ধীবর বৃত্তান্ত নাটকের প্রশ্ন উত্তর ক্লাস 9 বাংলা

1. দুর্বাশা মুনি শকুন্তলাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন কেন? তিনি শকুন্তলাকে কী অভিশাপ দিয়েছিলেন? সেই অভিশাপের ফল কী হয়েছিল?
হস্তিনাপুরের রাজা দুস্মন্ত মৃগয়া করতে করতে তপোবনে মহর্ষি কণ্বের আশ্রমে উপস্থিত হন। আশ্রম কন্যার রূপ-লাবণ্যে মুগ্ধ হয়ে রাজা দুষ্মন্ত তাকে গান্ধর্ব মতে বিবাহ করেন। বিবাহের পর রাজা দুষ্মন্ত শকুন্তলাকে পুনরায় ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁর রাজধানীতে ফিরে যান। এইভাবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও দুষ্মন্ত ফিরে না আসায় স্বভাবতই শকুন্তলার মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে এবং তিনি অন্যমনস্ক হয়ে পড়েন। ঠিক সেই সময় দুর্বাসা মুনি সেখানে পদার্পণ করেন। কিন্তু শকুন্তলা অন্যমনা থাকার জন্য দুর্বাসা মুনিকে যথাযথ আপ্যায়ন করতে পারেননি। এতেই দুর্বাসা মুনি অপমানিত হন এবং শকুন্তলাকে অভিশাপ দেন।
অপমানিত ও ক্ষিপ্ত দুর্বাসা মুনি শকুন্তলাকে অভিশাপ দেন যে, শকুন্তলা যাঁর চিন্তায় মগ্ন হয়ে তাকে উপেক্ষা করছেন সেই ব্যক্তি শকুন্তলাকে ভুলে যাবেন।
ঋষি দুর্বাসা ক্ষিপ্ত হয়ে শকুন্তলাকে অভিশাপ দিলেও সখী প্রিয়ংবদার অনুরোধে তিনি জানান— শকুন্তলা যদি কোনো নিদর্শন দেখাতে পারে তবে তার শাপমুক্তি ঘটবে। অবশেষে পতিগৃহে যাত্রা কালে শচীতীর্থে স্নানের পর অঞ্জলি দেওয়ার সময় রাজার দেওয়া স্মারক আংটি থেকে খুলে পড়ে যায়। এরপর দুষ্মন্তের সামনে উপস্থিত হলে দুর্বাসার অভিশাপ অনুযায়ী দুষ্মন্ত তাকে চিনতে পারলেন না। এইভাবে শকুন্তলার জীবনে দুর্বাসার অভিশাপ ফলেছিল।
2. ‘ধীবর বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশ অবলম্বনে ধীবরের চরিত্র আলোচনা করো। অথবা ‘এখন মারতে হয় মারুন ছেড়ে দিতে হয় ছেড়ে দিন’- বক্তা কে? এই উক্তির আলোকে বক্তার চরিত্র বিশ্লেষণ করো?
উক্তিটির বক্তা হলেন আমাদের পাঠ্য মহাকবি কালিদাসের (অনুদিত) ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র ধীবর।
ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যাংশের কাহিনী ধীবরকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। একজন সাধারণ দীন ধীবরের মধ্যে যে সততা, স্পষ্টবাদিতা, নিজের পেশার প্রতি শ্রদ্ধা, শাস্ত্র জ্ঞান, পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সর্বোপরি কৃতজ্ঞতা ও উদার মনের পরিচয় পাওয়া যায় তা এককথায় অনবদ্য।
সততা ও স্পষ্টবাদিতা নাটকের শুরু থেকেই ধীবরের মধ্যে সততা ও স্পষ্টবাদিতা লক্ষ্য করা যায়। আংটি চুরির অপবাদে অভিযুক্ত হয়ে প্রথম থেকেই সে সত্য কথা বলতে চাইলেও রক্ষীরা তার কথায় কর্ণপাত করেনি। উপরন্তু তাকে বারবার বাটপাড়, গাঁটকাটা ইত্যাদি ইতর শব্দ শুনতে হয়েছে। আংটি পাবার কথা অকপটে স্বীকার করে বলেছে—“এখন মারতে হয় মারুন, ছেড়ে দিতে হয় ছেড়ে দিন।
শাস্ত্র জ্ঞান ও পেশার প্রতি শ্রদ্ধা রাজশ্যালক তার পেশা ও জাত নিয়ে কটুক্তি করলে সে বলে— যে বৃত্তি নিয়ে যে মানুষ জন্মেছে সেই বৃত্তি নিন্দনীয় হলেও তা পরিত্যাগ করা উচিত নয়। এখানে ধীবরের শাস্ত্রজ্ঞান ও পেশার প্রতি শ্রদ্ধা লক্ষ করা যায়।
পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা রাজদরবার থেকে ছাড়া পেয়ে তার উক্তি—“প্রভু, আজ আমার সংসার চলবে কীভাবে? এ থেকে তার পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা লক্ষ্য করা যায়।
কৃতজ্ঞতা ও উদার মানসিকতা পারিতোষিক পেয়ে যেভাবে বিদ্রূপকারী রাজশ্যালককে প্রণাম করে ও অপর দুইজন রক্ষীকে তার অর্ধেক দান করেছে তাতে তার কৃতজ্ঞ ও উদারচিত্তের পরিচয় মেলে।
[৩ নম্বরের প্রশ্নসমূহ]
1. “যার চিন্তায় সে মগ্ন সেই ব্যক্তি শকুন্তলাকে ভুলে যাবেন”- বক্তা কে? তার এমন উক্তির কারণ কী?
উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন কালিদাস রচিত ধীবর-বৃত্তান্ত নাট্যাংশে শকুন্তলাকে শাপ প্রদানকারী দুর্বাসা।
তপোবনে মহর্ষি কণ্বের অনুপস্থিতিতে রাজা দুষ্মন্ত কণ্বের পালিতা কন্যা শকুন্তলার রূপ, লাবণ্যে মুগ্ধ হয়ে তাকে গান্ধর্ব মতে বিবাহ করেন। তারপর রাজধানীতে ফিরে যান। কিন্তু দীর্ঘদিন পর ফিরে না আসায় শকুন্তলা বিরহাতুর ও আনমনা হয়ে পড়ে। সেই সময় তপোবনে দুর্বাসা মুনি এলে আনমনা শকুন্তলা তাকে আপ্যায়ন না করায় তিনি শাপোক্তি করেন।
2. মুহূর্তের জন্য রাজা বিহ্বলভাবে চেয়ে রইলেন”-বক্তা কে? রাজার আংটি দেখে বিহ্বলতার কারণ কী?
কালিদাস রচিত ধীবর-বৃত্তান্ত (অনুদিত) নাট্যাংশে উদ্ধৃত অংশটি বক্তা হলেন রাজার শ্যালক।
রাজা দুস্মন্ত মহর্ষি কণ্বের তপোবণে এসে শকুন্তলাকে গান্ধর্ব মতে বিবাহ করে রাজধানীতে ফিরে যান। স্মারক হিসেবে শকুন্তলাকে দিয়ে যান একটি আংটি। কিন্তু দুর্বাসার শাপে শকুন্তলার সেই আংটি হারিয়ে যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শকুন্তলা দুষ্মন্তের রাজদরবারে পৌঁছালে উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে প্রত্যাখ্যাত হন। কিন্তু পরে শকুন্তলার স্মারক হিসেবে দেওয়া আংটি জেলের কাছে দেখে তিনি আত্ম গ্লানিতে বিহ্বল হয়ে পড়েন।
3. “তোর জীবিকা বেশ পবিত্র বলতে হয় দেখছি”-বক্তা কাকে উদ্দেশ্য করে উক্তিটি করেছেন? কথাটি শুনে উদ্দেশ্য ব্যক্তির কেমন প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?
শত্রুাবতারে বসবাসকারী দরিদ্র ধীবরের উদ্দেশে রাজা দুষ্মন্তের শ্যালক উক্তিটি করেছিলেন।
ধীবরের প্রতিক্রিয়া : ধীবর রুই মাছের পেট থেকে রাজার নামাঙ্কিত মণিমুক্তাখচিত আংটিটি পেয়ে, তা বিক্রয় করতে গিয়ে রাজরক্ষীদের হাতে ধরা পড়ে। রাজরক্ষীরা তাকে চোর বলে সন্দেহ করে এবং রাজশ্যালক ধীবরের বৃত্তি নিয়ে বিদ্রূপাত্মক উক্তি করেন। রাজশ্যালকের কথার জবাবে ধীবর তাঁকে জানায় যে- “যে বৃত্তি নিয়ে যে মানুষ জন্মেছে, সেই বৃত্তি নিন্দনীয় (ঘৃণ্য) হলেও তা পরিত্যাগ করা উচিত নয়।” ধীবরের এমন উক্তিতে আপন বৃত্তির প্রতি নিষ্ঠা ও গর্বিত মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছে।
4. “ঘটনা ক্রমে সেই আংটি পেল এক ধীবর”- প্রসঙ্গ সহ ঘটনাটি বিবৃত করো।
মহাকবি কালিদাস রচিত ‘ধীবর-বৃত্তান্ত’ নাট্যাংশে শকুন্তলাকে দেওয়া রাজা দুষ্মন্তর আংটি হারিয়ে যাওয়া ও ধীবর কর্তৃক তা প্রাপ্তি প্রসঙ্গে উক্তিটি করা হয়েছে।
শকুন্তলা স্বামীগৃহের উদ্দেশে যাত্রা করলে, পথে শচীতীর্থে স্নান করে অঞ্জলি দেওয়ার সময় শকুন্তলার হাতের আংটিটি জলে পড়ে যায় এবং একটি রুই মাছ সেটি খেয়ে ফ্যালে। পরবর্তী সময়ে জনৈক ধীবরের জালে সেই মাছটি ধরা পড়ে। ধীবর সেই মাছটি ২ বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে যখন মাছটিকে কাটে, তখন মাছের পেটে উক্ত আংটিটি দেখতে পায়। এইভাবেই ধীবর রাজার নামাঙ্কিত আংটিটি পেয়েছিল।
5. “এখন থেকে তুমি আমার একজন বিশিষ্ট প্রিয় বন্ধু হলে”- কে কেন এমন উক্তি করেছেন?
উদ্ধৃত অংশটির বক্তা হলেন ধীবর-বৃত্তান্ত নাটকের অন্যতম চরিত্র রাজশ্যালক।
নগর রক্ষায় নিযুক্ত রাজশ্যালককে আমরা নাটকের প্রথম দিকে দেখেছি দাম্ভিক রূপে। তিনি রক্ষীদের সঙ্গে ধীবরকে বিদ্রুপ করেছেন। ধীবরের পেশাকে ঘৃণা করেছেন। তবে তাকে আবার আমরা দায়িত্বশীল রাজ কর্মচারী হিসেবেও দেখেছি। ধীবরকে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়েছেন, প্রকৃত বিচার যাতে ধীবর পায় তার ব্যবস্থা করেছেন। রাজার বিচারে নির্দোষ প্রমাণিত ধীবরকে প্রাপ্ত পারিতোষিক এর অর্ধেক রক্ষীদের দান করতে দেখে শ্যালকের মনে ধীবর সম্পর্কে গড়ে ওঠা ইতিবাচক ধারণার থেকেই শ্যালকের এমন উক্তি।
আরো পড়ুন : নবম শ্রেণি বাংলা প্রশ্ন উত্তর