অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 10 | Osukhi Ekjon Kobitar Question Answer

অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 10 | Osukhi Ekjon Kobitar Question Answer Pablo Neruda

অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর
অসুখী একজন কবিতার প্রশ্ন উত্তর

সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো: প্রশ্নমান

. সেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না”—কোন মেয়েটির কথা বলা হয়েছে?
(ক) গির্জার নানের
(খ) এক কিশোরীর
(গ) কবিতার কথকের জন্য প্রতীক্ষারত মেয়েটির
(ঘ) কোনোটিই নয়
উত্তরঃ () কবিতার কথকের জন্য প্রতীক্ষারত মেয়েটির

.অসুখী একজনকবিতায় কবির বুলন্দ বিছানার ধারের গাছটি ছিল
(ক) সবুজ
(খ) গোলাপি
(গ) নীল
(ঘ) হলুদ
উত্তরঃ () গোলাপি

. যেখানে ছিল শহর/সেখানে ছড়িয়ে রইল”—কী ছড়িয়ে রইল?
(ক) পায়ের দাগ
(খ) কাঠকয়লা
(গ) গোলাপি গাছ
(ঘ) প্রাচীন জলতরঙ্গ
উত্তরঃ () কাঠকয়লা

. নেমে এল তার মাথার উপর”—কী নেমে এল?
(ক) মেঘ
(খ) বছর
(গ) মাস
(ঘ) দিন
উত্তরঃ () বছর

. তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।”—কারা স্বপ্ন দেখতে পারল না?
(ক) দেবতারা
(খ) যুদ্ধবাজরা
(গ) মানুষরা
(ঘ) শান্ত হলুদ দেবতারা
উত্তরঃ () শান্ত হলুদ দেবতারা

.অসুখী একজনকবিতাটিতে মোট পঙক্তি সংখ্যা
(ক) ৩০টি
(খ) ৩২টি
(গ) ২৮টি
(ঘ) ২৪টি
উত্তরঃ () ৩২টি

. পাবলো নেরুদা ছিলেন
(ক) চিলিয়ান কবি ও রাজনীতিবিদ
(খ) জার্মান কবি ও চিত্রকর
(গ) রাশিয়ান লেখক ও ভাস্কর শিল্পী
(ঘ) ইউরোপিয়ান কবি ও ঔপন্যাসিক
উত্তরঃ () চিলিয়ান কবি রাজনীতিবিদ

. আমি তাকে ছেড়ে দিলাম”—কোথায় ছেড়ে দিল?
(ক) ঘরের দরজায়
(খ) রাস্তায়
(গ) হাটেবাজারে
(ঘ) বারান্দায়
উত্তরঃ () ঘরের দরজায়

📚 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির স্টুডেন্টদের জন্য দারুণ সুযোগ!

আপনি কি কম সময়ে ভালোভাবে পড়াশোনা শেষ করতে চান?
পরীক্ষার আগে রিভিশন করতে সমস্যা হচ্ছে?

👉 তাহলে এখনই নিয়ে নিন আমাদের Complete PDF eBook Package

✨ এই eBook-এ যা পাচ্ছেন:
✔ সহজ ভাষায় পুরো সিলেবাস
✔ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও উত্তর
✔ পরীক্ষার জন্য সাজানো নোটস
✔ শর্ট টেকনিক ও সাজেশন

🎯 কার জন্য উপযোগী?
👉 একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির সকল ছাত্র-ছাত্রী
👉 বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন যারা

💡 মোবাইলেই পড়ুন, যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায়!

🔥 মাত্র ২৫ টাকা প্রতিটা সাবজেক্ট

. শান্ত হলুদ দেবতারা কত বছর ধ্যানে ডুবে ছিলেন?
(ক) তিন হাজার বছর
(খ) চার হাজার বছর
(গ) পাঁচ হাজার বছর
(ঘ) হাজার বছর
উত্তরঃ () হাজার বছর

.১০অসুখী একজনকবিতাটি মূল কোন ভাষায় রচিত?
(ক) ফরাসি
(খ) আরবি
(গ) স্প্যানিশ
(ঘ) ইংরেজি
উত্তরঃ () স্প্যানিশ

.১১অসুখী একজনকবিতায় একটার পর একটা বছরগুলি কীভাবে নেমে এল বলে কবি মনে করেছেন?
(ক) পাথরের মতো
(খ) জলের মতো
(গ) ফুলের মতো
(ঘ) গানের মতো
উত্তরঃ () পাথরের মতো

.১২অসুখী একজনকবিতাটির তর্জমা করেছেন
(ক) সুকান্ত ভট্টাচার্য
(খ) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(গ) নজরুল ইসলাম
(ঘ) নবাৰুণ ভট্টাচার্য
উত্তরঃ () নবাৰুণ ভট্টাচার্য

.১৩ পড়ে মন্দির থেকে টুকরো টুকরো হয়ে”—
(ক) পূজার সামগ্রী
(খ) মন্দিরের চূড়া
(গ) শান্ত হলুদ দেবতারা
(ঘ) সব ক-টিই
উত্তরঃ () শান্ত হলুদ দেবতারা

.১৪ ধরে গেল আগুন
(ক) ঘন অরণ্যে
(খ) জনবসতিতে
(গ) ফসলের ক্ষেতে
(ঘ) সমগ্র সমতলে
উত্তরঃ () সমগ্র সমতলে

.১৫ কালো দাগ কিসের?
(ক) কলঙ্কের
(খ) রক্তের
(গ) বেদনার
(ঘ) শোকের
উত্তরঃ () রক্তের

.১৬ বৃষ্টিতে কী ধুয়ে দিয়েছিল?
(ক) মনের প্রাণি
(খ) পুরোনো লেখা
(গ) ডায়েরির পাতা
(ঘ) পায়ের দাগ
উত্তরঃ () পায়ের দাগ

.১৭ তারপর যুদ্ধ এল
(ক) পাহাড়ের আগুনের মতো
(খ) রক্তের সমুদ্রের মতো
(গ) আয়েমপাহাড়ের মতো
(ঘ) রক্তের এক আয়েমপাহাড়ের মতো
উত্তরঃ () রক্তের এক আয়েমপাহাড়ের মতো

কমবেশি ২০টি শব্দে প্রশ্নগুলির উত্তর দাওপ্রশ্নমান

. শিশু আর বাড়িরা খুন হলো”—“শিশু আর বাড়িরা খুন হয়েছিল কেন?

উত্তরঃ বিখ্যাত চিলিয়ান কবি পাবলো নেরুদা রচিত ‘অসুখী একজন’ কবিতায় উল্লিখিত ভয়াবহ যুদ্ধে শিশু আর বাড়ির মানুষরা খুন হল।

. তারপর যুদ্ধ এল”—যুদ্ধ কীভাবে এল?

উত্তরঃ পাবলো নেরুদার লেখা ‘অসুখী একজন’ কবিতাটি রচিত হয়েছে যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে। কবিতায় কবির মতে, যুদ্ধ এসেছিল ‘রক্তের এক আয়েমপাহাড়ের মতো’।

. তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না”—কারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না?

উত্তরঃ পাবলো নেরুদার লেখা ‘অসুখী একজন’ কবিতায় উল্লিখিত মন্দিরের প্রাচীন শান্ত হলুদ দেবতারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না।

. হেঁটে গেল গির্জার এক নান”—নান কাদের বলে?

উত্তরঃ নান বলতে খ্রিস্টান সন্ন্যাসিনীদের বলা হয়।

. সমস্ত সমতলে ধরে গেল আগুন”—আগুন ধরার কারণ কী?

উত্তরঃ ‘অসুখী একজন’ কবিতা অনুসারে আয়েমপাহাড়ের মতো ভয়াবহ যুদ্ধ আসার ফলে সমস্ত সমতলে আগুন ধরে গিয়েছিল।

. আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়”—এমন অপেক্ষার কারণ কী?

উত্তরঃ পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় কথকের ফিরে আসার আশায় ছিল মেয়েটি। সে জানত না যে তার প্রিয়জন আর ফিরবে না।

.অসুখী একজনকবিতায় কবির স্বপ্ন বিধ্বস্ত বাড়ির পরিবেশটি কেমন ছিল?

উত্তরঃ কবির স্বপ্ন বিধ্বস্ত বাড়ির পরিবেশ ছিল বারান্দা যেখানে বুলন্দ বিছানায় কথক একসময় ঘুমোতেন। আর ছিল গোলাপি গাছ, চিমনি ও জলতরঙ্গ।

. শান্ত হলুদ দেবতারা/যারা হাজার বছর ধরে/ডুবে ছিল ধ্যানে”—সেই শান্ত হলুদ দেবতাদের পরিণতি কী হয়েছিল?

উত্তরঃ যুদ্ধে যখন সমতলে আগুন ধরে গেল, তখন হাজার বছর ধরে ধ্যানে ডুবে থাকা শান্ত হলুদ দেবতারা মন্দির থেকে পড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেল।

. সেখানে ছড়িয়ে রইল”—সেখানে কী কী ছড়িয়ে রইল?

উত্তরঃ যেখানে শহর ছিল যুদ্ধের পর সেখানে ছড়িয়ে রইল কাঠকয়লা, দোমড়ানো কিছু লোহা, মৃত পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের কালো দাগ।

.১০ শান্ত হলুদ দেবতারা”—“শান্ত হলুদ দেবতা বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তরঃ ‘শান্ত হলুদ’ কথাটির দ্বারা দেবতাদের উদ্দেশ্যে বিদ্রূপ করা হয়েছে। দেবতারা স্বভাবত শান্ত, আর তাঁদের এই শান্ত মূর্তির সামনে মানুষ আশ্রয় খোঁজে। কিন্তু এই দেবতারাও যুদ্ধকে বাধা দিতে পারে না। আর ‘হলুদ’ শব্দটির মধ্যে দেবতাদের বিবর্ণ উপস্থিতি বোঝানো হয়েছে।

.১১ শিশু আর বাড়িরা খুন হলো”—“শিশু আর বাড়িরা খুন হয়েছিল কেন?

উত্তরঃ বিখ্যাত চিলিয়ান কবি পাবলো নেরুদা রচিত ‘অসুখী একজন’ কবিতায় উল্লিখিত ভয়াবহ যুদ্ধে শিশু আর বাড়ির মানুষরা খুন হয়েছিল।

.১২ সে জানত না”—কার, কী না জানার কথা বলা হয়েছে?

উত্তরঃ কবি পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতার সেই অপেক্ষারত মেয়েটি জানত না যে, তার প্রিয়জন আর ফিরে আসবে না।

প্রসঙ্গ নির্দেশসহ কমবেশি ৬০টি শব্দে উত্তর দাওপ্রশ্নমান

. সেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না”—কোন মেয়েটির কথা বলা হয়েছে? তার মৃত্যু হলো না কেন? +

মেয়েটির পরিচয়: পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় যে মেয়েটি তার প্রিয়তমের, অর্থাৎ কবিতার কথকের ফিরে আসার আশায় দরজায় দাঁড়িয়েছিল, তার কথা বলা হয়েছে।

মৃত্যু না হওয়ার কারণ: অপেক্ষারত মেয়েটি তো নিছক শরীরী কোনো নারী নয়, সে স্বদেশভূমির প্রতীক; চিরন্তন ভালোবাসা, মানবতা, শুভবোধের প্রতীক। আর “Love that hath no beginning, no end.” যুদ্ধ, দাঙ্গা—সবকিছুই একদিন শেষ হয়ে যায়। ধ্বংসস্তূপে মাথা উঁচিয়ে থাকে মানুষের সুকুমার বুদ্ধি—“শত শত সাম্রাজ্যের ধ্বংসশেষ পরে/ওরা কাজ করে।” প্রতিটি ঘরছাড়া মানুষের স্বদেশ-জন্মভূমির প্রতি টান তো চিরন্তন। এই টান, এই আকর্ষণই স্বদেশ-জন্মভূমির প্রতীক মেয়েটিকে জীবন্ত রাখে। যুদ্ধের হিংসা, পাশবতার মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দেয় সৌহার্দ্যের লাল সূর্য, সম্প্রীতির শ্বেত কপোত। ভালোবাসার প্রতীক মেয়েটি অমর হয়ে যায়। মনুষ্যত্ব, মানবতার বিজয় বৈজয়ন্তী উড়তে থাকে।

. তারপর যুদ্ধ এল”—উৎস লেখো। যুদ্ধ শুরু হলে কী কী ঘটনা ঘটল? +

উৎস: আলোচ্য উদ্ধৃতাংশটির উৎস হল কবি পাবলো নেরুদার ‘Extravagaria’ কাব্যগ্রন্থের ‘La Desdichada’ কবিতার অনুবাদ ‘অসুখী একজন’ কবিতাটি।

যুদ্ধে ঘট ঘটনা: রক্তের এক আয়েমপাহাড়ের মতো যুদ্ধ এসেছিল। আর সেই যুদ্ধে বিপন্ন হয়েছিল জনজীবন। নিরীহ নিষ্পাপ শিশুরাও মারা গেছে। ধ্বংস হয়েছে বাড়ি, পরিবার। সমতলে ধরে গেছে আগুন। শান্ত হলুদ দেবতারা ছিটকে পড়েছেন মন্দির থেকে। শহর জুড়ে ছড়িয়ে থেকেছে কাঠকয়লা, দোমড়ানো লোহা, পাথরের মূর্তির বীভৎস মাথা আর রক্তের কালো দাগ।

আরো পড়ুন : নদীর বিদ্রোহ গল্পের প্রশ্ন উত্তর

. আর সেই মেয়েটি আমার অপেক্ষায়”—মেয়েটির অপেক্ষার তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো

মেয়েটির অপেক্ষার তাৎপর্য: কবি পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতার আলোচ্যাংশে বর্ণিত মেয়েটি কথকের প্রিয়তম প্রেমিকা অথবা হতে পারে মেয়েটি তার স্বদেশের প্রতিমূর্তি।

কথক যখন তাঁর প্রিয়জনকে ছেড়ে যুদ্ধে গেলেন স্বদেশ রক্ষার্থে তখন থেকে মেয়েটি তাঁর ফিরে আসার অপেক্ষায় রইল। মেয়েটির বিশ্বাস সে একদিন ফিরে আসবে। প্রিয়জনই তো প্রিয়জনের অসীম অপেক্ষায় থাকে। অন্যভাবে বলা চলে, স্বদেশমাতা জাগ্রত তাঁর দেশপ্রেমিক দামাল ছেলেরা বিদেশি শত্রুদের বিতাড়িত করে আবার ফিরে আসবে। সেই অপেক্ষায় দরজায় দাঁড়িয়ে আছে দেশমাতৃকা। মেয়েটির প্রতীক্ষা যুদ্ধের নেতিবাচক পরিস্থিতিতে অমলিন ইতিবাচকতার সাক্ষ্যবহনকারী।

. শান্ত হলুদ দেবতারা/যারা হাজার বছর ধরে/ডুবে ছিল ধ্যানে”—দেবতাদের শান্ত হলুদ বলা হয়েছে কেন? তাঁদের কী পরিণতি হয়েছিল? +

দেবতাদের শান্ত হলুদ বলার কারণ: যুদ্ধের আগে পর্যন্ত মানুষের বিশ্বাস ছিল দেবতারা শান্তির প্রতীক। তাই তাঁদের স্মরণে-মনে মানুষ শান্তি খুঁজত। কিন্তু যুদ্ধের সময় দেবতাদের অবিচল সত্তা সেই বিশ্বাস ভেঙে দিয়েছে। তাই ‘শান্ত’ শব্দটি এখানে ব্যঙ্গাত্মক। অন্যদিকে ‘হলুদ’ শব্দটি এখানে জীর্ণতা, বিবর্ণতার প্রতীক। গাছের পাতা যখন ঝরে যায় তখন তার রং হয় হলুদ। দেবতারাও জীর্ণ, বিবর্ণ হয়ে পড়েছেন। তাঁদের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে গেছে। যুদ্ধ মানুষের দেববিশ্বাসে ফাটল ধরিয়েছে। তাই দেবতারা ‘হলুদ’ হয়ে গেছেন।

দেবতাদের পরিণতি: যখন যুদ্ধ এল, সমস্ত সমতলে ধরে গেল আগুন তখন শান্ত হলুদ দেবতারা ছিটকে পড়লেন মন্দির থেকে। টুকরো টুকরো হয়ে গেল তাঁদের পাথরের শরীর। তাঁরা আর স্বপ্ন দেখতে পারলেন না।

. সব চূর্ণ হয়ে গেল, জ্বলে গেল আগুনে”—কোন কোন জিনিসের কথা বলা হয়েছে? এই পরিণতির কারণ কী? +

চূর্ণ হওয়া জিনিস: পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় যা যা চূর্ণ হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—কথকের মিষ্টি বাড়ি, তার বারান্দা আর তাতে বুলন্দ বিছানা, ছড়ানো করতলের মতো পাতাবৃত্ত গোলাপি গাছ, চিমনি আর পুরোনো জলতরঙ্গ।

পরিণতির কারণ: “নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়”—এড়ায় না কিছুই। যুদ্ধের আগুন তো আরও মারাত্মক। সে গ্রাস করেছে কবি-কথকের স্মৃতি বিজড়িত সমস্ত কিছুকে। কবি-কথকের দেহ-মন নিঃশেষ করে দিয়েছে। আসলে যুদ্ধ এভাবেই সবার সবকিছুকে গ্রাস করে নেয়। মানুষকে পরিণত করে ‘hollow man’-এ, ‘stuffed man’-এ।

. সমস্ত সমতলে ধরে গেল আগুন”—সমতলে আগুন ধরার কারণ কী? এর ফল কী হয়েছিল? +

সমতলে আগুন ধরার কারণ: পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় রক্তের এক আয়েমপাহাড়ের মতো বিষময় যুদ্ধ এসেছিল। তার ফলেই সমস্ত সমতলে আগুন ধরে গিয়েছিল। গোলাবারুদের আগুন পুড়িয়ে দেয় ঘরবাড়ি, শস্যগোলা। অমানবতার আগুন ধ্বংস করে মানুষের মূল্যবোধ। যুদ্ধ এভাবেই আগুন ধরায় মানবসভ্যতায়।

. তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারল না”—মন্তব্যটির ব্যাখ্যা করো। +

ব্যাখ্যা: পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় ‘তারা’ বলতে শান্ত হলুদ দেবতাদের বোঝানো হয়েছে।

“মানুষই দেবতা গড়ে,/তাহারই কৃপা’ পরে,/করে দেব মহিমা নির্ভর।”

মানুষের অন্তরের বিশ্বাসই পাথরকে দেবতায় পরিণত করে। দেবতাকে ঘিরে মানুষের ভক্তি, বিশ্বাস আর দিনবদলের স্বপ্ন ডানা মেলে। কিন্তু যুদ্ধের অভিঘাতে দেবতারা ছিটকে পড়েছেন মন্দির থেকে। ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে তাঁদের শরীর। দেবতাদের ঘিরে মানুষের বিশ্বাসও ভেঙে খানখান হয়ে গেছে। দেববিশ্বাস হয়ে পড়েছে অস্তিত্বহীন। তাই তারা আর স্বপ্ন দেখতে পারেনি।

কমবেশি ১৫০ শব্দে প্রশ্নের উত্তর দাওপ্রশ্নমান

. সেই মেয়েটির মৃত্যু হলো না”—মেয়েটি কে? তার মৃত্যু না হওয়ার কারণ কী? +

মেয়েটির পরিচয়: পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় যে মেয়েটি তার প্রিয়তমের, অর্থাৎ কবিতার কথকের ফিরে আসার আশায় দরজায় দাঁড়িয়েছিল, তার কথা বলা হয়েছে।

মৃত্যু না হওয়ার কারণ: ‘অসুখী একজন’ কবিতায় লক্ষ করা যায় যে, রক্তের এক আয়েমপাহাড়ের মতো কালান্তক এক যুদ্ধ আসে যা নস্যাৎ করে দেয় সমগ্র শহর ও সভ্যতা। কিন্তু সবার মৃত্যু হলেও মেয়েটির মৃত্যু হয় না। আসলে অপেক্ষারত মেয়েটি তো নিছক শরীরী কোনো নারী নয়, সে স্বদেশভূমির প্রতীক। আর “Love that hath no beginning, no end.” যুদ্ধ, দাঙ্গা—সবকিছুই একদিন শেষ হয়ে যায়। ধ্বংসস্তূপে মাথা উঁচিয়ে থাকে মানুষের সুকুমার বুদ্ধি—“শত শত সাম্রাজ্যের ধ্বংসশেষ পরে/ওরা কাজ করে।” প্রতিটি ঘরছাড়া মানুষের স্বদেশ-জন্মভূমির প্রতি টান তো চিরন্তন। এই টান, এই আকর্ষণই স্বদেশ-জন্মভূমির প্রতীক মেয়েটিকে জীবন্ত রাখে। যুদ্ধের হিংসা, পাশবতার মেঘের আড়াল থেকে উঁকি দেয় সৌহার্দ্যের লাল সূর্য, সম্প্রীতির শ্বেত কপোত। ভালোবাসার প্রতীক মেয়েটি অমর হয়ে যায়। মনুষ্যত্ব, মানবতার বিজয় বৈজয়ন্তী উড়তে থাকে।

. সে জানত না আমি আর কখনো ফিরে আসব না”—সে কে? কথা কেন বলা হয়েছে? +

সে স্বরূপ: পাবলো নেরুদার ‘অসুখী একজন’ কবিতায় ‘সে’ বলতে কবি-কথকের প্রিয়তমা তথা স্বদেশভূমিকে বোঝানো হয়েছে।

এ কথা বলার কারণ: বিপ্লব বা সমাজ পরিবর্তনের পথে হাঁটা সৈনিকদের জীবন ‘দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার’-এর মতোই ভয়ংকর। সমাজ বিপ্লবের তাগিদে একাই কবি-কথককেও প্রিয়তমার স্নেহাঞ্চল ছেড়ে বা দেশমাতৃকাকে ছেড়ে চলে যেতে হয়। কিন্তু দেশে ফেরার নিশ্চয়তাও হারিয়ে যায়। বিপ্লবের পথে পদে পদে বিপদ। আছে বিপক্ষ শক্তির কঠোর নির্যাতন, নিপীড়ন। মৃত্যু ঘটতে পারে যে-কোনো সময়। তাই আর ফিরে আসা হয়তো হয়ে ওঠে না। আমরা তো ভালো করেই জানি—“War is Organised murder and nothing else.” ফিদেল কাস্ত্রো, চে গুয়েভারা, নেলসন ম্যাণ্ডেলার জীবনই তার প্রমাণ। তাই কবি-কথক ওই কথা বলেছেন।

আরও পড়ুন প্রয়োজনে
নদীর বিদ্রোহ গল্পের প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 10 | Nodir Bidroho Golper Question Answer Click here
অদল বদল গল্পের প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 10 | Odol Bodol Golper Question Answer Click here
ধর্ম কবিতার MCQ প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 12 | Dharma Kobitar MCQ Click here
Madhyamik 10 Years Bengali Question Papers | বিগত ১০ বছরের মাধ্যমিক বাংলা প্রশ্নপত্র Click here

Leave a Comment

ফ্রিতে মক টেস্ট দিতে এখানে ক্লিক করুন