযৌক্তিক কার্যকলাপ। আসলে সারাদিন ধরে রাজদ্রোহী সব্যসাচী মল্লিককে অনুসন্ধান করতে গিয়ে তারা জনৈক গিরীশ মহাপাত্র নামক এক অদ্ভুত বেশভূষা ও আচরণকারী ব্যক্তিকে নিয়ে থানায় এমন কাণ্ড বাঁধিয়েছিল তা যেমন হাস্যকর তেমনি অমূলক কার্যকলাপ। পুলিশের এই হাস্যকর কার্যকলাপ লক্ষ করে অপূর্ব এরূপ মন্তব্য করেছিলেন।
৩.৩ “… নদেরচাঁদের এত বেশি মায়া একটু অস্বাভাবিক।” -নদেরচাঁদের কীসের প্রতি মায়া এবং তা অস্বাভাবিক ১+২
মায়ার বিষয়: নদেরচাঁদের জন্ম, বেড়ে ওঠা সবই নদীর ধারে। তাই অন্তর থেকে নদীর প্রতি নদেরচাঁদের এক অদম্য মায়া।
অস্বাভাবিক হওয়ার কারণ: নদেরচাঁদ বর্তমানে ত্রিশ বছর বয়সি একজন পূর্ণ মানুষ। এ ছাড়াও সে ছোটো হলেও একটি স্টেশনের স্টেশনমাস্টার। প্রতিদিন মেল, প্যাসেঞ্জার কিংবা মালগাড়ির গতিনিয়ন্ত্রণ করে সুস্থভাবে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়াই তার কাজ। এই কারণেই নদীর জন্য পাগলামি করা তার মতো দায়িত্ববান মানুষের পক্ষে যথেষ্ট বেমানান ও অনুচিত। তা ছাড়া এমনটা করার মতো বয়সও তার আর নেই বলেই মনে হয়েছে।
৩.৪ “বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের।”-এই ভয়ের কারণ কী? অথবা, “বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের।”- কোন্ পরিস্থিতিতে নদেরচাঁদের ভয় হল?
নদেরচাঁদের ভয় পাওয়ার কারণ: নদেরচাঁদ এক ব্যতিক্রমী চরিত্র। নদীর সঙ্গে তার আত্মিক বন্ধন। শৈশব-বাল্যে তার দেশের বাড়ির পাশ দিয়েই নদী প্রবাহিত হত। সেই ক্ষীণকায়া নদীকে সে বুগ্মা পরমাত্মীয়ার মতো ভালোবেসেছিল। আবার, কর্ম উপলক্ষ্যে স্টেশনমাস্টার হিসেবে দূরদেশে গিয়ে সেখানের স্রোতবতী নদীর সঙ্গেঙ্গও নদেরচাঁদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বর্ষণপুষ্ট নদী ভীষণা হয়ে ওঠার আগে নদেরচাঁদের সঙ্গে তার নির্মল আনন্দের ও সুখের খেলা চলে। নদীর সঙ্গে ছেলেমানুষির খেলায় মাতে নদেরচাঁদ। তারপর প্রকৃতি আরও ঘোরালো হয়। তুমুল বৃষ্টি নামে। নদীর গর্জন, তীব্র জলস্রোত, মুশলধারায় বৃষ্টির সম্মিলিত রূপ নদেরচাঁদের মধ্যে প্রচণ্ড ত্রাসের সঞ্চার করে। উন্মাদিনী, ঘোরতরা নদী কখন প্রাণঘাতিনী হয়ে উঠবে এই ভয়ে নদেরচাঁদ আকুল হয়ে উঠে স্টেশনের দিকে যাত্রা শুরু করে।
৩.৫ “নদীকে এভাবে ভালোবাসিবার একটা কৈফিয়ত নদেরচাঁদ দিতে পারে।”-নদেরচাঁদের পেশা কী ছিল? নদীকে ভালোবাসার কী কৈফিয়ত নদেরচাঁদ দিয়েছিল? ১+২
পেশাঃ নদেরচাঁদের পেশা ছিল স্টেশনমাস্টারি। নদেরচাঁদের কৈফিয়ত: নদেরচাঁদের কৈফিয়ত ছিল-যেহেতু জন্ম থেকেই নদীর সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক তাই শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের প্রতিটি পর্বেই নদী ছিল তার জীবনের প্রধান আকর্ষণ। নদীর পাড়েই তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব অতিবাহিত হওয়ায় নদীকে সে পাগলের মতো ভালোবাসে।
৩.৬ “নিজের এই পাগলামিতে যেন আনন্দই উপভোগ করে।”-কার কথা বলা হয়েছে? তার ‘পাগলামি’-টি কী? ১+২
উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের অন্যতম চরিত্র অখ্যাত স্টেশনের স্টেশনমাস্টার নদেরচাঁদের কথা এখানে বলা হয়েছে।
পাগলামির পরিচয়: নদেরচাঁদ আশৈশব নদীকে খুব ভালোবেসেছে। নদীর সঙ্গে যেন তার হৃদয়ের বন্ধন। এই নদীকে কয়েকদিনের অদর্শনে সে অন্তরে বিরহ জ্বালা অনুভব করে। তার কাজকর্ম সব অগোছালো হয়ে যায়। এই নদীকে দেখার জন্যই তার হৃদয়ে ঔৎসুক্য বোধের সঞ্চার হয়। পাঁচদিনের ভারি বর্ষণে নদী কেমন রূপ লাভকরেছে তা জানার জন্য সে ব্যাকুল। তাই একটু বৃষ্টি থামতেই সে অগ্রসর হয়েছে নদীর দিকে, নদীর সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর আকাঙ্ক্ষায়। ত্রিশ বছরের প্রাপ্ত বয়স্ক একজন ব্যক্তির নদীকে নিয়ে এমন ব্যাকুল হয়ে ওঠাকে নিজেরই পাগলামি বলে মনে হয়েছে। তাই এখানে নদীকে নিয়ে তার বাড়াবাড়ি মনোভাবকে সে নিজেই ‘পাগলামি’ বলে আখ্যায়িত করেছে।
৩.৭ ‘নিজেকে কেবল বোঝাইতে পারে না।’-কার কথা বলা হয়েছে? সে নিজেকে কী বোঝাতে পারে না?
উদ্দিষ্ট ব্যক্তি: মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ ছোটোগল্পে ট্রাজিক নায়ক নদেরচাঁদের কথা উদ্ধৃত অংশে বলা হয়েছে।
নিজেকে যা বোঝাতে পারে না: পাড়াগাঁয়ের ছেলে নদেরচাঁদ। নদীর পাড়ে তার জন্ম, তার বেড়ে ওঠা। তাই নদেরচাঁদের প্রিয় মানুয়ের মতোই নদীর প্রতি এক প্রবল আকর্ষণ ছিল, একদিন নদীকে না দেখলে সে অস্থির হয়ে উঠত। শূন্যতায় ভরে যেত তার জীবন। তবে কর্মক্ষেত্রে এসেও তার মতো একজন দায়িত্বশীল পদাধিকারীর নদীকে নিয়ে এমন পাগলামি নিতান্তই ছেলেমানুষি ছিল। নদেরচাঁদ এ কথা বোঝে ও যে নদীর প্রতি এত মায়া নিতান্তই অস্বাভাবিক। তবুও এই অস্বাভাবিকতা যে একজন দায়িত্ববান স্টেশনমাস্টারের পাগলামি তা সে নিজেকে বোঝাতে পারে না।
৩.৮ ‘এই নদীর মতো এত বড়ো ছিল না’- কোন্ নদীর কথা বলা হয়েছে? সেই নদী কেমন ছিল? ১+২
উদ্দিষ্ট নদী: কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পে দুটি নদীর কথা বলেছেন। একটি নদেরচাঁদের কর্মক্ষেত্রের কাছের নদী, আর-একটি তার দেশের নদী। যে নদীটি ‘এত বড়ো ছিল না’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে তা হল নদেরচাঁদের দেশের নদী।
নদীর প্রকৃতি: নদেরচাঁদের দেশের সেই নদীটি ছিল অতি ক্ষীণকায়া। সেই নদীটি যেন অসুস্থ দুর্বল আত্মীয়ার মতো। অসুস্থ আত্মীয়া জ্ঞানেই নদেরচাঁদ তাকে ভালোবাসত। একবছর অনাবৃষ্টির জন্য নদীটির ক্ষীণস্রোত প্রায় শুকিয়ে যেতে দেখে নদেরচাঁদ কেঁদে ফেলেছিল।
৩.৯ “নদীর দিকে দৃষ্টিপাত করিয়াই নদেরচাঁদ স্তম্ভিত হইয়া গেল।”-কোন নদীর কথা বলা হয়েছে? কেন সে স্তম্ভিত হয়ে গেল? ১+২
উদ্দিষ্ট নদীঃ ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র নদেরচাঁদ যে স্টেশনে স্টেশনমাস্টারি করত তার নিকটবর্তী, অর্থাৎ এক মাইল দূরে অবস্থিত নদীটির কথা এখানে বলা হয়েছে।
স্তম্ভিত হওয়ার কারণ: নদীর উদ্দাম জলস্রোত ব্রিজের ধারকস্তম্ভে বাধা পেয়ে ফেনিল আবর্ত রচনা করছিল। প্রবল বর্ষণে জলভারে ভারাক্রান্ত হয়ে নদী যেন তার উপরকার কংক্রিটের বাধারূপ ব্রিজের ধারকস্তম্ভকে ধ্বংস করতে উন্মত্ত হয়ে উঠেছিল। নদীর এই রূপ দেখে নদেরচাঁদের মনে হয় নদী যেন তার বন্দিদশা থেকে মুক্ত হতে চাইছে। নদেরচাঁদ নিজেও এই বন্দিদশাকে, এই যন্ত্রণাকে অনুভব করেছিল। সব মিলিয়েই ওই পরিস্থিতি নদেরচাঁদকে স্তম্ভিত করে তোলে।
কমবেশি ১৫০ শব্দে প্রশ্নের উত্তর দাও। প্রশ্নমান-৫
৪.১ “পারিলেও মানুষ কি তাকে রেহাই দিবে?”-কার, কী পারার কথা বলা হয়েছে? পারলেও মানুষ তাকে রেহাই দেবে না কেন? ২+৩
উদ্দিষ্ট ও তার মনোবাঞ্ছা: ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের মানুষের তৈরি ব্রিজ আর দু-পাশের মনুষ্যসৃষ্ট বাঁধ ভেঙে ফেলে যান্ত্রিক সভ্যতার বিরুদ্ধে নদীর জেহাদ ঘোষণা করতে পারার কথা বলা হয়েছে।
রেহাই না দেওয়ার কারণ: যন্ত্রের ক্ষমতা সম্পর্কে নদেরচাঁদ জ্ঞাত। তাই তার মনে সন্দেহ জাগে- “কিন্তু পারিবে কি?” অর্থাৎ, মানুষের বুদ্ধি আর যন্ত্রের কৌশল একসঙ্গে নদীর স্বাভাবিক চলার ছন্দকে যেভাবে রুদ্ধ করেছে, তা নদী অতিক্রম করতে পারবে না। আর যদিও পারে মানুষ তাকে রেহাই দেবে না। আবারও নিজের সুবিধার্থে গড়ে তুলবে ব্রিজ, শক্ত করে বাঁধবে নদীবাঁধ। তাই বর্ষার অনন্ত জলরাশি নদীকে যতই বন্দিদশা থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখাক না কেন যন্ত্র সভ্যতায় বীলয়ান মানুষ পুনরায় তাকে বেঁধে ফেলবে নিজের সুবিধামতো। এভাবেই প্রকৃতির বুকে গভীর-প্রশস্ত রূপে স্বাভাবিক ছন্দে বহমান নদীর রূপ নদেরচাঁদের দেশের ক্ষীণস্রোতা বুণ নদীর মতো হতে বেশিদিন সময় লাগবে না। আধুনিক সভ্যতা প্রকৃতির ওপর যেভাবে নিজের অন্যায় কর্তৃত্ব জাহির করে চলেছে তার আস্ফালন দেখেই নদেরচাঁদের এই উদ্বেগ প্রকাশ।
৪.২ “ত্রিশ বছর বয়সে নদীর জন্য নদেরচাঁদের এত বেশি মায়া একটু অস্বাভাবিক।”-নদেরচাঁদের নদীর প্রতি এত ভালোবাসার কারণ কী? সেই ভালোবাসার পরিচয় দাও। ২+৩
ভালোবাসার কারণ: নদীর তীরেই নদেরচাঁদের জন্ম হয়েছে। নদীর কাছেই সে বড়ো হয়ে উঠেছে। তার শৈশব, কৈশোর, প্রথম যৌবন নদীর তীরবর্তী জগতেই অতিবাহিত হয়েছে। নদীকে সে প্রাকৃতিক বিষয় হিসেবে না দেখে নিজের পরমাত্মীয়া মনে করেছে। তাই নদীর সঙ্গে তার একটা আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠার কারণে তার প্রতি সৃষ্টি হয়েছে এক অকৃত্রিম ভালোবাসা।
ভালোবাসার পরিচয়:
একাত্মতা: প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ গল্পের আদ্যোপান্ত প্রকাশিত হয়েছে নদীর সঙ্গে নদেরচাঁদের হৃদ্যতার মধুর সম্পর্ক। গল্পের সূচনাতেই আমরা দেখতে পাই, দীর্ঘ পাঁচদিনে প্রচণ্ড বর্ষার জন্য নদীকে না দেখতে পেয়ে সে একপ্রকার পাগলের মতন হয়ে উঠেছে। তাই বৃষ্টি সামান্য থামলেই সহকারীর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সে যাত্রা করেছে নদীর দিকে। নদী যেন তার কাছে একান্ত আপনজন।
সঙ্গী: কর্মব্যস্ত জীবনেও নদীর তীরে কিছু সময় কাটাতে না পারলে তার দিন অপূর্ণ থেকে যায় বলে মনে হয়। সেই কারণেই কয়েকদিন বাদে নদীকে দেখতে যাওয়ার সময় ছেলেমানুষের মতন সে ঔৎসুক্য বোধ করেছে। সে যেন কালিদাসের ‘মেঘদূতম্’ কাব্যের বিরহকাতর যক্ষের মতো নদীকে তার দূত হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাই খেলার ছলে নিজের পত্নীকে লেখা দীর্ঘ চিঠির পাতাগুলি নদীর তীব্র স্রোতে ভাসিয়ে দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে হয়তো তার দীর্ঘ বিরহ নদীর স্রোতে ভেসে সমাহিত হয়ে গেছে, নতুবা এই নদীই যেন তার দূর দেশবাসী পত্নীর বিরহজ্বালা মিটিয়ে দিয়েছে।
পরমাত্মীয়া নদী: নদেরচাঁদ পাগলের মতো, নদীকে নিজের পরমাত্মীয়া মনে করে ভালোবেসেছে। সে এই নদীর ব্যথাবেদনা যেন অনুভব করতে পেরেছে। সে বুঝতে পেরেছে নদীর গতিপথে সৃষ্ট বাঁধের জন্যই নদীর বিদ্রোহ। সে এই বাধা অতিক্রম করতে চায় কিন্তু হয়তো সে তাতে সফল হবে না। এই সকল ভাবনার মধ্য দিয়ে ধরা পড়েছে নদীর প্রতি তার আন্তরিক ভালোবাসার চিত্র।
৪.৩ “নদীর বিদ্রোহের কারণ সে বুঝিতে পারিয়াছে।”-সে কে? নদীর বিদ্রোহের কারণ কী? ১+৪
উদ্দিষ্ট ‘সে’: ‘সে’ হল ‘নদীর বিদ্রোহ’ রচনাংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র নদেরচাঁদ।
নদীর বিদ্রোহের কারণ উপলব্ধি: দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে ‘সে’ অর্থাৎ নদেরচাঁদ বুঝতে পেরেছে নদী কেন আজ বিদ্রোহী রূপ ধারণ করেছে।
তার মনে হয়েছে যে, মানুষ যত বেশি আধুনিক হচ্ছে প্রকৃতিকে সে ততো বেশি করে নিংড়ে নিচ্ছে। প্রকৃতির নানা সহজতাকে সে পদানত করতে চেয়েছে। সে চেয়েছে তার সেবায় সবকিছুকে ব্যবহার করতে। নদীও তার থেকে দূরে থাকতে পারেনি। নদীর উপর তৈরি হয়েছে বাঁধ, গড়ে উঠেছে ব্রিজ। আর এর ফলস্বরূপ নদী তার স্বাভাবিক প্রবাহ হারিয়ে ফেলেছে। বারংবার বাধা পেয়ে নদীও যেন মানুষের এই অহংকারের পরিচয়বাহী ব্রিজের প্রতি বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে। পাঁচদিনের প্রচণ্ড বৃষ্টিতে নদী আজ ভয়ংকর রূপ লাভ করেছে। সে আজ পূর্ণ ধারায় প্রবাহিত হতে চায়। কিন্তু মানুষের তৈরি বাঁধ তার গতিপথকে করে তুলেছে সংকীর্ণ। আর এখানেই তার বিদ্রোহ। সে চায় স্বাভাবিক ধারায় প্রবাহিত হতে। তাই তার সমগ্র শক্তি সে নিয়োজিত করেছে এই বাধা সরানোর কাজে-এমনটাই নদেরচাঁদের ধারণা।
৪.৫ “বড়ো ভয় করিতে লাগিল নদেরচাঁদের।’- কেন ভয় করতে লাগল? এই ভয়ের পরিণতি কী হয়েছিল? ৩+২
ভয় পাওয়ার কারণ: কথাশিল্পী মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘নদীর বিদ্রোহ’ রচনা অনুসারে জানা যায় যে নদী জলধারায় পরিপুষ্ট হয়ে উন্মত্ত হয়ে উঠেছে, তাকে কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যায় না। যদিও নদেরচাঁদ ইট, সুরকি, সিমেন্ট, লোহালক্কড়ের ব্রিজের উপর নিশ্চিন্তে বসে থেকেছে তবুও এই নদীকে আজ সে আর বিশ্বাস করতে পারছে না।
ব্রিজের কাছে এসে নদেরচাঁদ নদীর উন্মত্ততা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যায়। নদীর উদ্দাম জলস্রোত ব্রিজের ধারকস্তম্ভে বাধা পেয়ে ফেনিল আবর্ত রচনা করছিল। নদীর এই রূপ দেখে নদেরচাঁদের মনে হয় নদী যেন তার বন্দিদশা থেকে মুক্ত হতে চাইছে। ব্রিজকে যেন সে ভেঙে চুরমার করে দিতে চাইছিল। নদীর এই উন্মাদিনী রূপ দেখে তার হৃদয়ে ভয়ের সঞ্চার হয়েছিল।
ভয়ের পরিণতি: নদীর ভয়াল রূপের কথা ভাবতে ভাবতে নদীর মুক্তি কামনা করে নদেরচাঁদ যখন রেললাইন ধরে স্টেশনের দিকে ফিরছিল তখনই ৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেন নদেরচাঁদকে পিষে দিয়ে চলে যায়। নদেরচাঁদের সকল ভয়ের অবসান ঘটে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। নদীকে বন্দি করা মানুষের তৈরি ব্রিজেই নদেরচাঁদ শেষ হয়। নদীকে মুক্ত করার বাসনা তাঁর অপূর্ণই রয়ে যায়।
৪.৬ “নদীকে এভাবে ভালোবাসিবার একটা কৈফিয়ত নদেরচাদ দিতে পারে।”-নদেরচাঁদ কী কৈফিয়ত দিতে পারে? এভাবে ভালোবাসার কী পরিণতি হয়? ২+৩
নদেরচাদের কৈফিয়ত: জন্ম থেকেই নদীর সঙ্গে নদেরচাদের সখ্যর সম্পর্ক। তার শৈশব থেকে যৌবনের প্রতিটি পর্বে সে জন্মভিটের নিকটবর্তী নদীর সঙ্গ লাভ করেছে। নদী ছিল তার জীবনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। নদীর প্রতি তার আশৈশবের এই ভালোবাসা কর্মক্ষেত্রেও থেকে যায়। রেলস্টেশন থেকে কিছুটা দূরের নদীটির প্রতি তাই সে গভীর আকর্ষণ অনুভব করে।
ভালোবাসার পরিণতি: নদীর প্রতি নদেরচাঁদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা ও গভীর আত্মীয়তার সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত এক করুণ পরিণতি লাভ করে। পাঁচদিন অবিরাম বৃষ্টির কারণে নদীকে সে দেখতে যেতে পারেনি। বৃষ্টি একটু ধরে এলেই সে ছুটে যায়, রেলব্রিজের ধারকস্তম্ভে বসে নদীকে সে দু-চোখ ভরে দেখতে থাকে। পাঁচদিনের বর্ষায় পরিপুষ্ট নদীর এই রূপের সঙ্গে তার আগে পরিচয় হয়নি,
“…এই নদীর মূর্তিকে তাই যেন আরও বেশি ভয়ংকর, আরও বেশি অপরিচিত মনে হইল।” নদীর স্বাভাবিক গতিপথকে রুদ্ধ করার জন্য মানুষের নির্মিত এই ব্রিজ ও বাঁধের ভবিষ্যৎ নিয়ে সে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তার মনে হয়, নদী বুঝি আজ বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে। সে তার সর্বশক্তি দিয়ে জলস্ফীতি ঘটিয়ে এই ব্রিজকে ধ্বংস করবে।
নদেরচাঁদ উঠে পড়ে। মানুষের তৈরি ব্রিজ আর দু-পাশের বাঁধকে তার অপ্রয়োজনীয় মনে হয়। প্রকৃতির ওপর মানুষের অকারণ কর্তৃত্বের ফলাফল সম্পর্কে ভাবতে ভাবতে রেললাইন ধরে সে স্টেশনের দিকে হাঁটতে থাকে। হঠাৎই ৭নং ডাউন প্যাসেঞ্জার ট্রেন অন্যমনস্ক নদেরচাঁদকে পিয়ে দিয়ে যায়। আর এভাবেই নিজের জীবন দিয়ে নদীকে ভালোবাসার চরম মূল্য তাকে দিতে হয়।